- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫
ট্রাম্পের উপদেষ্টার ভারত-বিরোধী পোস্ট। কী পরামর্শ দিলেন মাস্ক ?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা পিটার নাভারোর ভারত-বিরোধী একটি পোস্টে এলন মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এর ফ্যাক্ট-চেকের সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, বিলিয়নিয়ার মাস্ক জবাব দেন যে, তাঁর কমিউনিটি নোটস “সবাইকে সংশোধন করে, এর কোনও ব্যতিক্রম নেই”। তবে মাস্ক সরাসরি নাভারোর নাম নেননি বা তাঁকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি।
মাস্ক তাঁর X-এ এক পোস্টে লেখেন, “এই প্ল্যাটফর্মে, মানুষই বিবৃতি ঠিক করে। আপনারা সব দিকের বক্তব্য শুনতেভ পান। কমিউনিটি নোটস সবাইকে সংশোধন করে, এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। নোট, তথ্য ও কোড পাবলিক সোর্স সর্বত্রই এটা হয়। গ্রোক অতিরিক্ত ফ্যাক্ট-চেকিং-এর কাজ করে।”
On this platform, the people decide the narrative.
You hear all sides of an argument.
Community Notes corrects everyone, no exceptions. Notes data & code is public source.
Grok provides further fact-checking.
— Elon Musk (@elonmusk) September 7, 2025
নাভারো, ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য বার বার আক্রমণাত্মক সমালোচনা করে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি আবারও একটি ভারত-বিরোধী পোস্ট করেন, যেখানে তিনি নয়াদিল্লিকে রুশ তেল আমদানির মাধ্যমে “মুনাফা অর্জনের” অভিযোগ তোলেন। তবে এবার, তাঁর পোস্টে X-এর পক্ষ থেকে ফ্যাক্ট-চেক করা হয় এবং তাঁর দাবিগুলোকে “বৈপরীত্যপূর্ণ” বলে উল্লেখ করা হয়।
নাভারো লেখেন: “ভারতের সর্বোচ্চ ট্যারিফ আমেরিকার চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। ভারত শুধুই লাভের জন্য রুশ তেল কিনছে/এই রাজস্ব রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে খরচ হচ্ছে। ইউক্রেনীয় এবং রাশিয়ানরা মরছে। মার্কিন করদাতারা খরচ বহন করছে। ভারত সত্য মেনে নিতে পারে না/ঘুরিয়ে কথা বলে।”
X-এর ফ্যাক্ট-চেকিং নোট তাঁকে সংশোধন করে জানায়, ভারতের রুশ তেল কেনা “জ্বালানি নিরাপত্তার” জন্য এবং এটি “কোন\ও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে না”। “যদিও ভারতের কিছু ট্যারিফ রয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারতের সঙ্গে পরিষেবা খাতে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। আমেরিকাও এখনও কিছু রুশ পণ্য আমদানি করছে, যা বৈপরীত্যপূর্ণ।”
X -এর আরেকটি নোটে যোগ করা হয়, “নাভারোর দাবিগুলো বৈপরীত্যপূর্ণ। ভারতের আইনসম্মত, সার্বভৌম তেল ক্রয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে না।”
X আরও উল্লেখ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে তেল ব্যবসা নিয়ে চাপ দিলেও, নিজেরাই রাশিয়া থেকে বিলিয়ন ডলারের পণ্য যেমন ইউরেনিয়াম আমদানি করে যাচ্ছে — যা একটি স্পষ্ট দ্বৈত নীতি দেখায়।
নাভারো এরপর সেই ফ্যাক্ট-চেকগুলোর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটা “একটা বাজে নোট”। তিনি মাস্ককে তীব্রভাবে আক্রমণ করে বলেন, তিনি মানুষের পোস্টে “প্রচার চালাতে দিচ্ছেন”।
Wow. @elonmusk is letting propaganda into people’s posts. That crap note below is just that. Crap. India buys Russia oil solely to profiteer. It didn’t buy any before Russia invaded Ukraine. Indian govt spin machine moving high tilt. Stop killing Ukranians. Stop taking… https://t.co/Uj1NMUrVOM
— Peter Navarro (@RealPNavarro) September 6, 2025
তিনি লেখেন, “বাহ! @elonmusk মানুষের পোস্টে প্রচার চালাতে দিচ্ছেন। নিচের ওই বাজে নোট আসলে বাজেই। বাজে কথা। ভারত শুধুমাত্র মুনাফার জন্য রুশ তেল কিনছে। ইউক্রেন আক্রমণের আগে একটাও কেনেনি। ভারত সরকারের প্রোপাগান্ডা মেশিন পুরো স্পিডে চলছে। ইউক্রেনীয়দের মেরে ফেলো না। আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিও না,।”
X-এর ফ্যাক্ট-চেকিং নোট আবারও জানান, ভারতের রুশ তেল ক্রয় “জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য” এবং এটি “নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে না”। “যদিও ভারতের কিছু ট্যারিফ রয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিষেবা খাতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও কিছু রুশ পণ্য আমদানি চালিয়ে যাচ্ছে, যা দ্বৈত নীতির পরিচয় দেয়।”
আরেকটি নোটে আবারও যোগ করা হয়: “নাভারোর দাবিগুলো বৈপরীত্যপূর্ণ। ভারতের আইনসম্মত, সার্বভৌম তেল ক্রয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে না।”
X আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ভারতের উপর তেল কেনার জন্য চাপ দিচ্ছে, সেখানে নিজেরাই এখনও রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের মতো পণ্য বিলিয়ন ডলারে আমদানি করছে — যা একটি স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড প্রকাশ করে।
নাভারো এরপর আবার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটি একটি “বাজে নোট” এবং মাস্ককে দোষারোপ করেন যে, তিনি “মানুষের পোস্টে প্রোপাগান্ডা ঢুকতে দিচ্ছেন”।
তিনি লেখেন, “বাহ। @elonmusk মানুষের পোস্টে প্রোপাগান্ডা ঢুকতে দিচ্ছেন। নিচের ওই বাজে নোট আসলে বাজেই। বাজে কথা। ভারত শুধুমাত্র মুনাফার জন্য রুশ তেল কিনছে। ইউক্রেন আক্রমণের আগে একটাও কেনেনি। ভারত সরকারের স্পিন মেশিন পুরো গতিতে চলছে। ইউক্রেনীয়দের মেরে ফেলো না। আমেরিকানদের চাকরি নিও না।”
ভারতের উপর নাভারোর আক্রমণ :
নাভারো একটানা ভারতকে আক্রমণ করে চলেছেন, বিশেষ করে ট্রাম্প যখন রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর সেকেন্ডারি ট্যারিফ আরোপ করেন। ভারতের রপ্তানির উপর মার্কিন শুল্ক বর্তমানে ৫০ শতাংশের উপরে — ট্রাম্পের সাম্প্রতিক তালিকা অনুযায়ী এটি (ব্রাজিল ছাড়া) সবচেয়ে বেশি।
ভারতের উপর এই দণ্ডমূলক ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাভারো রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘর্ষকে আখ্যা দেন “মোদির যুদ্ধ” হিসেবে এবং দাবি করেন যে, ভারতের রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখার কারণেই মস্কোর সামরিক আগ্রাসন আরও তীব্র হচ্ছে। পরে, তিনি ভারতের উপর অভিযোগ তোলেন যে, দেশটি রাশিয়া থেকে তেল কিনে “মুনাফার ষড়যন্ত্র” চালাচ্ছে এবং ভারতকে আখ্যা দেন “ক্রেমলিনের লন্ড্রি” হিসেবে।
এছাড়াও, ভারতকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি একটি জাতিগত (বর্ণবাদী) মন্তব্যও করেন।
ভারত-মার্কিন সম্পর্ক :
ভারতের আমদানির উপর ট্রাম্পের অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়, যার ফলে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এই অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক দীর্ঘদিনের মিত্র ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও খারাপ করে তোলে। এই শুল্ক-সংকটের মাঝেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনে যোগ দেন এবং সেখানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রদর্শন করেন — যা তাদের নিজ নিজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যেও ঐক্য প্রকাশ করে।
এর কয়েকদিন পর, ট্রাম্প দাবি করেন যে “আমরা ভারতকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি”। যদিও পরে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, তিনি “আসলে তা বিশ্বাস করেন না”। তিনি ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে আখ্যা দেন “একটি বিশেষ সম্পর্ক” হিসেবে এবং জানান যে, তিনি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি “সবসময় বন্ধু থাকবেন”।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, তিনি ট্রাম্পের এই মনোভাবকে “পূর্ণ সমর্থন করেন” — যা ইঙ্গিত করে যে, দুই দেশই তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
❤ Support Us







