- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- আগস্ট ১১, ২০২৬
ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের জামিন নাকচ
সমস্যা আরও বাড়ল বাংলার ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, যৌন নির্যাতন, মারধর, বেআইনি ভাবে আটকে রাখা, হুমকি সহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আইপিএলের দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটারের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল চুঁচুড়া আদালত। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে সিজেএম আদালত তাঁকে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। পুলিশ অবশ্য ১০ দিনের হেফাজত চেয়েছিল।
মঙ্গলবার মগরা থানার পুলিশ অভিষেককে গ্রেফতার করে। পরে তাঁকে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের দাবি, আদালতের নির্দেশের পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯, ৩১১, ৩১৮-সহ একাধিক ধারা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬/৭২ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিষেকের আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু সে আবেদন মঞ্জুর হয়নি। তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে ক্রিকেটারকে। এ সময়ের মধ্যে তদন্ত চালিয়ে ফের তাঁকে আদালতে হাজির করবে পুলিশ। হুগলি জেলা মুখ্য আইনজীবী শিবাজী দাস বলেন, ‘অভিযোগ খুবই গুরুতর। এক জন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ এসেছে যে, তিনি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নানারকম অপরাধমূলক কাজ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করছে। প্রকৃত সত্য সকলের সামনে আসবে।’
এ মামলার সূত্রপাত গত ২৩ জুন। ওই দিন হুগলির মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন কর্নাটকের মেডিক্যাল পড়ুয়া এক তরুণী। তাঁর অভিযোগ, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। দু–জনের বিয়ের কথাও হয়েছিল। অভিযোগকারিণীর দাবি, সে প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তাঁদের মধ্যে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক হয়। তরুণীর আরও অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে তাঁদের সম্পর্কে সমস্যা তৈরি হয়। তার পর থেকেই অভিষেক তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত বিয়েতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। শুধু বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস নয়, অভিষেকের বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহ এবং অপরাধমূলক হুমকির অভিযোগও এনেছেন ওই তরুণী। তাঁর দাবি, তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছিল, একাধিক বার হেনস্থার শিকারও হতে হয়েছিল। এছাড়াও, মামলার এফআইআরে আরও গুরুতর অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারিণী সেখানে দাবি করেছেন, বিদেশে তাঁকে বেআইনি ভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি, খাবার পর্যন্ত খেতে দেওয়া হয়নি। এর ফলে তিনি শারীরিক ভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন। ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না বলে এফআইআরে দাবি করা হয়েছে। তাঁর একটি বিমান ধরার কথা থাকলেও শারীরিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার সাহায্য নিতে হয়েছিল বলে অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এ সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারাও যুক্ত হয়েছে মামলায়।
গত ২৩ জুন থানায় অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু অভিযোগকারিণীর দাবি, বেশ কিছু দিন কেটে গেলেও অভিষেকের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। এর পর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। মামলাটি আদালতে গড়ালে অভিষেককে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। সে নির্দেশের পরেই পুলিশ তাঁকে ধরতে তৎপর হয়। পুলিশের দল অভিষেকের চন্দননগরের বাড়িতেও একাধিক বার গিয়েছিল বলে সূত্রের খবর। তবে সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত দমদম থানার এলাকার ইমামি সিটি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য আগেই অস্বীকার করেছিলেন অভিষেক। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার সময় বেঙ্গালুরু থেকে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। অভিষেকের বক্তব্য ছিল, ‘এখন আমি ভালো খেলছি, তাই আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করতে এমন নানা কথা উঠে আসছে।’ তদন্তের এ পর্যায়ে অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি পুলিশ বা আদালত। এখন পুলিশ হেফাজতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, মাঠে অভিষেক পোড়েলের উত্থান গত কয়েক বছরে নজর কেড়েছে। বাংলার হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদেই আইপিএলে জায়গা করে নেন বাঁ-হাতি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ২০২১-২২ মরসুমে বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক তাঁর। এর পর ভারত ‘এ’ দলের সঙ্গেও ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত ৩২টি প্রথম শ্রেণির এবং ২৩টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন অভিষেক। ২০২৩ সাল থেকে আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে রয়েছেন তিনি। ঋষভ পন্থের অনুপস্থিতিতে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে তাঁকে দলে রাখা হয়েছিল। প্রথম দিকে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও দিল্লি তাঁর উপর আস্থা বজায় রাখে। পরের মরসুমেও সে আস্থার প্রতিদান দেন অভিষেক। গত আইপিএলে চার ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০৮ রান। তবে মাঠের বাইরে এই গুরুতর মামলায় গ্রেফতারি এবং আদালতের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
❤ Support Us








