- পা | র্স | পে | ক্টি | ভ রোব-e-বর্ণ
- মার্চ ১৫, ২০২৬
উর্বরা উত্তর, বাংলা সাহিত্যের আরেক ভূখণ্ড
উত্তরবঙ্গের প্রচুর লেখক রয়েছেন যাদের লেখায় স্থানিক ও সময়ের চিহ্ন ছড়িয়ে রয়েছে। শুধু তা নয়, তাঁদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর তেমনভাবে পৌঁছতে পারেনি কলকাতা কেন্দ্রিক সাহিত্যপ্রাঙ্গনে। তাঁরা কেবল প্রান্তিক পরিসরে সাহিত্য কর্মটি করে গেছেন
বাংলা সাহিত্যের বিস্মৃত ভুবনে পশিমবঙ্গের ‘উত্তরবঙ্গ’ একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পৃথক এক বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ড তাঁর স্বাভাবিক সৎ সৃজন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিস্তা, মহানন্দা, রায়ডাক, জলঢাকা, তোর্সা, কালজানি, অন্যদিকে আত্রেয়ী, কুলিকের স্রোত আট জেলার প্রকৃতিকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে রূপে রঙে রসে সাজিয়েছে। এ সাজের আলোয় আলোকিত এখানকার মানুষের জীবন, ইতিহাস ও সংস্কৃতি। বহু জনজাতির বসবাস উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির আনাচে কানাচে। কাজেই স্বাভাবিকভাবে উত্তরবঙ্গের সাহিত্যে পড়েছে সেই বর্ণিল মেলবন্ধনের প্রতিফলন।
তাই হয়তো উত্তরবঙ্গ তার নিজস্ব ভাষা নিয়ে পৃথক একটি প্রদেশ। পৃথক তার আত্মা। এখানকার মানুষের মনও পৃথক চরিত্রের অস্তিত্ব লালন করে। যদিও তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও পরিবার নির্ভর। তবু স্বাভাবিক ও সহজাতভাবেই চাবাগানের মত সে সহজ সুন্দর । পাহাড়ের মত সহনশীল এবং গাছপালার সবুজের মত নির্মল চঞ্চল।
একটি বার্তা পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন যে, উত্তরবঙ্গের প্রচুর লেখক রয়েছেন যাদের লেখায় স্থানিক ও সময়ের চিহ্ন ছড়িয়ে রয়েছে। শুধু তা নয়, তাঁদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর তেমনভাবে পৌঁছতে পারেনি কলকাতা কেন্দ্রিক সাহিত্যপ্রাঙ্গনে। তাঁরা কেবল প্রান্তিক পরিসরে সাহিত্য কর্মটি করে গেছেন। কীভাবে কলেজস্ট্রিটের খাতায় নাম ওঠাতে হয়, তাঁরা জানেন না, বা জানলেও সে নীতিতে বিশ্বাসী নন। অথবা সেইটুকু আর্থিক সঙ্গতিও ছিল না বা নেই যাই হোক না কেন !
তবু সাহিত্য রচনা হয়েছিল, এখনো হচ্ছে। ইন্টারনেটের দৌলতে আগের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রান্ত, অনেকটাই। সাহিত্যের বাকবদল এবং বাঁকবদল স্বাভাবিক ঘটনা।
কোচবিহার জেলা দিয়ে যদি শুরু করি, দেখা যাবে, বাংলা ভাষার গদ্যচর্চার নিদর্শন রাজপরিবারেই বিস্তর ছিল। রাজপরিবারে সাহিত্যচর্চা ও পৃষ্ঠপোষণা দুটোই ছিল। কোচবিহার জেলায়সাহিত্য আন্দোলন বা চর্চা যাই বলা হোক না কেন, সে নিদর্শনের গোটাটাই লিটল ম্যাগাজিন কেন্দ্রিক।
১৯৭৭ সালে বাংলায় বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার পর কোচবিহার জেলায় নিবারণ পণ্ডিতের তত্বাবধানেই জন্ম নেয় ‘গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী গোষ্ঠী’। এই জেলায় দিগ্বিজয় দে সরকার, সমীর চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষ সিংহ, রণজিৎ দেব প্রমুখ কবিতা চর্চা শুরু করেন। ষাটের দশক বাংলা কাব্যের এক অস্থির দশক। হাংরি আন্দোলন কলকাতায় ফুরিয়ে যাবার পর অরুণেশ ঘোষ নতুন করে কোচবিহারে হাংরির পুনরজাগরন ঘটিয়ে দেন।
সমাজই তো সাহিত্যের আয়না ! এই প্রেক্ষিতে কোচবিহার জেলায় রাজতন্ত্রের পর্দা সরে গিয়ে গণতন্ত্র আসে ১৯৫০ এ। পঞ্চাশ পরবর্তী সময়ে কমিউনিস্ট পার্টি আর নিষিদ্ধ থাকল না। সব দলই কর্মতৎপর হয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতা সঙ্গে নিয়ে এসেছিল দেশভাগ ও উদবাস্তু সমস্যা। জন্ম নেয় মিশ্র সংস্কৃতি। সেকালে নিবারণ পণ্ডিত সহ অনেক কবি নিজেদের চিন্তা ব্যক্ত করেন। ‘কান্তিবাবু’ ছদ্মনামে প্রচুর কবিতা লিখেছিলেন নিবারণ পণ্ডিত। ১৯৭৭ সালে বাংলায় বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠা পেলে কোচবিহার জেলায় নিবারণ পণ্ডিতের তত্বাবধানেই জন্ম নেয় ‘গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী গোষ্ঠী’। কোচবিহার জেলায় দিগ্বিজয় দে সরকার, সমীর চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষ সিংহ, রণজিৎ দেব প্রমুখ কবিতা চর্চা শুরু করেন। গত শতকের ষাটের দশক বাংলা কাব্যের এক অস্থির দশক। হাংরি আন্দোলন কলকাতায় ফুরিয়ে যাবার পর অরুণেশ ঘোষ নতুন করে কোচবিহারে হাংরির পুনরজাগরন ঘটিয়ে দেন।
শৌখিন লেখা থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব ভাষা ও ঘরানা তৈরি করেন তিনি। অরুণেশের ভাবনার সঙ্গে স্বর মেলান মালবাজারের সমীরণ ঘোষ, দিবাকর ভট্টাচার্য, ত্রিদিব চক্রবর্তী, জীবতোষ দাস, অরূপ দত্ত, রাজা সরকার, জামালউদ্দিন, নিত্য মালাকার। যোগ দেন তরুণ কবি গয়েরকাটার বিকাশ সরকার, মাথাভাঙ্গার অনুভব সরকার এবং সুব্রত রায়েরা। বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত উল্ল্যেখযোগ্য প্রাবন্ধিক, কথাকার ও ঔপন্যাসিক অমিয়ভূষণ মজুমদার, যিনি রাজনগর উপন্যাসের জন্য বঙ্কিম পুরস্কার ও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর সাহিত্য সাধনা ছিল অখণ্ড, অক্লান্ত। ওঁর প্রথম উপন্যাস ‘গড় শ্রীখণ্ড’ ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে বেরিয়েছিল। এটি উত্তরবঙ্গের লোকায়ত জীবন, নদী ও মানুষের মনস্তত্ব ফুটিয়ে তোলার আখ্যান। আঞ্চলিক উপন্যাস নয়, বরং বহুস্তরীয় বাস্তবের ও লড়াইয়ের চমৎকার দলিল।
‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’-এর অবিস্মরণীয় লেখক দেবেশ রায় এবং ‘উত্তরাধিকার’ – এর স্রষ্টা সমরেশ মজুমদার জলপাইগুড়ি জেলার মানুষ। ছক ভাঙা দেবেশ রায় রাজবংশী ভাষা খুব ভালো জানতেন। ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’ ছাড়া দেবেশ রায়ের ‘মফস্বলি বৃত্তান্ত’, ‘তিস্তা পুরাণ’, ‘সময় অসময়ের বৃত্তান্ত’, ‘লগন গান্ধার’ এবং শুরুর দিকের অনেক লেখায় উত্তরবঙ্গ নানাভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
সমরেশ মজুমদার মদেশিয়া সমাজের কথা, প্রকৃতি, চা বাগান ও চা শ্রমিকের কথা এমন কি নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
নিয়ে এসেছেন ‘সাতকাহন’, ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’-এ।
জলপাইগুড়ি জেলায় প্রথম যে সাহিত্য পত্রিকাটি প্রকাশ পায় তার নাম ‘ভিক্ষুক’। ১৩০৩ বঙ্গাব্দ. ১৮৯৬ সাল। ১৯৪৪ সালে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলার অধ্যাপক হয়ে জলপাইগুড়ি এসেছিলেন। পরে দীনেশ চন্দ্র বিশ্বাস, জীবেন্দ্র সিংহ রায়, রেবতীমোহন লাহিড়ী এরকম অনেকে এসেছিলেন যারা সাহিত্যের নব্যবীজ অংকুরত করে বঙ্গসাহিত্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলেন। জলপাইগুড়ি হয়ে উঠল সাহিত্যের তথা লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র।
কথাকার শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের স্কুল জীবনের কিছুটা এবং কলেজ জীবন কেটেছে জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে স্মৃতিচারণামূলক গদ্য এবং ছোটগল্পে জলপাইগুড়ি জেলার দোমহনির কথা বলেছেন তিনি।
জলপাইগুড়ি জেলায় প্রথম যে সাহিত্য পত্রিকাটি প্রকাশ পায় তার নাম ‘ভিক্ষুক’। ১৩০৩ বঙ্গাব্দ. ১৮৯৬ সাল। ভাবা যায় ! এ জেলার মাটি বড্ড ধনী। ১৯৪৪ সালে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলার অধ্যাপক হয়ে জলপাইগুড়ি এসেছিলেন। পরে দীনেশ চন্দ্র বিশ্বাস, জীবেন্দ্র সিংহ রায়, রেবতীমোহন লাহিড়ী এরকম অনেকে এসেছিলেন যারা সাহিত্যের নব্যবীজ অংকুরত করে বঙ্গসাহিত্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলেন। জলপাইগুড়ি হয়ে উঠল সাহিত্যের তথা লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র। ১৯৫২ সালে সুরজিত দাশগুপ্ত ও বনবিহারী দত্ত সম্পাদিত ‘জলার্ক’ পত্রিকাটি সাহিত্যের চিন্তা ও চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ জেলাতেই নব্বইয়ের দশকে; ‘এরকা’ পত্রিকা কে কেন্দ্র করে সংহত কবিতা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
এই সময়ে কোচবিহার জেলায় সাহিত্যচর্চায় জড়িয়ে আছেন মাধবী দাস, মনিমা মজুমদার, পাপড়ি গুহনিয়োগী, নিলাদ্রী দেব, পীযুষ সরকার, সঞ্জয় সাহা, সুবীর সরকার, মনামী সরকার, চৈতালী ধরিত্রীকন্যা, প্রলয় নাগ প্রমুখ। প্রবীণেরাও থেমে নেই। কোচবিহারের দেবজ্যোতি রায়, যিনি কিছুকাল আগে হঠাৎ চলে গেলেন, তাঁর গল্প কবিতা নিরীক্ষামূলক। তরুণ সমালোচক, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক পুরুষোত্তম সিংহ বলেছেন, ‘দেবজ্যোতি রায় গল্প, গপ্প, কাহিনি, ছোটো গল্প কিছুই লিখতে চাননি। তিনি একটি দর্শন রচনা করতে চেয়েছেন। মধ্যবিত্ত মেকিবোধের সমূল উৎপাটন করতে চেয়েছেন। দেবজ্যোতি বারবার অন্ধকার জগতে নেমে গেছেন।’
আলিপুরদুয়ারের অর্ণব সেন গোটা জেলাকে বটগাছের মতো অনেক দশক ধরে ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন। এখানে সাহিত্যের অঙ্গনে যেমন ছিলেন জগন্নাথ বিশ্বাস, কমলেশ রাহা রায়, তেমন আছেন প্রমোদ নাথ, মধুমিতা চক্রবর্তী, শৌভিক দে সরকার, অম্বরীশ ঘোষ, বাবলি সাহা ও গায়েত্রি দেবনাথরা।
উত্তরবঙ্গে বসবাসকারী লেখক কবিদের মধ্যে যারা ফর্ম ও কন্টেন্ট নিয়ে নানান রকম গবেষণামূলক কাজ করেছেন, এখনো করছেন পীযুষ ভট্টাচার্য। চেতন-অবচেতন-অর্ধচেতন অবস্থা নিয়ে ব্যক্তির যে অবস্থান, সে স্বপ্ন ও বাস্তবের খেলা নির্মাণ করেছেন তিনি। জেলার তরুণ দেবাশিস ও সোহেলরা আত্রেয়ীর জলে স্নাত হয়ে কবিতাচর্চা করে যাচ্ছেন। অজিতেশ ভট্টাচার্য তাঁর ‘মধুপরনণী’ দিয়ে বাংলার সাহিত্যকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁর উত্তরসুরীরা সন্দীপন নন্দী থেকে শুরু করে গোপাল লাহা-সহ অনেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
মালদা জেলার জন্ম ১৮১৩ সালে। এই জেলা রত্নপ্রসু। জেলার প্রথম সাহিত্যপত্র ‘কুসুম’। সংস্কৃতের সীমানা অতিক্রম করে, যখন বাংলা ভাষার অবয়ব তৈরি হচ্ছে, প্রায় সমসাময়িক কাল থেকে এই ভূখণ্ডে কাব্য চর্চা শুরু হয়
জলপাইগুড়ির বিজয় দে, সমর রায়চৌধুরী তাদের সুদীর্ঘ চর্চায় অন্য এক কাব্যভাষা তৈরি করেছেন। সত্তরের সৃজন গর্জন ওঁদের কাব্যকলমে আজও বহমান। বেণু দত্তরায়, শ্যামল সিংহ, প্রবীর রায়ও অনন্য সৃষ্টির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কথাশিল্পে তরুণদের মধ্যে অভিষেক ঝা, অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের টেক্সটকে নতুন ভাবতরঙ্গে এনে অন্য স্বর দেবার চেষ্টা করছেন।
উত্তরবঙ্গের সাহিত্য খাতায় এমন কিছুনাম লিপিবদ্ধ আছে, যাঁরা শিকড়সূত্রে এই অঞ্চলের। যেমন, তিলোত্তমা মজুমদার, উৎপল ঝা, শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্বতী রায়চৌধুরী, অলক গোস্বামী উত্তরবঙ্গের লেখক হয়েও বাইরে গিয়ে সাহিত্য চর্চায় নিজেদের মগ্ন রেখেছেন। তাঁরা সুপরিচিত আর স্বনামধন্য। উত্তরবঙ্গে থেকেও বিপুল দাস, তৃপ্তি সান্ত্রা, কৃষ্ণপ্রিয় ভট্টাচার্য, জয়শীলা গুহবাগচী, গৌতম গুহ রায়, মণিদীপা নন্দী বিশ্বাস, অনুরাধা কুন্ডা, মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য, সেবন্তী ঘোষ, পাপড়ি গুহ নিয়োগী, শুভময় সরকার, অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়, রম্যাণী গোস্বামী, রঙ্গন রায়, মানসী কবিরাজ এবং শ্যামলী সেনগুপ্ত দুই বাংলা জুড়ে দাপিয়ে লেখালেখি করছেন।
ডিজিটাল দুনিয়ায় দাঁড়িয়ে এক নিমেষে সেখানে হাজার হাজার পাঠকের কাছে চলে যাওয়া যায়, তবুও এখনো তরুণেরা ওয়েব ম্যাগাজিনের চেয়ে হার্ড ম্যাগাজিনেই বেশি আকৃষ্ট। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার তিস্তাগুড়ি,তারুণ্যের ছোঁয়া এবং আরো কিছু নতুন কাগজ আশার আলো দেখাচ্ছে। উত্তরবঙ্গে এমন কিছু সাহিত্য পরিসর রয়েছে, যেখানে শুধু উত্তরের লেখকদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ‘চিকরাশি’-র মতো হাতে গোনা দু-একটি পত্রিকা, সে কাজে আন্তরিকতার সঙ্গে ব্যস্ত।
মালদা জেলার জন্ম ১৮১৩ সালে। এই জেলা রত্নপ্রসু। জেলার প্রথম সাহিত্যপত্র ‘কুসুম’। সংস্কৃতের সীমানা অতিক্রম করে, যখন বাংলা ভাষার অবয়ব তৈরি হচ্ছে, প্রায় সমসাময়িক কাল থেকে এই ভূখণ্ডে কাব্য চর্চা শুরু হয়। সন্ধ্যাকর নন্দী, শ্রীরূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, মুকুন্দ চক্রবর্তী প্রমুখের নাম সাহিত্যের ইতিহাস ভুলে যায়নি।
এবার যে জেলার কথা বলব সে জেলার একজন প্রাবন্ধিক ও, চিন্তাবিদ বাংলা সাহিত্য যতদিন থাকবে, ততদিন থাকবেন। তাঁর নাম অধ্যাপক অশ্রুকুমার শিকদার। উন্নাসিক থাকলেও তাঁকে বাংলা সাহিত্য কোনো দিনই অস্বীকার করতে পারবে না। তিনি আমৃত্যু শিলিগুড়িতেই থেকে গেছেন। দার্জিলিং জেলার সাহিত্য চর্চার দুটি ধারা। একটি সমতলের বাংলা ভাষায় এবং অন্যটি পাহাড়ের নেপালী ভাষায়। এ জেলার সাহিত্যের ইতিহাস ও চর্চাও লিটল ম্যাগাজিন কেন্দ্রিক।
স্বল্প পরিসরে এ লেখা অসম্পূর্ণ, বহু লেখকের নাম বাইরে থেকে গেল, এর বাইরেও বহু লেখক সৃজনে মগ্ন। তাঁরা আসরে আছেন। কালের খাতায় তাঁদের নাম থেকে যাবে ।
উত্তর দিনাজপুর জেলার সাহিত্যে কাব্যচর্চার একটি বিশেষ দিকের কথা বলে, এ লেখা শেষ করব। কুলিক নদীর উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের দিনাজপুরে। এ নদী রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদের বুক ছুঁয়ে মিশেছে নাগর নদীতে। কুলিক নদীর প্রসঙ্গ এসেছে জেলার বহু কবির কবিতায়। অরুণ চক্রবর্তী, সুনন্দা গোস্বামী, শর্মিষ্ঠা ঘোষ এবং আরও অনেক কবির কবিতায় সেই স্থানিক চিহ্ন দেখা যায়। তবে উত্তরের জেলাগুলির লেখকদের মধ্যে প্রয়াত সমর চক্রবর্তী, দেবেশকান্তি চক্রবর্তী প্রমুখের শক্তিশালী লেখা অনেক পাঠক দাবি করে। এছাড়া উত্তরবঙ্গে সাহিত্যের চিন্তাশীল গদ্যকারদের মধ্যে যেমন রয়েছেন আনন্দগোপাল ঘোষ, কৌশিক জোয়ারদার এবং তরুণ পুরুষোত্তম সিংহদের মত অধ্যাপক তেমনি রয়েছেন তরুণ সাহিত্য কর্মী শতানিক রায়ে প্রমুখ। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু প্রকাশক আজকাল এ অঞ্চলের লেখকদের বৃহত্তর পাঠকের কাছে তুলে ধরবার চেষ্টা করছেন, যারা নিজেরাও সততার সাথে লেখালেখি করেন।
আরও অনেক নাম উচ্চারণ করা যায়, যাঁদের লেখায় স্থানিক চিহ্ন ছাড়াও সময়ের নানান বৈচিত্রময় সংকটের বহুস্বর ফুটে উঠছে।আপাতত এইটুকুই। বাকি থেকে যাওয়াগুলো হয়ত কখনো বলা যাবে।
♦•♦–♦•♦♦•♦–♦•♦
❤ Support Us








