- দে । শ
- জুন ২৬, ২০২৬
‘সবাইকে গ্রেফতার করতে গেলে ব্রিগেড ভাড়া করতে হবে’ : দুর্নীতি প্রসঙ্গে তৃণমূলকে নিশানা শমীক ভট্টাচার্যের
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে তৃণমূলের উপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সে আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করলেন, ‘তৃণমূল যা করে গেছে, সবাইকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তো ব্রিগেড ভাড়া করতে হবে। তবে কেউ পার পাবেন না।’ বৃহস্পতিবার বসিরহাট সফরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার একটি অরাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে বসিরহাটে যান শমীক। কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খোলেন। রাজ্যের নতুন সরকারের কাজকর্ম প্রসঙ্গে শমীক বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই কাজ শুরু করেছে। তাঁর দাবি, ‘মানবিক মুখ নিয়ে নতুন সরকার চলছে। প্রতিকূল আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেও যে বাজেট পেশ করা হয়েছে, তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে স্পর্শ করেছে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম দায়িত্ব এখন মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা।
পশ্চিমবঙ্গের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নকেই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে দাবি করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে পূরণ না হওয়ায় প্রশাসনিক কাজে প্রভাব পড়েছে। শূন্যপদগুলি দ্রুত পূরণ করার দিকেই সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করাও সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন। তারাতলায় সাম্প্রতিক নির্মাণ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ উঠতেই শমীক বলেন, ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, কারা ওই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যাঁদের অবহেলা বা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়ান শমীক। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সে কারণেই বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন। ফলে বিজেপির কোনো ‘তৃণমূলিকরণ’ হবে না।’ তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, আইন নিজের গতিতেই চলবে এবং যে-ই অপরাধে যুক্ত থাকুক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এখনো বড়ো ধরনের গ্রেপ্তারি অভিযান শুরু না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শমীক বলেন, ‘তৃণমূল যা করে গেছে, সবাইকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তো ব্রিগেড ভাড়া করতে হবে। তবে কেউ পার পাবেন না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখেই বিজেপি আগামী দিনে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবে বলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।
বসিরহাট সফরে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি দলের প্রবীণ নেতাদের প্রতিও দায়বদ্ধতার বার্তা দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। দীর্ঘদিনের বিজেপি নেতা শেখর ব্যানার্জির শারীরিক অসুস্থতার খবর পেয়ে এদিন তাঁর বাড়িতে যান শমীক। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে শমীক ভট্টাচার্যের জয়ের সময় শেখর ব্যানার্জি প্রধান নির্বাচন এজেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দীর্ঘদিনের সে সহকর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি, দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। এদিন সদ্যপ্রয়াত বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি হাজারীলাল সরকারের বাড়িতেও যান শমীক। বসিরহাট আদালতের আইনজীবী হাজারীলাল একসময় বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব সামলেছিলেন। জেলার সংগঠন গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি। দলের দীর্ঘদিনের কর্মী ও নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এই সফরকে রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শমীকের সফর ঘিরে বসিরহাটে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল উৎসাহের আবহ। বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মীরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত হন। রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তর ২৪ পরগনার এই সফরে তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরা, অন্যদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রশ্নে কড়া অবস্থান— দুই বার্তাকেই সমান গুরুত্ব দিয়েই সামনে আনতে চেয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
❤ Support Us







