Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ডিসেম্বর ৮, ২০২৩

সংসদীয় ইতিহাসে আজ একটা লজ্জার দিন, বললেন মমতা। মহুয়ার পাশে কংগ্রেস,বাম সহ ইন্ডিয়া জোট

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সংসদীয় ইতিহাসে আজ একটা লজ্জার দিন, বললেন মমতা। মহুয়ার পাশে কংগ্রেস,বাম সহ ইন্ডিয়া জোট

মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “এটা সংসদীয় ইতিহাসের একটা লজ্জার দিন। ন্যায়ের নামে মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে অন্যায় করা হয়েছে। মহুয়া মৈত্রকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাঁকে সংসদ থেকে বহিস্কার করার ঘটনায় আমি মর্মাহত। ৪৯৫ পাতার এথিক্স কমিটির রিপোর্ট নিয়ে আধ ঘণ্টার আলোচনায় তাঁকে খারিজ করে দেওয়া হল? বিজেপি গণতান্ত্রিক ভাবে, রাজনৈতিক ভাবে না পেরে, ভোটে হাারাতে না পেরে, এভাবে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিল। মহুয়া একজন নির্বাচিত সাংসদ, তারুণ্যের প্রতিনিধি, মহিলা, তাই তাঁর বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি। তৃণমূল মহুয়ার পাশে ছিল, আছে, থাকবে। এই ঘটনায় ইন্ডিয়া জোট সংঘবদ্ধ আছে, এটা ভালো লক্ষণ। তবে আজ যে সিদ্ধান্ত মহুয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া হল সেটা সংসদীয় ইতিহাসের পক্ষে একটা লজ্জার দিন। আমি অত্যন্ত মর্মাহত এই সিদ্ধান্তে। এটা খুবই দুর্ভাগ্য জনক, অনাকাঙ্খিত ঘটনা। মহুয়া পড়ের লড়াইয়ে থাকছে। রাজনৈতিক ভাবে আমরা এই লড়াই লড়ছি। মহুয়াকে ধ্বনিভোটে সাংসদ পদ থেকে বহিস্কার করা হল। এটা ওরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করল। আর ২/৩ মাস বাকি লোকসভা নির্বাচনের। একজন মহিলা সাংসদকে এভাবে সংসদ থেকে বার করে দিতে হল? রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করা গেল না?”

মহুয়া মৈত্রকে সাংসদ পদ থেকে বহিস্কারের পর মহুয়া মৈত্র সংসদ ভবনের বাইরে বেরিয়ে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার কোনও অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। নারীবিদ্বেষী মনোভাব মোদি সরকারের। কথা বলার সুযোগ না দিয়ে এক তরফা ভাবে আমার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর আগামী ৬ মাস আমায় ইডি,সিবিআই দিয়ে হেনস্থা করা হবে।” এরপর সুকান্ত ভট্টাচার্যের বোধন কবিতা উধৃত করে মহুয়া বলেন, “আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই স্বজন হারানাে শ্মশানে তােদর চিতা আমি তুলবােই। এটা আপনাদের শেষের শুরু।”


মহুয়া বলেন, ‘‘লোকসভার এথিক্স কমিটিতে ‘এথিক্স’ বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। তারা সব নিয়ম ভেঙে ফেলেছে। এমন একটা কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হল, যা লোকসভার সকল সদস্যের মধ্যে প্রচলিত একটি অভ্যাস। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি বা কোনও উপহার নিয়েছি, তার কোনও প্রমাণ নেই।’’

মহুয়া বলেন, ‘‘এ বার আমার কাছে সিবিআই আসবে। ছ’মাস আমাকে সিবিআই দিয়ে হেনস্থা করা হবে।’’

মহুয়া মৈত্র যখন গান্ধি মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বক্তব্য রাখছেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সোনিয়া গান্ধি, অধীর রঞ্জন চৌধুরী সহ “ইন্ডিয়া” জোটের সব সাংসদরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের এভাবে মহুয়া মৈত্র ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “ঈশ্বরের নামে অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করবেন না। ঈশ্বরকে ছোট করার ক্ষমতা আপনার নেই। তাঁর অসন্তোষ আপনাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে পারে। জয় মা কালী।”

“একজন সাংসদ কিছু উপঢৌকন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কি করা উচিত? তাহলে সাংসদদের বাড়িট সামনে এবার থেকে রেট চার্টা টানিয়ে দেওয়া উচিত? যিনি টাকা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করেছেন বলে অভিযোগ, তাঁকে কি পুরস্কৃত করা উচিত?”, এমনই মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ ও বঙ্গ বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

বিএসপি সাংসদ দানেশ আলি মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের পর বলেন, “গান্ধি এবং আম্বেদকরের আত্মা কাঁদছে।”

অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “যে নরেন্দ্র মোদি সংসদে মহিলা, মহিলা বলে আওয়াজ তোলেন, ভোটের রাজনীতির জন্য সেখানে একজন বাংলার মেয়েকে বিনা দোষে ফাঁসি দিয়ে দেওয়া হল। ফাঁসির আসামীকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়, মহুয়া মৈত্রকে সেই সুযোগ দেওয়া হল না।”

মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজ প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। মহুয়া যে প্রশ্ন করেছেন সেই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা না করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে যে ভাবে মহুয়া মৈত্রকে সাংসদ পদ থেকে বহিস্কার করা হল সেটা ঠিক নয়। আসলে তিনি আদানিদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা নিয়ে কেন সংসদে আলোচনা হল না? এই বিষয়টিকে হাল্কা ভাবে নেওয়া উচিত নয়।”

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “বিজেপির যে প্রতিহিংসার রাজনীতি করে সেটাই করা হল মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে। ওরা রাজ্যের টাকা আটকে রাখে, আজ সংসদে যাঁরা হাত তুলে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজে সমথন জানাল তাঁরা আর সংসদে জিতে ফিরবেন না।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!