- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৬, ২০২৫
জম্মু-কাশ্মীরের ডোডায় মেঘভাঙা বৃষ্টি, হড়পা বানে ভেসে গেল ঘরবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। নিহত ৪, নিখোঁজ বহু
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে জম্মু-কাশ্মীরের দুর্যোগে নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে পড়ল ডোডা জেলা। মঙ্গলবার দুপুরে মেঘভাঙা বৃষ্টির আঘাতে হঠাৎ প্রবল হড়পা বান নামে এলাকাজুড়ে, মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটিকে ডুবে যায় বন্যার জলে। ভেসে যায় একের পর এক বাড়ি। প্রাথমিকভাবে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবারের ভয়াবহ দুর্যোগের আগে, জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া, সাম্বা, ডোডা, রামবান ও কিশ্তওয়াড়সহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। মেঘভাঙা বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই ডোডা এলাকায় প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়, যা পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলেছে। ডোডার পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের অন্যান্য অংশেও পরিস্থিতি গম্ভীর। তাওয়ি নদীর জলস্তর বিপদসীমার মাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, আর রবি নদী কাঠুয়া জেলায় উপচে পড়েছে। বেশ কয়েকটি নদী ও খালের জলসীমা ইতিমধ্যেই বিপদসীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। এনএইচ-২৪৪ সড়কের ডোডা ও কিশ্তওয়ার সংযোগকারী অংশটি ধসে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ। ভূমিধস ও পাথর পড়ার ভয়ে উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। রামবান জেলার অংশে পাথর পড়ার ফলে শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়কেও যান চলাচল থমকে গেছে। তাছাড়া, জোজিলা পাসে ভারী তুষারপাতের কারণে শ্রীনগর-লেহ সড়কও থমকে রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন এবং উদ্ধারকারী দল সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছেন। বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জম্মু বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুল বন্ধ রাখবার ঘোষণা করেছে প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন বার্তা দিয়েছে, সবাই যেন নদী-নালার ধারে না যায় এবং সতর্ক থাকে। সহায়তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন হেল্পলাইন নাম্বার চালু করেছে। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, ‘জম্মু প্রদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। আমি শীঘ্রই শ্রীনগর থেকে জম্মু যাচ্ছি, নিজে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। জরুরি তহবিল বরাদ্দসহ দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই কাঠুয়া, কিশ্তওয়াড়ে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সে দুর্ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ফের একই ধরনের বিপর্যয় ডোডায় আঘাত হেনেছে। কিশ্তওয়াড়ের মচৈল মাতা মন্দির এলাকার নিকটে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যায় বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত জম্মু জেলার বিভিন্ন উচ্চভূমি এলাকায় মেঘভাঙা, হড়পাবান ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। জম্মুতে গত কয়েকদিন ধরে রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। জম্মু শহরে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৯০.৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগস্ট মাসের জন্য শতবর্ষের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ১৯২৬ সালের ৫ আগস্ট ২২৮.৬ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল। অন্যদিকে, এদিন কাশ্মীর উপত্যকায় দক্ষিণাঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। যদিও সেখানে ঝিলম নদীর জন্য বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবে নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে।
❤ Support Us








