- দে । শ
- জুলাই ৯, ২০২৬
লোকসভা থেকে পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরে ডামাডোল, বসিহাটের উন্নয়ণ নিয়ে সংশয়
সাংসদ পদ শূন্য । বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের ৭ টি বিধানসভার মধ্যে ২ টি কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে । বসিরহাটের পুরবোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসেছে গত ডিসেম্বরে । বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে । টাকি পুরসভার ওপর খাঁড়া ঝুলছে । টাকির উপপুরপ্রধান গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশ হেপাজতে । সন্দেশখালি–১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, গ্রেপ্তার । এই পরিস্থিতিতে বসিরহাট ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল কতটা পাবে এনিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে । এক কথায় বসিরহাটের উন্নয়ন কার্যত স্তব্ধ ।
বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত সংসদ হাজি নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে বসিরহাট সাংসদ শূন্য । ফলে এই এলাকায় কথা সংসদে বলার মত কেউ নেই । অন্যদিকে বসিরহাট উত্তর, বসিরহাট দক্ষিণ, বাদুড়িয়া, হাড়োয়া, মিনাখাঁয় বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সুবিধে করতে পারেনি । এই ৫ টি কেন্দ্রে এবং মহকুমারই (বনগাঁ বিধানসভার অন্তর্গত) স্বরূপনগর বিধানসভাও তৃণমূলের দখলে । ফলে বিধায়করা তাঁর এলাকার সমস্যা গুলি সমাধানে কতখানি সুবিধা আদায় করতে পারবেন বিজেপি সরকারের কাছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। তেমনই পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলিও কার্যত এখন নিস্ক্রীয় । কোন সরকারি নির্দেশিকায় নয়, তৃণমূল পরিচালিত মহকুমার ৯০ টি পঞ্চায়েতের প্রধান এবং সদস্যদের অধিকাংশ পঞ্চায়েত মারাচ্ছেন না । তাদের কৃতকর্মের জন্য মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন রাজ্যে পালা বদলের পরে । বসিরহাট, বাদুড়িয়া, টাকি পুরসভার একই অবস্থা । আর্থিক অনিয়মের কারণে গত ডিসেম্বরে বসিরহাটের পুরপ্রধান অদিতি মিত্র রায়চৌধুরিকে অপসারণ করে পুরসভার ভার বসিরহাটের মহকুমা শাসকের ওপর অর্পণ করেছে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের নগরোন্নয়ন দপ্তর । কাউন্সিলরদের ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে । জুন মাসে পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন দেরিতে হয়েছে । জুলাই মাসের পেনশন পাননি ৮৭ জন অবসর প্রাপ্ত পুরকর্মী। অস্থায়ী কর্মীরাও বেতন ঠিকমত পাননি । অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগে বাদুড়িয়া পুরসভার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । দীপঙ্করের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩ কোটি টাকা, প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয় । একই পরিস্থিতি টাকি পুরসভার । টাকির উপপুরপ্রধান ফারুক গাজিকে জমি দখল , ভোট সন্ত্রাস সহ নানা অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । ফারুক এখন পুলিশ হেপাজতে । কাউন্সিলররা পুরসভায় আসছেন না । অভিযোগ থাকা সত্তেও টাকির পুরপ্রধান সোমনাথ মুখার্জি ‘একা কুম্ভ’ হয়ে রক্ষা করছেন পুর পরিষেবার কাজ । জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ সাহানুর মণ্ডল জেলে । সব দিক থেকে কার্যত বসিরহাটের উন্নয়ণ থমকে আছে । সব মিলিয়ে সমগ্র বসিরহাটের উন্নয়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে । কংগ্রেস নেতা হিরণ্ময় দাস বলেন, ‘বসিরহাটে অবিলম্বে লোকসভার উপনির্বাচন হওয়া দরকার । নইলে বসিরহাটের সমস্যার কথা লোকসভায় তুলবে কে ? তেমনি জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করায় নাগরিক পরিষেবা ব্যহত হচ্ছে । আমরা এব্যাপারে পুরসভার প্রশাসক তথা মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছি ।’ তৃণমূলের ২ নির্বাচিত বিধায়ক জানিয়েছেন, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক সভায় গিয়ে আশ্বাস পেয়েছি এলাকার উন্নয়নে কোন বিমাতৃসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি সরকার দেখাবে না । ফলে আশাকরি বসিরহাটের মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছবে । বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, ‘তৃণমূলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনমানসে হেয় হচ্ছেন তাঁদের অপকর্মের জন্য । যে অত্যাচার , জুলুম পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি করেছে তার জন্য মানুষের সামনে তাঁরা যেতে পারছেন না । কিন্তু তাই বলে বসিরহাটের উন্নয়ন থেমে থাকবে তা নয় ।’ পলাশ বলেন, ‘সরকারের যে পরিকাঠানো আছে, প্রশাসনিক আধিকারিকরা রয়েছেন তাঁদের মাধ্যমে বিজেপির সরকার নাগরিক পরিষেবা এবং উন্নয়ন চালিয়ে যাবে এনিয়ে কোন সংশয় নেই । ডবল ইঞ্জিন সরকারে সুফল বসিরহাটের কোণায় কোণায় পৌঁছে যাবে ।’
❤ Support Us







