- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- মার্চ ১২, ২০২৬
‘স্বাস্থ্যসাথী’-র সুবিধা পাবেন টলিপাড়ার ৭ হাজার টেকনিশিয়ান। দেবের উদ্যোগে সাড়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
টলিপাড়ার ক্যামেরার নেপথ্যে থাকা হাজার হাজার কর্মীর জন্য স্বস্তির খবর। অভিনেতা-সাংসদ দেব-এর উদ্যোগে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প’-র আওতায় আসতে চলেছেন বাংলা সিনেদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৭ হাজার টেকনিশিয়ান। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা দেবের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার এ পদক্ষেপ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নিজেই সেই সুখবর জানিয়েছেন দেব। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ৭ হাজারেরও বেশি পরিশ্রমী টেকনিশিয়ানের কল্যাণে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের জন্য আমার অনুরোধটি গ্রহণ করেছেন। এটি জানাতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।’ দেব আরও জানিয়েছেন, উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ১৭ মার্চ টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ানস স্টুডিও প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ নিবন্ধন শিবির বসবে। সেখানে উপস্থিত হয়ে যোগ্য টেকনিশিয়ানরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
সিনেমা হলের আলো ঝলমলে পর্দার সামনে যেমন আকর্ষনীয় রূপে শিল্পীকে দেখা যায়, তার পিছনে ঠিক ততটাই শ্রম আর নিষ্ঠা লুকিয়ে থাকে। লাইট, ক্যামেরা, সেট, শব্দ, মেকআপ থেকে শুরু করে সম্পাদনা— অসংখ্য ক্ষেত্রের হাজার হাজার টেকনিশিয়ানের পরিশ্রমেই তৈরি হয় বড়ো পর্দার জাদু। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন টলিপাড়ার এই কর্মীদের বেশিরভাগ অংশ। অবশেষে সে উদ্বেগ কিছুটা হলেও দূর হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, পূর্ব ভারতের সিনেমা টেকনিশিয়ান ও কর্মীদের সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান অ্যান্ড ওয়াকার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-এর অধীনে কর্মরত ৭ হাজারেরও বেশি টেকনিশিয়ান এতদিন রাজ্য সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকার একটি চিকিৎসা বিমার সুবিধা পেতেন। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে আচমকাই সে সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বহু টেকনিশিয়ান ও তাঁদের পরিবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েন। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান স্টুডিওপাড়ার বহু কর্মী।
এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন টেকনিশিয়ানদের একাংশ অভিনেতা-সাংসদ দেবের দ্বারস্থ হন। তাঁদের সমস্যার কথা শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন তিনি। তখনই সামনে আসে আরও একটি সমস্যা, এই টেকনিশিয়ানদের অনেকেরই আবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কার্ডও নেই। অর্থাৎ রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতাতেও তাঁরা ছিলেন না। ফলে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো বিপদের মুখে পড়লে তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেই গত ৭ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি লেখেন দেব। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, টলিপাড়ার এই বিপুল সংখ্যক কর্মী দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারের চিকিৎসা বিমা সুবিধার আওতায় ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ওই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ানস স্টুডিও প্রাঙ্গণে একটি বিশেষ শিবিরের আয়োজন করে যোগ্য টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেন সাংসদ।
মুখ্যমন্ত্রীর তরফে দ্রুত ইতিবাচক সাড়া মেলে সে আবেদনে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের নেপথ্য কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারেই দেখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সম্মতির পরেই নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়। টলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা চলছে— বাংলা ছবির ব্যবসা কমে যাওয়া, একের পর এক সিনেমা হল্ বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিল্পের অভ্যন্তরীণ অশান্তি ইত্যাদি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইন্ডাস্ট্রিতে। সে প্রেক্ষাপটে টেকনিশিয়ানদের জন্য এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে স্বস্তির বার্তা হিসেবেই দেখছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরেই স্টুডিওপাড়ায় দাবি, ক্যামেরার সামনে থাকা শিল্পীদের মতো পর্দার আড়ালের কর্মীদের জন্যও স্থায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা থাকা জরুরি। লাইট, ক্যামেরা, সেট নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত নানা কাজে যুক্ত হাজার হাজার কর্মীর পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে একটি চলচ্চিত্র। তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা শিল্পের সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
❤ Support Us








