- বি। দে । শ
- জুন ২১, ২০২৪
মিলন সুখের পাশাপাশি এবার মনের খেয়াল রাখবে সঙ্গী সেক্স-ডল, আগস্টে চিনের বাজার দখলের সম্ভাবনা
সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ। বুদ্ধিমত্তায়, সৃষ্টিতে , নান্দনিকতায় , মেধায় , চিন্তন ক্ষমতায় সে পৃথিবীর সমস্ত জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। সৃষ্টির পর থেকে ক্রম পরিবর্তনশীল জগতে সে একমাত্র লড়াই করে বেঁচে আছে। তার স্বকীয়তা , তার মহিমা এখনও প্রশ্নাতীত । সে পারে তার নিজের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে; সে বুদ্ধি দিয়ে হোক বা মেধা দিয়ে। নিজের পরিশ্রমের ফসলস্বরূপ এখন সে সারা বিশ্বের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করতে পেরেছে।
মানব মেধার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।’ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সে অবিসংবাদী নায়ক হয়ে উঠছে। যদিও তা কৃত্রিম তথাপি তাও মানব-মেধার সৃষ্টি। যা কাজ করবে তার বুদ্ধির মতোই, বুদ্ধির অতিরিক্ত নয়। যেমন ধরা যাক সেক্স ডল ব্যবসার ক্ষেত্রটিকে। সেখানেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার কৃত্রিম অথচ যুগান্তকারী প্রভাব সৃষ্টি করার জন্য তৈরি হচ্ছে।
প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের একাকীত্ব। সমাজ ভুলে সে সমাজমাধ্যমে নতুন বন্ধু খুঁজে বেড়ায় । ঠিক তেমনই বেশ কয়েক বছর ধরে একাকিত্বে ভুগতে থাকা মানুষদের মধ্যে শারীরিক আনন্দ প্রাপ্তির আশায় মোটা অর্থের বিনিময়ে ‘সেক্স ডল’ কেনার হিড়িক পড়ে যায়। সেক্স ডল আর কিছুই নয়, সাময়িক শারীরিক মিলনের সুখ ভোগের জন্য নিবেদিত একটি মানব প্রতিমা। তবে মানুষ থামতে শেখেনি । এক জায়গায় আটকে থাকা তার স্বভাববিরুদ্ধ। তাই ওই কৃত্রিম মিলনসঙ্গীর মধ্যে আসল সত্বাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সে অনুসন্ধান শুরু করেছে। ফলাফল মিলেছে হাতেনাতে।
নরনারী মিলনে সৃষ্টির বীজ নিহিত থাকে। সেক্স ডল যদিও উৎপাদন করতে অক্ষম। তবু বহু একাকী মানুষ অর্থের বিনিময়ে তা সংগ্রহ করেছেন। কেউ কেউ তো সেক্স ডলটিকে বিয়েও করেছেন । তবে ওই লৌহ নির্মিত মানব প্রতিমার ইস্পাত কঠিন হৃদয় জয় করা বড় কঠিন। অসম্ভব বললেও অত্যুক্তি হয়না। যতই আসল সঙ্গী বা সঙ্গিনী মনে করে তার থেকে দৈহিক সুখ লাভের চেষ্টা করা হোক না কেন, প্রত্যুত্তর সে দেবেনা। তার বহিঃপ্রকাশ অনুভূতিশূন্য। ফলে একটা সময়ের পর তাকে নেহাত একটি খেলনা ছাড়া আর কিছুই মনে হবেনা। নরনারী প্রেমের মিলনাত্মক সুখ নিয়ে পৃথিবীর কত কবিতা , কাহিনী, গান লেখা হয়েছে। রচিত হয়েছে কত আখ্যান। ভাবুন তো, যদি তা নেহাতই একপেশে হত, তাহলে কি কবি কল্পনায় ওই কালজয়ী সাহিত্য সৃষ্টি হত? মোটেই না । তাই চৈনিক বৈজ্ঞানিকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ বাজারে আসতে চলেছে এমন এক কৃত্রিম প্রণয়ী বা প্রণয়িনী যিনি মিলন সুখ দেওয়ার পাশাপাশি উত্তর দিতে সক্ষম হবেন। শুধু তাই নয়, তিনি আপনার বন্ধুও হবেন। অবশ্যই নিজের বুদ্ধিতে নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণে। যদিও তিনি যন্ত্র মানব বা যন্ত্র মানবী, তবুও তিনি আপনার একান্ত মুহূর্তের সঙ্গী।
চিনের সংবাদপত্র ‘চাইনা মর্নিং পোস্ট’ জানাচ্ছে সে দেশের বিজ্ঞানিরা সেক্সরোবটদের মধ্যে চ্যাট জিপিটির প্রয়োগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সৃষ্টিতে ব্যস্ত। যদিও তাতে চ্যালেঞ্জ কিছু কম নেই।
চিনের সেঞ্ঝেন প্রদেশের দেশের বৃহত্তম সেক্স ডল নির্মাণ কোম্পানি স্টারপেরি টেকনোলজি তার নিজস্ব মডেলকে ভাষাগত প্রশিক্ষণ দিতে ব্যস্ত। খুব শীঘ্রই যে তারা বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছে , তা স্পষ্ট। কোম্পানির সি ই ও বলেছেন, ‘এই বছর আগস্টে নির্ধারিত প্রোটোটাইপ অনুযায়ী এক ধরণের সেক্স ডল আমরা বাজারে আনতে চলেছি , যে শারীরিক ও মানসিক দুভাবেই মিলিত হতে সক্ষম। সে কথাও বলতে পারবে। ‘ যদিও প্রকৃতির সৃষ্ট জীবের মতো আবেদন আনার ক্ষেত্রে তাঁদের যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে । তিনি জানাচ্ছেন, সেক্স ডলে কিছু কোম্পানির উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। অতএব শুধু রোবট নির্মাণকারী সংস্থা নয়, ওই সফটওয়্যার নির্মাণকারী সংস্থাগুলির কৃতিত্বও সমানভাবে বর্তমান।
তাই শুধু শারীরিক মিলনে নয়,তার পাশাপাশি সঙ্গীর মানসিক তৃপ্তিরও খেয়াল রাখবে নব নির্মিত সেক্স-পুত্তলিকা।
❤ Support Us








