- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৯, ২০২৫
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অশালীন মন্তব্য ! কংগ্রেস-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত পাটনা, আঁচ লাগল কলকাতাতেও
বিহারে রাহুল গান্ধির ‘ভোটাধিকার যাত্রা’ র্যালিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর মায়ের প্রতি অশালীন ভাষা প্রয়োগের প্রতিবাদে শুক্রবার পথে নামেন বিজেপির কর্মীরা। বিক্ষোভ চলাকালীন কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি থেকে হাতাহাতি, এমনকি লাঠিসোঁটা চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিহারে চলা ‘ভোটাধিকার যাত্রা’য় কংগ্রেসের এক কর্মী প্রকাশ্যে মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মায়ের প্রতি অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপির তরফে পাটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী নীতিন নবীন বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রীর মায়ের প্রতি এমন অসম্মান বিহারের কোনো সন্তান বরদাস্ত করবে না। কংগ্রেসকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’ তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আমরা প্রতিশোধ নেব। আইনের পথেই এর মোকাবিলা হবে।’ অন্যদিকে কংগ্রেস শিবির থেকে এসেছে পাল্টা বক্তব্য। দলের এক কর্মী, ডাঃ আশুতোষ, বলেন, ‘বিজেপি সরকারের মদতে আজকের এই ঘটনা। নীতীশ কুমার যা করছেন, তা একেবারেই অনুচিত। কংগ্রেস এর যোগ্য জবাব দেবে।’ বিতর্কিত মন্তব্যকারীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে দারভাঙ্গা পুলিশ। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, ‘সিমরি থানায় এ ঘটনা নিয়ে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করা হয়েছে।’
ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি একেবারে নিচে নেমে গিয়েছে। ওঁরা এক জন দরিদ্র মায়ের ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। ১১ বছর ধরে মোদিজির নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে, আর সেটা কংগ্রেস হজম করতে পারছে না।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘এটাই কংগ্রেসের প্রকৃত চরিত্র, যে চরিত্র বারবার দেশের রাজনীতিকে বিষাক্ত করেছে।’ বিজেপি সভাপতি জে. পি. নাড্ডা আরো এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মায়ের উদ্দেশে যেভাবে গালিগালাজ করা হয়েছে, তা সমস্ত শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদবকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’ ঘটনার নিন্দায় মুখ খুলেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও। তিনি বলেন, ‘এরকম ভাষা একেবারেই অনুচিত। রাহুল গান্ধীর যাত্রা থেকে যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি।’
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা পবন খেরা পুরো ঘটনাকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘মূল ইস্যু থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এ ধরনের ঘটনা সামনে আনা হচ্ছে। যে প্রশ্নগুলো সরকার এড়াতে চাইছে, সেগুলো নিয়েই আমাদের আন্দোলন।’ একদিকে ‘এসআইআর’-এর নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে বিহারেরর রাস্তায় নেমেছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস, তেজস্বী যাদব ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য শরিকরা, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে করা কটু মন্তব্য ঘিরে বিহারের রাজনীতিতে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। ভোটের মুখে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের এমন প্রকাশ্য সংঘর্ষ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এদিকে, বিহারে বিজেপি ও কংগ্রেসের উত্তেজনা কলকাতাতেও তার ছাপ ফেলেছে। শুক্রবার সকালে কলকাতার শিয়ালদহে অবস্থিত প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে একদল বিজেপি কর্মী-সমর্থক বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ছবি, ব্যানার ও পোস্টার নষ্ট করেছে। প্রদেশ কংগ্রেস এই ঘটনা তীব্রভাবে নিন্দা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে বিধান ভবনে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। কার্যালয়ের সামনে বিজেপি কর্মীরা কংগ্রেসের পতাকা পুড়িয়ে দেয় এবং নেতাদের ছবি ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। ঘটনার সময় কার্যালয়ের ভিতরে থাকা কংগ্রেস কর্মীরা প্রতিবাদ করতে গেলে রীতিমতো ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর স্থানীয় থানায় রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে খোলা চিঠি দিয়ে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস কার্যালয় বন্ধ থাকাকালীন এমন হামলা চোরাচালানের মতো। এই ঘটনায় বিজেপির কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।’ পাশাপাশি মধ্য কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি মানস সরকার হুমকি দিয়েছেন, ‘দম থাকলে তারা সামনে এসে এই কাজ করে দেখাক, আমরা পাল্টা দিতে পিছু হটব না।’ তৃণমূল কংগ্রেস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘বিজেপি এই আক্রমণ দিয়ে কংগ্রেসকে আবার রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে।’ জানা যাচ্ছে, কলকাতা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কিছু সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। বিজেপির যুব মোর্চার মুম্বাই সভাপতি তেজিন্দর তিওয়ানা নামেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করছে এবং আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ ধরনের সহিংসতা ও ভাঙচুর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তুলছে।
❤ Support Us








