- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১, ২০২৩
পড়ুয়াদের কথা ভেবেই রাজ্যে চার বছরের স্নাতক কোর্স, স্নাতকোত্তর নিয়েও নয়া ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনার মঞ্চে বললেন, “আমার কাছে কয়েকটা চিঠি এসেছে। আমি কাজ ফেলে রাখি না। যাদের সামর্থ নেই, যাদের টাকার অভাব আছে, আমি বলছি তাদের করো, লেখাপড়া থেমে থাকবে না।” পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এদিন বললেন, “আমি হয়তো আপনাদের কেউ নোই তবে আমি আপনাদের হিতাকাঙ্খী। আমি ছোটবেলায় পড়ার সময় যা পাইনি সেই ঘাটতি যাতে আপনাদের না থাকে তাই আমি আপনাদের সাইকেল, কন্যাশ্রী সহ বিভিন্ন সুবিধা দিই।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, সিবিএসই সোহো ইংরেজি মাধ্যমের দশম-দ্বাদশ এবং মাদ্রাসার সফল পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করেন।
কেন জাতীয় শিক্ষানীতি এই রাজ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে সেই বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী এদিন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি না মেনেও কেন রাজ্যে সাম্মানিক স্নাতক অর্থাৎ অনার্স গ্র্যাজুয়েট পাঠক্রমের মেয়াদ ৪ বছর করা হল। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কেন্দ্র থেকে একটা নতুন নিয়ম করেছে ইউজিসি। তবে এর একটা সুবিধাও আছে। অনার্স গ্র্যাজুয়েটরা এর পর যখন মাস্টার ডিগ্রি বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা করবে, তখন আর দু’বছর পড়তে হবে না। বদলে এক বছরেই মাস্টার ডিগ্রি পাবে তারা। তার মানে দাঁড়াল সেই একই। স্নাতক হয়ে স্নাতকোত্তর হতে সেই পাঁচ বছরই সময় লাগছে।” মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে আবারও বলেন, “যারা দ্বাদশ পাশ করেছে, তাদের বলছি, সরকার সাম্মানিক স্নাতক পাঠ্যক্রমের নতুন নীতি নিয়েছে। আগে তিন বছর লাগত সাম্মানিক স্নাতক হতে। যারা এরপর পাস কোর্সে পড়বে, তাদের তিন বছরই লাগবে। কিন্তু যারা সাম্মানিক স্নাতক হতে চায়, তাদের পাঠক্রমের মেয়াদ বেড়ে চার বছর হচ্ছে। এটা একটা সুবিধা।’’
প্রসঙ্গত বুধবারই নতুন শিক্ষানীতি সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা দফতর জানায়, ‘‘২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের সরকারি, সরকার পোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চার বছরের সাম্মানিক স্নাতক পাঠ্যক্রম চালু হয়ে যাবে।’’ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, ‘‘পড়ুয়াদের সুবিধার কথা ভেবেই সাম্মানিক স্নাতক স্তরে চার বছরের পাঠক্রম চালু করছে রাজ্য।’’ মুখ্যমন্ত্রীও এদিন উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জানিয়ে দিলেন সেই একই কথা। জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে নেওয়ার পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, ‘‘যদি এটা অন্যান্য রাজ্য করে এবং আমরা না করি, তবে আমাদের পড়ুয়ারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাবে। তাই আমাদের এটা করতে হয়েছে।’’ অর্থাৎ তিনি তাঁর কথায় বুঝিয়ে দিলেন, “পড়ুয়াদের স্বার্থেই তিনি কেন্দ্রের নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি রাজ্যে চালু করলেন।” তবে বাস্তবে, রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখক শিক্ষক-অধ্যাপক-ছাত্রের এই নয়া শিক্ষানীতি নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
❤ Support Us








