Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ৩১, ২০২৩

জাতীয় শিক্ষানীতিতে আংশিক সায় মমতার। চলতি বছর থেকেই রাজ্যে শুরু চার বছরের স্নাতক পাঠক্রম

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জাতীয় শিক্ষানীতিতে আংশিক সায় মমতার। চলতি বছর থেকেই রাজ্যে শুরু চার বছরের স্নাতক পাঠক্রম

অবশেষে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের আনা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ মেনে নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ২০২৩-‘২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যে চালু হয়ে যাচ্ছে স্নাতকস্তরে ৪ বছরের অনার্স কোর্স। রাজ্য সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির ভালোমন্দ পর্যালোচনা করার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাসকে প্রধান করে একটি কমিটি করেছিল। সেই কমিটি অবশেষে রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রনয়ণের সুপারিশ করল। রাজ্য শিক্ষা দফতর সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।

দেশে ৩৪ বছর পর জাতীয় শিক্ষানীতি পরিবর্তন হল। ২০২০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতিতে বদল আনে নটেন্দ্র মোদি সরকার। প্রথম থেকেই যার বিরোধিতা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার। এবার সেই শিক্ষানীতির একটা অংশ মেনে নিল সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য সরকার।

বুধবার রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে রেজিস্ট্রারদের চিঠি দিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার কথা জানিয়ে দোওয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন যে সার্কুলার পাঠিয়েছে, সেই বিধি বিবেচনা করতে হবে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে। নতুন যে শিক্ষা পদ্ধতি চালু হচ্ছে তা এবার কার্যকর করতে হবে রাজ্যকে।

নতুন শিক্ষানীতিতে আছে ৩ বছরের স্নাতক কোর্স পরিবর্তিত হয়ে হবে ৪ বছরের কোর্সে। যেখানে ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর স্নাতকোত্তর কোর্সে কোনও পরীক্ষার্থী না পেলেও সে সরাসরি পিএইচডি কোর্সে প্রবেশ করতে পারবে।

যে সমস্ত পরিবর্তন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ তে রয়েছে এক ঝলকে তা দেখে নেওয়া যাক:-

* ইউজিসি, এআইসিটিই- র মতো উচ্চশিক্ষার নিয়ামক সংস্থা তুলে একটিমাত্র নিয়ামক সংস্থা এডুকেশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া বা এইচইসিআই থাকবে।

* স্নাতক স্তরের কোর্সের মেয়াদ হবে ৪ বছর। ৭৫ শতাংশ নম্বর না পেলেও করা যাবে পিএইচডি।

* স্নাতকোত্তর স্তরের কোর্সের মেয়াদ হবে ১ অথবা ২ বছর। পড়ুয়ার ইচ্ছে হলে ৪ বছর না পড়ে যে কোনও বছর শেষে পড়া ছাড়তে পারবে।

* পাঁচ বছর ইন্টিগ্রেটেড পদ্ধতিতেও স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করা যাবে।

* নতুন শিক্ষানীতিতে তুলে দেওয়া হয়েছে এম ফিল কোর্স।

* কলেজে স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর স্তরে প্রবেশিকা পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির হাতে।

* সব কলেজগুলিকে প্রশাসনিক সহ অর্থনৈতিক স্বশাসন দেওয়া হচ্ছে।

* একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান, কলা বিভাগের তফাৎ থাকবে না।

* কোনও পড়ুয়া ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লেও তার সঙ্গে সেই পড়ুয়া বাংলা, সঙ্গীতের মতো বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ থাকবে।

* নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ৮ টি সেমিস্টারের কথা বলা হয়েছে।

* পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত আঞ্চলিক ভাষায় গুরুত্ব ।

* প্রাক-প্রাথমিকে হবে প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণী নিয়ে। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শ্রেণীকে নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রাথমিক। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম শ্রেণী নিয়ে তৈরি হয়েছে উচ্চ প্রাথমিক।

* স্কুল শিক্ষায় ত্রি ভাষা নীতি চালু করা হবে। যেখানে আঞ্চলিক, ইংরেজি ভাষার সঙ্গে সংস্কৃতকেও রাখার উল্লেখ রয়েছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!