Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ৮, ২০২৩

ঢাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ১৭, আহত শতাধিক।ফেব্রুয়ারি থেকে পরপর তিন বিস্ফোরণের ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ঢাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ১৭, আহত শতাধিক।ফেব্রুয়ারি থেকে পরপর তিন বিস্ফোরণের ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় দু’সপ্তাহের মধ্যে পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার একটি সাততলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এপর্যন্ত অন্তত ১৭জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুজন মহিলা। এছাড়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত শতাধিক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

গতকালের বিস্ফোরণ ঘটার সময়ে আশেপাশের এলাকা কেঁপে উঠে যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। এরপর দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বতোভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন ২০০জন দমকল কর্মী।

বুধবারও চলেছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারের কাজ। এপর্যন্ত যে ১৭জনের মৃত্যু হয়েছে, এঁদের সকলেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে কীভাবে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল, তা এখনও জানা যায়নি। তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে নাশকতার কারণে  মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে কিনা।

এই ভয়াবহ ঘটনার দু’দিন আগে গত ৫ মার্চ ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় একটি বস্ত্র কারখানায় একই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাতেও বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গুলশান এলাকায় একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগায় দুই ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপ দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের দুটি পৃথক ঘটনায় এক দম্পতি-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কেন ধারাবাহিকভাবে এই ধরণের বিস্ফোরণের ঘটনাগুলি ঘটছে? এব্যাপারে দমকল বিভাগের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল মহম্মদ সাজ্জাদ বলেছেন, ঢাকা শহরের নিকাশি ব্যবস্থা, গ্যাসের এবং বিদ্যুতের সংযোগের ভূগর্ভস্থ লাইন পুরোপুরি অপরিকল্পিতভাবে বসানো হয়েছে। এই লাইনগুলি একে পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার ফলে ক্রমাগত দুর্ঘটনাগুলি ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভুমিকম্প হলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হবে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বছরের পর বছর ধরে এই বিপজ্জনক অবস্থা বহাল থাকলেও, এপর্যন্ত উদাসীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে অবস্থা মোকাবিলাতে কোনও ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। এখনই জরুরিভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। অন্যথায়, ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে।

এব্যাপারে জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক আখতের মাহমুদ বলেছেন, ওল্ড ঢাকায় বিপদ মুখিয়ে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলাতে প্রয়োজন ভূগর্ভস্থ লাইনগুলির উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ। অথচ সেই কাজ বছরের পর বছর ধরে অবহেলিত থেকে গিয়েছে।

ঢাকা শহরের একাংশের রাস্তাঘাট অত্যন্ত ঘিঞ্জি। যদি ভূগর্ভস্থ লাইনে ফাটল ধরে, সেক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ড এবং বিস্ফোরণের ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দেবে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

গত মঙ্গলবারের বিস্ফোরণ কেন ঘটল, এখনও সেসম্পর্ক্ নির্দিষ্টভাবে কিছুই জানা যায়নি। গ্যাসের পাইপলাইনে গোলযোগের ফলে এই ঘটনা ঘটেছে কিনা তা তদন্তসাপেক্ষ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!