Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৬, ২০২৫

ভান্তারাকে ঘিরে সুপ্রিম তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভান্তারাকে ঘিরে সুপ্রিম তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের

গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের অধীনস্থ ভান্তারা প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী, বিশেষ করে হাতিকে অবৈধভাবে সংগ্রহ ও তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যা ঘিরেই সরগরম সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হয়েছে ৪ সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল।

একদিন পর, মঙ্গলবার ভান্তারার তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, তারা সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে ‘সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা’ জানিয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং আইন মেনে প্রাণী কল্যাণের কাজ আগের মতোই চালিয়ে যাবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের অঙ্গীকার স্বচ্ছতা, সহানুভূতি এবং আইনানুগতা বজায় রাখা। বিশেষ তদন্ত দলকে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করবো এবং আন্তরিকভাবে আমাদের কাজ চালিয়ে যাব। পশুকল্যাণই আমাদের অগ্রাধিকার।’ পাশাপাশি সংস্থার অনুরোধ, এ তদন্ত প্রক্রিয়াটি যেন ‘জল্পনা কিংবা অনুমান নয়’ সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রাণীদের কল্যাণকে মাথায় রেখে পরিচালিত হয়।

সোমবার বিচারপতি পঙ্কজ মিথল এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ জানায়, এ তদন্ত একটি তথ্য অনুসন্ধানমূলক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ভান্তারার ওপর বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া অমূলক। বিচারপতি চেলামেশ্বরের নেতৃত্বে গঠিত ৪ সদস্যবিশিষ্ট এই তদন্ত দলে রয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি রাঘবেন্দ্র চৌহান, প্রাক্তন মুম্বই পুলিশ কমিশনার হেমন্ত নাগরালে এবং শীর্ষ কাস্টমস আধিকারিক অনীশ গুপ্তা। তদন্ত দলটিকে ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইটি যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে, তার মধ্যে রয়েছে— ভারত ও বিদেশ থেকে প্রাণী সংগ্রহের ক্ষেত্রে যাথযথ আইন মানা হয়েছে কি না, বিশেষ করে হাতিদের ক্ষেত্রে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং চিড়িয়াখানার বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না। আন্তর্জাতিক বিধি যেমন সিআইটিইএস বা বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত কনভেনশন মেনে চলা হয়েছে কি না। পাশাপাশি, পশুদের সঠিক চিকিৎসা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না। পাশাপাশি প্রকল্পের পরিবেশগত উপযুক্ততা ও আর্থিক স্বচ্ছতার দিকগুলোও পর্যালোচনা করবে তদন্ত কমিটি। এসআইটি শুধু নথিপত্র বিশ্লেষণেই থেমে থাকবে না। জামনগরে সরেজমিন পরিদর্শনে যাবে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিভিন্ন এনজিও, প্রাণী কল্যাণ কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তৈরি করবেচূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করবে বলে জানা যাচ্ছে।

ভান্তারার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এসেছে জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতে। সি আর জয়া সুকিন নামে এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করে জানান, ভান্তারায় বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনের আড়ালে বিপন্ন প্রাণীদের অবৈধভাবে আনা ও রাখা হচ্ছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, হাতি, পাখি সহ বহু প্রজাতির প্রাণী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও অবৈধভাবে আনা হয়েছে এবং সেগুলোর যত্ন ও কল্যাণে প্রশ্ন তুলেছে একাধিক প্রাণী সুরক্ষা সংস্থা ও এনজিও। প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে সুপ্রিম আদালত।

উল্লেখ্য, রিলায়েন্সের বিশাল রিফাইনারি কমপ্লেক্সের হাজার হাজার একর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভান্তারা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি পশু উদ্ধার ও সেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বন্দি হাতিদের উদ্ধার, অত্যাধুনিক পশু চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন এবং বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এই সংস্থা। তবে এত বড়ো পরিসরের একটি সংস্থায় যদি আইন লঙ্ঘন, পশু পাচার কিংবা পরিবেশগত অসামঞ্জস্যের মতো অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা গোটা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তবে ভান্তারা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে কাজ করছেন। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য প্রাণীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশিত তদন্তকমিটি সে দাবির সত্যতা যাচাই করবার পথে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!