- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
৫.৪৬ শতাংশ বাড়ল বিমান জ্বালানির দাম, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারও আরও দামি
আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফের বাড়ল বিমান জ্বালানি ও বাণিজ্যিক ‘এলপিজি’-র দাম। মঙ্গলবার ‘অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল’ অর্থাৎ বিমান জ্বালানির দাম ৫.৪৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দামও ৯.৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলির তরফে এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য ‘এটিএফ’-এর মূল্য প্রতি লিটারে ৬.২৮ টাকা বেড়ে হয়েছে ১২১.২৮ টাকা। এর আগে গত ১ আগস্টও ‘এটিএফ’-এর দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পরপর দু-মাস বিমান জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় আরও বাড়তে পারে। কারণ, বিমান সংস্থাগুলির মোট খরচের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ‘এটিএফ’-এর পেছনে ব্যয় হয়।
অন্যদিকে, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক ‘এলপিজি’ সিলিন্ডারের দাম ২,৭৩৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২,৭৪৭.৫০ টাকা। অর্থাৎ, প্রতি সিলিন্ডারে দাম বেড়েছে ৯.৫০ টাকা। পাশাপাশি বাজারদরে বিক্রি হওয়া ৫ কেজির ‘এলপিজি’সিলিন্ডার, যা ৫-কেজি ‘এফটিএল’ নামে পরিচিত, তার দামও ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই সিলিন্ডারের দাম ৭৬২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৬৪ টাকা।
তবে বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রে পরপর দু-মাস দাম কমার পর এই প্রথম বৃদ্ধি ঘটল। গত ১ আগস্ট ১৯ কেজির বাণিজ্যিক ‘এলপিজি’ সিলিন্ডারের দাম ১৯২ টাকা কমানো হয়েছিল। তার আগে ১ জুলাই দাম কমেছিল ১৮৩.৫০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম তীব্রভাবে বেড়ে যাওয়ার পরও দেশের বাজারে এর দাম কমানো হয়েছিল। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ‘এলপিজি’-র দামে বড়সড় বৃদ্ধি দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে দেশীয় বাজারেও। এর জেরে জুন মাসে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক ‘এলপিজি’ সিলিন্ডারের দাম মোট ১,৩৭৩ টাকা বেড়েছিল। ওই সময়ে সিলিন্ডারের দাম ১,৭৪০.৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩,১১৩.৫০ টাকায় পৌঁছয়। পরে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই ও আগস্টে দাম কমানো হয়। এবার ফের দাম বাড়ানো হলো। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক মূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের ভিত্তিতে প্রতি মাসের প্রথম দিনে ‘এটিএফ’ ও ‘এলপিজি’-এর দাম সংশোধন করা হয়। তবে বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় করের হার, বিশেষ করে ‘ভ্যাট’-এর পার্থক্যের কারণে খুচরো দামে কিছুটা তারতম্য দেখা যায়।
অন্যদিকে, সাধারণ পরিবারের রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির ‘এলপিজি’ সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে এই সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা। গৃহস্থালির ‘এলপিজি’-র দাম সর্বশেষ গত ৭ জুন প্রতি সিলিন্ডারে ২৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তার আগে মার্চ মাসে দাম ৬০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। পশ্চিম এশিয়ার সংকটের জেরে সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে তীব্র বৃদ্ধির পর সে সময় গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল।
এদিকে, পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও মঙ্গলবার কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এর আগে মে মাসে পেট্রোল ও ডিজেল—উভয় জ্বালানির দাম প্রতি লিটারে প্রায় ৭.৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল। ফলে চলতি মাসের শুরুতে বিমান জ্বালানির দাম বাড়লেও সাধারণ পরিবারের ব্যবহৃত রান্নার গ্যাস এবং পেট্রোল-ডিজেলের দামে আপাতত কোনও নতুন পরিবর্তন আসেনি। তবে ‘এটিএফ’-এর পরপর মূল্যবৃদ্ধি বিমান সংস্থাগুলির খরচের উপর চাপ বাড়াতে পারে এবং বাণিজ্যিক ‘এলপিজি’-এর দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে রেস্তোরাঁ, হোটেল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান-সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক গ্রাহকের উপর।
❤ Support Us







