- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬
ফারহান আখতার প্রযোজিত মণিপুরি ছবি ‘বুং’-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
৭৯তম ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি চলচ্চিত্র পুরস্কার (বাফতা) ২০২৬-এ ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। ফারহান আখতার ও রিতেশ সিধওয়ানি প্রযোজিত এবং লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী পরিচালিত মণিপুরি ভাষার চলচ্চিত্র ‘বুং’ জিতে নিয়েছে সেরা শিশু ও পারিবারিক চলচ্চিত্র বিভাগের পুরস্কার। এ জয় শুধু একটি ছবির সাফল্য নয়, বরং আঞ্চলিক ভাষার সিনেমার ক্ষমতা ও ভারতীয় গল্প বলার বহুমাত্রিক সম্ভাবনার প্রমাণ।
লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী রয়েল ফেস্টিভ্যাল হলে অনুষ্ঠিত ‘বাফতা-২০২৬’-এর মঞ্চে ওঠেন ছবির অন্যতম প্রযোজক ফারহান আখতার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহ প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি, সুজাত সওদাগর এবং অ্যালান ম্যাকঅ্যালেক্স। ট্রফি হাতে নিয়ে তাঁরা এই সাফল্য উৎসর্গ করেন মণিপুরের সাধারণ মানুষকে, যাঁদের জীবন ও সংস্কৃতি ছবির প্রাণকেন্দ্র। নবাগত পরিচালক লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘বুং’ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ‘আরকো’, ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’, ‘জুটোপিয়া ২’ -এর মতো আলোচিত প্রযোজনাকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। সিনেমা বিশ্লেষকরা বলছেন, নবাগত পরিচালক তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র দিয়ে যে শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। এ জয় আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্তর-পূর্ব ভারতের গল্প ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
‘বুং’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে মণিপুরের উপত্যকার এক কিশোরকে ঘিরে। ছোট্ট বুং তার মাকে বিশেষ উপহার দিতে চায়। তার মনে হয়, বহুদিনের নিরুদ্দেশ বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনাই হবে সবচেয়ে বড়ো চমক। বাবার সন্ধানে বেরিয়ে সে জীবনের সম্পর্ক ও অর্থের নতুন মাত্রা আবিষ্কার করে। সরল অথচ আবেগঘন এই কাহিনি দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। গুগুন কিপগেন, বালা হিজাম নিংথৌজাম ও আঙ্গোম সানামাতুমের অভিনয় ছবির আবহকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২৪ সালে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার হওয়ার পর ‘বুং’ প্রদর্শিত হয়েছে ওয়ারশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, মুম্বাই অ্যাকাডেমি অফ দ্য মুভিং ইমেজ এবং ২০২৫ সালের মেলবোর্ন ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এ ছবির সাফল্য ভারতীয় আঞ্চলিক সিনেমার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।
পুরস্কার গ্রহণের সময় লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবী মঞ্চ থেকে মণিপুরে চলমান অশান্তি প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘খুরুমজারি! মনে হলো যেন আমরা এমন একটি পাহাড়ের শীর্ষে পৌঁছেছি যা আমরা আগে কখনো জানতামই না। ‘বাফতা’-র পক্ষ থেকে আমাদের এত ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই অসাধারণ অনুভূতি। আমাদের ছবি এমন এক জায়গাকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যা বহুমাত্রিক সমস্যায় ঘেরা, উপেক্ষিত আর অবহেলিত—আমার জন্মভূমি মণিপুর।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এই সুযোগে সবাইকে বলতে চাই, আমরা প্রার্থনা করি মণিপুরে শান্তি ফিরে আসুক। সকল চলচ্চিত্রের শিশু অভিনেতা সহ সব বাস্তুচ্যুত শিশু, যেন আবার তাদের আনন্দ, স্বপ্ন, বাঁচবার আশ্রয় খুঁজে পান। শুধুমাত্র একটি পুরস্কারের জন্য নয়, ‘বাফতা’-কে ধন্যবাদ আমাদের এমন একোটি মঞ্চ দেওয়ার জন্য, যেখানে আমরা আমাদের আশা-ভরসা, আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করতে পারি।’
‘বাফতা-২০২৬’-এর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বিজয়ীরা হলেন: সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানদার’ অসাধারণ ব্রিটিশ চলচ্চিত্রের পুরস্কার গিয়েছে ‘হ্যামনেট’-কে, সেরা অ-ইংরেজি ভাষার ছবির পুরস্কার ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’-কে। সেরা তথ্যচিত্রের সম্মান পেয়েছে ‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’, সেরা অ্যানিমেটেড ছবি হয়েছে ‘জুটোপিয়া ২’, সেরা পরিচালক হয়েছেন পল থমাস অ্যান্ডারসন (‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানদার) সেরা প্রধান অভিনেত্রী জেসি বাকলি (‘হ্যামনেট’) এবং সেরা প্রধান অভিনেতা নির্বাচিত হয়েছেন রবার্ট আরামায়ো (‘আই শপথ’)। এছাড়াও ইই রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন রবার্ট আরামায়ো।
❤ Support Us








