Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • এপ্রিল ২২, ২০২৬

শিল্পসত্তার প্রশংসা, চিত্রী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শিল্পসত্তার প্রশংসা, চিত্রী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি

রাজনীতির আঙিনায় প্রায়শই ঢুকে পড়ে শিল্পের আলোকরেখা। কখনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রয়াস, কখনো বা বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গ। গত ১৪ মার্চ, ব্রিগেড র‍্যালিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতি উপহার দেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।  শিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় একেছিলেন ছবিটি। জনসমাগমের কলরব পেরিয়ে, একান্ত সময়ে সে ক্যানভাস দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার ব্যক্তির মন ও মননে ছাপ ফেলেছে। আর তারই পরিণতিতে শিল্পীর ঠিকানায় এসেছে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিঠি। শিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে তাঁর শিল্পদৃষ্টি ও সৃষ্টির প্রতি নিবেদনকে উচ্চ প্রশংসায় ভূষিত করেছেন নরেন্দ্র মোদি।

ব্রিগেড সমাবেশে, মোদি-শমীকের হাতে বঙ্কিমের ছবিটি নজর কেড়েছিল অনেকের। জনসভা তখন উত্তাল, রাজনৈতিক ভাষণে মুখর। সে আবহেই শিল্পের নীরব উপস্থিতি যেন অন্য মাত্রা যোগ করে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ভট্টাচার্যের হাত ধরে সেই চিত্রকর্ম পৌঁছে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে, বাংলার বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আবহ এভাবেই ছড়িয়ে যায়, এমন মতই ছিল সংস্কৃতি দুনিয়ার একাংশের।  এর কয়েক দিনের মধ্যেই চিঠি এল।  সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় তাঁর ‘শিল্পীসত্তা’ ও ‘শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা’-র উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ভারতের সাংস্কৃতিক সত্তা নির্মাণে শিল্পচর্চার ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে। প্রশাসনিক ব্যস্ততার মধ্যেও একজন শিল্পীর কাজকে আলাদা করে চিহ্নিত করার বিষয়টি আবেগঘন করে তুলেছে শিল্পীকে। তিনি বলেছেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে, প্রধানমন্ত্রীকে নিজের আঁকা ছবি উপহার দিতে পারব। আমি এতটাই আনন্দিত যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকৃতি আঁকার ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছেন শিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর শিল্পভাষা মূলত প্রতিকৃতি নির্ভর হলেও, তা নিছক বাস্তবের অনুকরণ নয়। তাঁর ছবিতে ধরা পড়ে মুখাবয়বের অন্তর্লৌকিক স্তর— চোখের গভীরতা, অভিব্যক্তির সূক্ষ্ম পরিবর্তন, স্মৃতি ও সময়ের ছাপ। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হোক বা সাংস্কৃতিক আইকন, প্রতিটি মুখই তাঁর ক্যানভাস ইতিহাসের দলিল হয়ে ওঠে। শিল্পমহলের একাংশের মতে, সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়ের কাজে রয়েছে বাংলার নিজস্ব শিল্প-ঐতিহ্যের প্রতিধ্বনি। তাঁর ছবিতে ভারতীয় শাস্ত্রীয় প্রতিকৃতি ধারার প্রভাব যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে আধুনিকতাবাদী পরীক্ষানিরীক্ষার ছাপ। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুনরুজ্জীবনবাদী নন্দনতত্ত্ব থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্মের বিশ্বায়িত শিল্পভাষার প্রতিফলনও তাঁর কাজে লক্ষ্য করা যায়। আবার একই সঙ্গে তাঁর কাজের মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতির সহজগ্রাহ্যতা, যা বৃহত্তর দর্শকসমাজের সঙ্গে এক সরাসরি সংযোগ তৈরি করে।

সহকর্মী ও অনুগামীরা তাঁকে একাধারে কঠোর পরিশ্রমী ও সংযত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন। অনেক সমসাময়িক শিল্পীর মতো তিনি গ্যালারি-নির্ভর প্রচারে জোর দেননি; বরং কমিশনভিত্তিক কাজ, ছোট পরিসরের প্রদর্শনী এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি শুধু চূড়ান্ত চিত্রকর্মেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্কেচ, স্তরবিন্যাস, ব্রাশস্ট্রোকের প্রক্রিয়াও তিনি ভাগ করে নেন। প্রতিকৃতির বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে তিনি প্রায়ই এমন ব্যক্তিত্বদের বেছে নেন, যারা জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ। সে দিক থেকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিটি তাঁর বৃহত্তর শিল্পযাত্রারই অংশ।

তবে এই ঘটনাকে নিছক শিল্পের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। তাঁদের মতে, বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরে প্রবেশের একটি সূক্ষ্ম প্রচেষ্টাও এর মধ্যে নিহিত। ব্রিগেড ময়দান, যা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত ও উচ্চারণের প্রতীক, সেখানে বাংলার শিল্পীর কাজের উপস্থিতিকে পদ্মশিবিরের কৌশলগত বার্তা বলেই ব্যাখ্যা করছেন অনেকে। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!