Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ১, ২০২৫

নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ খারিজ, ‘ভুয়ো ভোটার’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ খারিজ, ‘ভুয়ো ভোটার’ নিয়ে প্রতিক্রিয়া রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভোটার তালিকা সংযোজন আইনের বিধিনিষেধ মেনেই করা হয়। মমতা ব্যানার্জি রাজ্যের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য, ‘ভূতুড়ে ভোটার’ তত্ত্ব হাজির করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিবৃতিতয়ে নির্বাচন কমিশনার লিখেছেন, ‘জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ অনুযায়ী, ভোটারদের নিবন্ধন বিধি ১৯৬০ এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ম্যানুয়াল অনুসারে বিএলও, এইআরও, ইআরও এবং সিইও-রা যে কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা নিযুক্ত বুথ স্তরের এজেন্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য কাজ করেন। কোনও নির্দিষ্ট দাবি বা আপত্তি থাকলে পশ্চিমবঙ্গে ৮০,৬৩৩ জন বিএলও,৩,০৪৯ জন এইআরও,২৯৪ জন ইআরও-র মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সর্ব প্রথম জানাতে হবে।’ রাজ্যকে ঘুরিয়ে বার্তা দিয়ে কমিশনের যুক্তি, কার্ড দেওয়ার পদ্ধতিতে বিএলওরাও থাকেন। ভুয়ো ভোটারের ক্ষেত্রে তা হলে তাদের নজর এড়িয়ে কী ভাবে হচ্ছে? আরো বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা তৈরির প্রতিটি ধাপে রাজনৈতিক দলগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো পদক্ষেপ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের আপত্তি থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে শোনা হয়। নাম যোগ করা বা মুছে ফেলার প্রতিটি ঘটনা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা যাচাই করেন। মহারাষ্ট্র ও দিল্লির নির্বাচনের পর ‘ভুয়ো ভোটার’-এর অভিযোগ সামনে আসে। মহারাষ্ট্রে ৪৮ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হবার বিষয়টি নিয়ে বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছিল কংগ্রেস।

গত বৃহস্পতিবার, মমতা ব্যানার্জী বাংলাতেও বিজেপি ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি করছে এ অভিযোগ আনেন। মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে কথিত নির্বাচনী কারচুপির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তিনি দাবি করেছিলেন, ‘বিজেপি অন্যান্য রাজ্যে এই কৌশল প্রয়োগ করেছে, এখন পশ্চিমবঙ্গেও একই কাজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তাঁদের স্বপ্ন সত্যি হবে না।’ তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনারের অফিসে বসে, অনলাইনে একটি জাল ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় ‘জাল ভোটার’ যোগ করা হয়েছে। এই কৌশল ব্যবহার করে, তাঁরা দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রে নির্বাচন জিতেছে। মহারাষ্ট্রের বিরোধীরা এই তথ্যগুলি খুঁজে বের করতে পারেনি। বেশিরভাগ জাল ভোটার হরিয়ানা এবং গুজরাটের। বিজেপি ইলেকশন কমিশনের আশীর্বাদে ভোটার তালিকার কারসাজি করছে। তবে বাংলার তা চলবে না।’ একইসঙ্গে বাংলার জনগণকে ভোটার তালিকায় তাদের নাম যাচাই করার আহ্বান জানিইয়েছেন।

তিনি সতর্ক করেছেন, ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এর অজুহাতে বৈধ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতয়ে পারে। তাঁর মতে, এনআরসি এবং সিএএ-র নামে আসল ভোটারদের নাম যে কোনো দিন মুছে ফেলা হতে পারে। এর দুটো উদ্দেশ্য রয়েছে, এক তৃণমূলকে নির্বাচনে পরাজিত করা, দুই মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া। নির্বাচন কমিশনের মদতেই এসব হচ্ছে। ‘ কথিত ভোটার তালিকার কারসাজি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী আইটি মিডিয়া সেল, পঞ্চায়েত প্রধান, কাউন্সিলরদের নিয়ে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষণের একটি কমিটি গঠন করেছেন। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় তৃণমূলের তরফে দলীয় নেত্রীর নির্দেশ মেনে ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা ভবানীপুরে আচমকা অভিযানে নেমেছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!