Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ৭, ২০২৬

বকেয়া ডিএ, শীর্ষ আদালতে সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন রাজ্যের । ১৩ মার্চ বন্‌ধের হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মচারীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বকেয়া ডিএ, শীর্ষ আদালতে সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন রাজ্যের । ১৩ মার্চ বন্‌ধের হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মচারীদের

সুপ্রিম কোর্টে আবারও বকেয়া ডিএ দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ পরিশোধের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ কর্মচারীদের দিতে হবে। আদালত জানিয়েছিল, মোট বকেয়ার ২৫ শতাংশ অর্থপ্রদানের প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে দিতে হবে। বাকি অর্থ কবে এবং কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রার নেতৃত্বে গঠিত মনিটরিং কমিটি। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের বক্তব্য, ৩ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি কর্মচারীর তথ্য যাচাই করতে হবে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত তথ্য ডিজিটাল নয়; হাতে লেখা সার্ভিস বুক থেকে তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাইজ করতে সময় লাগছে। ২০১৬-২০১৯ সালের তথ্য কিছুটা হলেও আইএফএমএস-এ আছে। কিন্তু ২০০৮-২০১৫ সালের তথ্যের জন্য আলাদা অনলাইন পোর্টাল তৈরি করতে হবে, যেখানে কর্মচারীরা নিজস্ব তথ্য আপলোড ও যাচাই করবেন।

ভোটের মুখে অর্থনৈতিক চাপও রাজ্য সরকারের কাছে বড়ো মাথাব্যথা। বকেয়া ডিএ পরিশোধের খরচ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে অনুমান। রাজ্যের আর্থিক সীমাবদ্ধতা, ঋণ নীতি, এফআরবিএম আইনের বাধ্যবাধকতা এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ব্যয়ও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে প্রায় ৬,৫০০ ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার দায়িত্বে থাকলেও, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের তথ্য সংশ্লেষ করার জন্য ট্রেজারি, অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল এবং ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমন্বয়ও জটিল। এ সমস্ত কারণ দেখিয়ে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে অনুরোধ করেছে, বকেয়া ডিএ এবং প্রথম কিস্তি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পরিশোধের অনুমতি দেওয়া হোক। তবে পরিস্থিতি অনুকূল হলে আগে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে, রাজ্য সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতিও নিচ্ছে।

তৃণমূল সরকারের আবেদনের পর সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো ক্ষুব্ধ। ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে সরকারি অফিস অচল করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা দেশের সুপ্রিম কোর্ট থেকে অর্জিত অধিকার রক্ষা করতে জানি। যদি সরকার আমাদের অধিকার হরণ করতে চায়, আমরা প্রতিরোধ জানাতে প্রস্তুত।’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, রাজ্য সরকারের আবেদনে প্রায় ৪.৫ লক্ষ শিক্ষক- শিক্ষাকর্মীকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির স্বপন মণ্ডল বলেছেন, ‘এটি ন্যায্য নয়। ১৩ মার্চ ধর্মঘটের মাধ্যমে আমরা আমাদের অধিকার রক্ষা করব।’ একই সুরে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের হুঁশিয়ারি, ‘সরকারকে দেখাতে হবে, আমাদের অধিকার সহজে হরণ করা যাবে না। ওই দিন রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা নিজেদের শক্তি উপস্থাপন করবেন।’ এই মুহূর্তে রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্তেরা এখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে। আদালত কী নির্দেশ দেবেন, তা ঘিরে উত্তেজনা আর উদ্বেগ দুই-ই জোরালো।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!