Advertisement
  • স | হ | জ | পা | ঠ
  • ডিসেম্বর ৯, ২০২৫

নিকোবর অরণ্যে নয়া খোঁজ, মিলল উলুফ সাপের সন্ধান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
নিকোবর অরণ্যে নয়া খোঁজ, মিলল উলুফ সাপের সন্ধান

ভারতের দক্ষিণে, দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি দিয়ে ঘেরা অরণ্য ও জীববৈচিত্র্যের মহাভূম গ্রেট নিকোবর দ্বীপ। আর সেখানেই পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য গবেষক দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের খবর মিলেছে। ঘন সবুজ বনাঞ্চলে, মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয় এমন একটি নতুন প্রজাতির উলফ সাপের সন্ধান মিলেছে। চকচকে কালো রঙের সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় এক মিটার। গবেষকরা এর নাম দিয়েছেন ‘লাইকোডন ইরউইনিবা ইরউইনের উলফ সাপ। বিশ্বখ্যাত প্রাকৃতিক পরিবেশবিদ ও সংরক্ষণকর্মী স্টিভ ইরউইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নামকরণ করা হয়েছে। স্টিভ ইরউইন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তিনি কুমির আর সরীসৃপদের সঙ্গে বড়ো হয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি দ্য ক্রোকোডাইল হান্টার  নামক টেলিভিশন অনুষ্ঠান চালু করে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ২০০৬ সালে একটি ডকুমেন্টারি শুটিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিকোবরে নতুন প্রজাতির সাপ আবিষ্কারের নেতৃত্ব দিয়েছেন পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আর.এস. নবীন এবং এস.আর. চন্দ্রমৌলি। সঙ্গে রয়েছেন ম্যাক্স প্লাঙ্ক জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের জীশান এ. মিরজা এবং পুনের গিরিশ চৌরে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছেসাপের শারীরিক গঠনস্কেলের বিন্যাস এবং জেনেটিক বিশ্লেষণ করে প্রজাতিটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত হয়েছে। আবিষ্কৃত সাপটির দেহ দীর্ঘপাতলা এবং এর লেজটি সরু। শরীরের উপরের অংশে চকচকে কালো রঙ দেখা যায়, যদিও নিচের অংশে বাদামী ছায়ার আভাও রয়েছে। ঘন সবুজ বন এবং আর্দ্র পরিবেশই এদের প্রিয় আবাসস্থল। এরা সাধারণত সরীসৃপউভচর প্রাণী এবং ছোট স্তন্যপায়ীদের শিকার করে। গবেষকরা জানিয়েছেনএখন পর্যন্ত এ প্রজাতির মাত্র চারটি সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতেঘন ও স্যাঁতসেঁতে বন এই সাপের প্রিয় আবাসস্থল হওয়ায় এতদিন এদের দেখা মেলেনি ।

তবে আশ্চর্যের বিষয়, গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘লাইকোডন ইরউইনি শুধুমাত্র গ্রেট নিকোবর দ্বীপে সীমাবদ্ধ।আর সে কারণেই, দ্বীপের সীমিত বিস্তার এবং পরিবেশগত চাপের কারণে আজ এ প্রজাতির অস্তিত্ব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা আই ইউ সি এন-এর রেড লিস্ট’-এ এই সাপকে হুমকিপূর্ণ বা এন্ডেঞ্জারড’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। পাশাপাশি তাঁদের আশঙ্কা, দ্বীপে অবকাঠামো সম্প্রসারণজমি ব্যবহারে পরিবর্তন এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প এই সাপের আবাসস্থলকে ধ্বংস বা ব্যাহত করতে পারে। তাই গবেষকরা তাৎক্ষণিক সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী জরিপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বায়োজিওগ্রাফিকভাবে সুন্দরল্যান্ড অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত হলেও এখানকার জীববৈচিত্র্য সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পরিসর তৈরি করতে পারে। তাই, এ অঞ্চলে আরো বিস্তৃত গবেষণা ও সংরক্ষণ প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে। নতুন প্রজাতির সাপের আবিষ্কার প্রমাণ করে, গ্রেট নিকোবরের বনাঞ্চল এখনো অগণিত রহস্য লুকিয়ে রেখেছে। যথাযথ গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমেই একমাত্র এ দ্বীপের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব। গবেষকরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে আরও অজানা প্রজাতি এই দ্বীপপুঞ্জে আবিষ্কৃত হতে পারে। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!