- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- অক্টোবর ২১, ২০২২
পশ্চিমবঙ্গ–বাংলাদেশ উপকূলে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, লাল সতর্কতা জারি
উত্তর আন্দামান সাগর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। সেই নিম্নচাপ দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপাগরে আরও শক্তিশালী হয়ে রবিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। সেই গভীর নিম্নচাপ থেকে সোমবার ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। এই গভীর নিম্নচাপের অভিমুখ পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দিকে হতে পারে বলে জানা গেছে। ২ দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই কারণে আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে ২৩ অক্টোবর নাগাদ নিম্নচাপটি পূর্ব–মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ–পূর্ব বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। এরপর বাঁক নিয়ে পশ্চিম–মধ্য এবং সংলগ্ন পূর্ব–মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপরে ২৪ অক্টোবর নাগাদ ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর তা উত্তর এবং উত্তর–পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ওড়িশার উপকূল ছুঁয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলের দিকে পৌঁছবে। এর প্রভাবে সোমবার ও মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে পারে।
পশ্চিম–মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পূর্ব–মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। তাই মৎসজীবীদের জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৎসজীবীদের ২৩ অক্টোবর থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যারা আগেই গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেছেন, তাঁদেরকে ২২ অক্টোবর রাতের মধ্যে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ অক্টোবর উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। যার বেগ হতে পারে ঘন্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিমি। পরের দিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ের বেগ আরও বাড়বে। যা পৌঁছতে পারে ঘন্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিমিতে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং সুন্দরবনের নিচু এলাকা থেকে লোকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, এসপি এবং জরুরি বিভাগের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ত্রিপল, শুকনো খাবার এবং ওষুধও পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত করা হয়েছে। জরুরী পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কলকাতা পুলিশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলকে কলকাতা পৌর সংস্থার আধিকারিকদের সাথে একযোগে কাজ করতে বলা হয়েছে।
❤ Support Us






