- এই মুহূর্তে দে । শ
- মার্চ ১৩, ২০২৬
“সংবিধান বাঁচান”, রবি সাক্ষাতে আর্জি বিরোধী দলনেতার
রাজ্যে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবি তুলে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সকালে তিনি লোকভবনে পূর্বতন রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাৎ শেষে বাইরে এসে শুভেন্দু জানান, তিনি রাজ্যে সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার আর্জি জানাতে রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিলেন।
শুভেন্দুর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-কে ‘অপমান’ করার ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে-র বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে তিনি রাজ্যপালের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন বলেও জানান।
লোকভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মহোদয়ার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা নিয়ে দেশের সকলেই উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল মানা হয়নি—এই বিষয়টিও আমি রাজ্যপালকে জানিয়েছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে গণতন্ত্রের চারটি স্তম্ভই ভেঙে পড়েছে এবং সেই পরিস্থিতির কথাও নতুন রাজ্যপালকে অবহিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়ির বিধাননগরে তাঁর অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও পরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করে বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। পরে তিনি নিজেই বিধাননগরে পৌঁছে যান এবং সেখান থেকে রাজ্য প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রপতির ‘অপমান’ করার অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতারা। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্বও এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বৃহস্পতিবারই পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকভবন সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য শুভেন্দু অধিকারীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যদিও তিনি সেখানে যাননি।
তবে শপথের পরদিনই লোকভবনে গিয়ে নতুন রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে নিজের অভিযোগ ও দাবি তাঁর সামনে তুলে ধরেন।
❤ Support Us







