Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৫, ২০২৫

‘বুলা বিল’ ঘিরে নয়া বিতর্ক, রাজ্যের ক্ষমতা খর্বের আশঙ্কা ! শোষণমূলক ঋণ রুখতে এটি কার্যকর নয়, দাবি পিপলস কমিশনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘বুলা বিল’ ঘিরে নয়া বিতর্ক, রাজ্যের ক্ষমতা খর্বের আশঙ্কা ! শোষণমূলক ঋণ রুখতে এটি কার্যকর নয়, দাবি পিপলস কমিশনের

‘ব্যানিং অফ আনরেগুলেটেড লেন্ডিং অ্যাক্টিভিটিজ’ সংক্ষেপে ‘বুলা বিল’, উদ্দেশ্য অনিয়ন্ত্রিত ঋণদানের রাশ টানা। অথচ একে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে চিহ্নিত করল ‘পিপলস কমিশন অন পাবলিক সেক্টর অ্যান্ড পাবলিক সার্ভিসেস’। অভিযোগ, এই খসড়া আইন গরিব মানুষকে শোষণের হাত থেকে বাঁচাতে কার্যত কিছুই করছে না।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাক্তন আমলা, বিচারপতি, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ও সমাজকর্মীদের সংগঠন পিপলস কমিশন এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই বিল কেবলমাত্র ঋণদাতাদের এনবিএফসি হিসেবে নথিভুক্ত করানোর দায় চাপাচ্ছে এবং অনলাইন ডেটাবেস রাখার কথা বলছে। অথচ শোষণ, হয়রানি এবং এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও বহুক্ষেত্রে আইনি এনবিএফসি-দের সঙ্গেই জড়িত। ফলে, ওই সমস্ত প্রতিষ্ঠান এ বিলের আওতার বাইরেই থেকে যাবে।’ শুধু তাই নয়। সুদের হার নিয়ন্ত্রণ, ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়ার উপর লাগাম, কিংবা কোনো শক্তিশালী অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কথাও বিলে অনুপস্থিত বলে কমিশনের অভিযোগ। বরং গোটা বিষয়টিকে কেন্দ্র বানাতে গিয়ে রাজ্যগুলির হাতে থাকা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে কেন্দ্র, এমনটাই মত তাদের।

তামিলনাড়ু, কর্ণাটক-সহ একাধিক রাজ্য ইতিমধ্যেই শোষণমূলক ঋণদানের বিরুদ্ধে আইন আনতে চেয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালের এক সুপ্রিম কোর্টের রায় জানিয়ে দেয়, এনবিএফসি-রা রাজ্যের মানিলেন্ডিং আইনের আওতায় পড়ে না। এর জেরে রাজ্যগুলির উদ্যোগে কার্যত জল ঢেলে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। সেই খোঁচাও রয়েছে কমিশনের বক্তব্যে। কমিশনের দাবি, সারা দেশে ঋণের ফাঁদে আটকে আত্মহত্যা, হয়রানি, এবং শোষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গ্রামীণ এলাকায় ধাপে ধাপে পিছিয়ে আসছে পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলি। আগে যেখানে দেশের প্রায় ৬০% ব্যাংক শাখা গ্রামে ছিল, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৯%-এ। সেই ফাঁকে জাঁকিয়ে বসেছে এনবিএফসি, এমএফআই, সোনা বন্ধক সংস্থা এবং ডিজিটাল ঋণ অ্যাপগুলির দৌরাত্ম্য। সুদের হার কোথাও ২৫%, তো কোথাও ২০০% পর্যন্ত! আরবিআই-এর তথ্য বলছে, ৫০,০০০-এর নীচে ঋণের ৮০%-এরও বেশি এখন এনবিএফসি ও ফিনটেক সংস্থার হাতে। যার ফলে দরিদ্র মানুষ কার্যত পড়ছেন আইনি অথচ শোষণমুখী ঋণচক্রে।

এই পরিস্থিতিতে কমিশনের সুপারিশ, একটি শক্তিশালী মডেল আইন প্রণয়ন হোক, যা অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলির সফল মানিলেন্ডিং আইনের ভিত্তিতে তৈরি হবে এবং এনবিএফসি ও এমএফআই-দের নিয়ন্ত্রণে আনবে। এর আওতার বাইরে রাখা হোক কার্যকরভাবে কাজ করা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, নিবন্ধিত সোসাইটি ও ট্রাস্টগুলিকে। কমিশনের দাবি, গ্রামীণ ও আধা-শহর এলাকায় বাড়াতে হবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখা ও কর্মীসংখ্যা। সমন্বিত গ্রামীণ উন্নয়ন -এর আদলে দরিদ্র মানুষ যাতে সহজ শর্তে ও সুরক্ষিতভাবে ঋণ পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে সুদের ঊর্ধ্বসীমা ১৮ শতাংশ (সরল সুদ) নির্ধারণ করতে হবে এবং ভিন্নতর সুদ হারের প্রকল্প পুনরায় কার্যকর করে ৪ শতাংশ সুদে দুর্বল অংশের মানুষকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যা মোট ব্যাঙ্ক ঋণের অন্তত ১ শতাংশ হবে। কমিশনের আর এক গুরুত্বপূর্ণ দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি যেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী, যৌথ দায়বদ্ধ গোষ্ঠী, কৃষক উৎপাদনকারী সংস্থা এবং ব্যক্তিকে সরাসরি ঋণ দেয় ।বিবৃতির শেষে কমিশনের কড়া মন্তব্য, ‘যখন ধনী ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার ঋণ সহজে পান, এমনকি যখন ঋণ মকুবও হয়, তখনও গরিব মানুষকে ঋণ দস্যুদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপমান, হয়রানি, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, এসবই যেন গরিবের ভাগ্য। সরকার কি এটাই চায়? দেশের দরিদ্রের জন্য এখনই চাই নিরাপদ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী ঋণ ব্যবস্থা।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!