- দে । শ
- মে ২৭, ২০২২
আচার্য মুখ্যমন্ত্রী! স্বাগত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত!
প্রধানমন্ত্রী যদি, সুদূর দিল্লিতে অবস্থান করে, দেশ বিদেশের নানা কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থেকেও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রশাসিত অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আচার্য বা আনুষ্ঠানিক প্রধান হতে পারেন, তাহলে রাজ্য শাসিত বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে মুখ্যমন্ত্রীর আচার্য হতে বাধা কোথায়? এরকম তৎপরতার আওয়াজ পেলেই আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত, তর্কপ্রবণ মানসিকতা কেন প্রশ্ন তুলতে থাকে? ‘একেলে’ আর সেকেলে চিন্তার সংযোগ কি ঘটবে না? গুরুত্ব পাবে না একালের প্রয়োজনের অপরিহার্য আয়োজন? মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত, মুখ্যমন্ত্রী যে কোনও রাজ্য- বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হবেন। বিধানসভায় এ বিষয়ে বিল আসছে। আশা করি বিলটি আইনে রূপান্তরিত হবে। কেউ কেউ মুখ ভার করবেন, নিজের কর্তৃত্ব হারানোর আশঙ্কায় কোলাহলকে আস্কারা দেবেন। এতে যায় আসে না। প্রস্তাবিত বিলটি আইনের আকার নিলে নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধি এবং ব্যবহারিক নীতির প্রত্যক্ষ প্রয়োগে ছাত্র শিক্ষকদের কল্যানের মুখ যে আরও বিস্তৃত হবে, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। শিক্ষামন্ত্রী ও উপাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্ম দেখবেন।
বিশেষ কোনও সঙ্কট দেখা দিলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবেন—বিলের বিষয় আশয়ে এরকম পরিসর তৈরি হলে উচ্চশিক্ষার শীর্ষ প্রাঙ্গনই আখেরে উপকৃত হবে। ইতিমধ্যে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বাড়তি হস্তক্ষেপের শঙ্কা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে । আমরা, বিষয়টিকে বৌদ্ধিক চর্চার বাইরে দাঁড়িয়ে, তার ব্যবহারিক প্রাসঙ্গিকতাকে মান্যতা দিতে চাইছি। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলির সঙ্গে আচার্যের দূরত্ব প্রায়ই সমস্যা তৈরি করে । সম্প্রতি ওসমানিয়া, জামিয়া, জেএনইউ, বিশেষ করে বিশ্বভারতীয় মতো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্কটের মুহূর্তে আচার্য প্রধানমন্ত্রীর উদাসীনতা, মৌনতা বিস্মিত করে দেয়। বিশ্বভারতীর সঙ্কট মেটেনি। উপাচার্য কেন্দ্রের প্রতিনিধি। তাঁর মনোভাব কি প্রতিনিধিত্বমূলক? রবীন্দ্রানুসারী? এসব প্রশ্ন উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বরং বাড়তি জিজ্ঞাসা উঠে আসে, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক আচার্য প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব কী? এসব বিশ্ববিদ্যালয় আচার্যের আপাত নিরীহ, নিস্পৃহ ভূমিকায় কি অসন্তোষ চওড়া হচ্ছে না? অসন্তোষকে হঠাতে প্রধানমন্ত্রীর বদলে বিভিন্ন রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসক কিংবা পুরোপুরি রাজনীতি রহিত শিক্ষাবেত্তাদের আচার্যের আসনে বসানো যায় না? চিন্তা বদলাচ্ছে । রং বদলাচ্ছে । নতুন নতুন জিজ্ঞাসার উদ্রেক হচ্ছে । এরকম অবস্থায় শিক্ষার সব প্রাঙ্গনে নবীন চিন্তার, নবীন বিদ্যাশীলের, নবীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রবেশকে অপরিহার্য করে তোলা জুরুরি। এদিক থেকে বাংলার মন্ত্রিসভার আচার্য বিষয়ক সিদ্ধান্তটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর সঙ্কেতবাহী।
❤ Support Us






