Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৬, ২০২৬

ইন্ডিয়া গেটে অনুমতি নয়, শিক্ষক দিবসে সিজেপির প্রতিবাদ ঘিরে অনিশ্চয়তা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ইন্ডিয়া গেটে অনুমতি নয়, শিক্ষক দিবসে সিজেপির প্রতিবাদ ঘিরে অনিশ্চয়তা

কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি—এই অভিযোগ তুলে ফের আন্দোলনের পথে নামার ডাক দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর, শিক্ষক দিবসে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। তবে সেই কর্মসূচি আদৌ কোথায় এবং কীভাবে হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির জন্য এখনও পর্যন্ত সিজেপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতির আবেদন জমা পড়েনি। যদিও কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আগাম পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে পুলিশ।

সিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেট থেকে দিল্লি পুলিশের সদর দফতর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করার কথা। কিন্তু ইন্ডিয়া গেটে এই ধরনের মিছিলের অনুমতি পাওয়া কঠিন বলেই মনে করছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, ইন্ডিয়া গেট এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা, অর্থাৎ পূর্বের ১৪৪ ধারার সমতুল্য বিধিনিষেধ, কার্যকর রয়েছে। ফলে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে, যন্তর মন্তর এলাকায় নির্দিষ্ট পূর্বশর্ত মেনে প্রতিবাদ ও মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে।

নয়াদিল্লির ডিএসপি সচিন শর্মা জানিয়েছেন, সিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও মিছিল বা বিক্ষোভের অনুমতির আবেদন পুলিশের কাছে আসেনি। যদিও সিজেপির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দিল্লি পুলিশকে কর্মসূচির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, সিজেপি কি আদৌ ইন্ডিয়া গেট থেকে মিছিল করার অনুমতি পাবে? ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশকর্তার দাবি, ইন্ডিয়া গেট কখনওই প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের উপযুক্ত জায়গা নয়। সেখানে সাধারণত বিপুল মানুষের সমাগম হয়। তার উপর মিছিল বা বিক্ষোভ হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং যানজটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই নয়াদিল্লি এলাকায় সাধারণত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয় না বলেও ওই পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।

ইন্ডিয়া গেট ও সংলগ্ন এলাকায় যাতে কোনও বিক্ষোভকারী প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেও পুলিশের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে নয়াদিল্লির জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার নুপূর প্রসাদ ইতিমধ্যেই অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও এ বিষয়ে জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার নিজে কোনও মন্তব্য করেননি।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীর সম্ভাব্য সংখ্যা বিবেচনা করে সিজেপিকে কর্মসূচির স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। ইন্ডিয়া গেটের পরিবর্তে রামলীলা ময়দান অথবা অন্য কোনও নির্ধারিত স্থানে মিছিল বা সভা করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

৫ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি ঘিরে আগাম সতর্ক দিল্লি পুলিশ। পার্লামেন্ট থানার পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই দল সিজেপির নেতাদের পাশাপাশি অন্যান্য সংগঠকদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে। সংগঠনের সামাজিকমাধ্যমের কার্যকলাপের উপরও নজর রাখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে কোনও সমর্থক দিল্লিতে এসে কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যাপ্ত সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এর আগে যন্তর মন্তরে প্রায় এক মাস ধরে আন্দোলন করেছিল সিজেপি। সংগঠনটির প্রধান দাবিগুলির মধ্যে ছিল নিট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। পাশাপাশি, ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া যেসব বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছিল, সেই মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছিল। নিট কেলেঙ্কারির কারণে আত্মঘাতী হওয়া পড়ুয়াদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবিও ছিল তাদের।

২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসে সিজেপি নেতৃত্ব। বৈঠক শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কেন্দ্র তাদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সেই আশ্বাসের পরই যন্তর মন্তরের ধর্না প্রত্যাহার করে নেয় সিজেপি।

তবে ধর্না প্রত্যাহার করলেও নিজেদের দাবিদাওয়া থেকে সরে আসেনি সংগঠনটি। যন্তর মন্তরের আন্দোলন শেষ হওয়ার পর থেকেই সিজেপি নেতৃত্ব বারবার কেন্দ্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে আসছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, আন্দোলনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত না হলে ফের পথে নামা হবে। সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, এবারের প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্বে থাকবেন নিট পরীক্ষায় আত্মঘাতী হওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের সদস্যরা এবং সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের অত্যাচারের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা। সংগঠনের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই ৫ সেপ্টেম্বর ফের রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিজেপি।

তবে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটি কোথায় হবে, ইন্ডিয়া গেট থেকে মিছিলের অনুমতি মিলবে কি না এবং বিকল্প কোনও স্থানে কর্মসূচি সরিয়ে নেওয়া হবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত এখন দিল্লি পুলিশের অনুমতির উপরই নির্ভর করছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!