Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ১৯, ২০২৬

তৃণমূলের তহবিল ঘিরে দ্বন্দ্ব চরমে, পুলিশের দ্বারস্থ ঋতব্রত শিবির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তৃণমূলের তহবিল ঘিরে দ্বন্দ্ব চরমে, পুলিশের দ্বারস্থ ঋতব্রত শিবির

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবার দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন মাত্রা পেল। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার দাবিতে বৃহস্পতিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী একাধিক বিধায়ক। তাঁদের দাবি, দলের মধ্যে চলমান টানাপড়েনের জেরে তৃণমূলের তহবিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ়’ করা প্রয়োজন।

ঋতব্রত শিবিরের সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ এলাকায় যে ব্যাঙ্ক শাখায় তৃণমূলের মূল অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই বিষয়ে পুলিশকে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের বিভিন্ন স্তরে বিভাজন এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন আপাতত বন্ধ রাখা হোক। পাশাপাশি, নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেছেন ঋতব্রতপন্থী বিধায়কেরা।

এর আগে তৃণমূলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে একই ধরনের আবেদন জানিয়েছিলেন। গত ৫ জুন দলের সাংগঠনিক রদবদলে কোষাধ্যক্ষের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ১২ জুন ব্যাঙ্কে পাঠানো চিঠিতে অরূপ নিজেকে এখনও দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেই উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দলের ২০ জন সাংসদ এবং ৫৮ জন বিধায়ক হয় দল ছেড়েছেন, নয়তো প্রকাশ্যে বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ফলে দলের সাংগঠনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে।

অরূপের আশঙ্কা, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বেশ কিছু চেকে সই করে রেখেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চেকগুলির অপব্যবহার হতে পারে। তাই সমস্যা মেটার আগ পর্যন্ত তহবিল সুরক্ষিত রাখতে এবং কোনও অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন রোধ করতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ১৬ জুন তাঁর চিঠি গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তৃণমূলের সর্বশেষ অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, দলের তহবিলে প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকা রয়েছে। ফলে এই বিপুল অঙ্কের অর্থের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অরূপের চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই সক্রিয় হয়ে ওঠে ঋতব্রত শিবির। সম্প্রতি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে বিরোধিতার সূত্র ধরে দলের পরিষদীয় দলে বড়সড় ভাঙন দেখা দেয়। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মনোনয়নের বিরোধিতা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে স্পিকারের কাছে যান এবং শেষ পর্যন্ত স্পিকার তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে মমতাপন্থী ও ঋতব্রতপন্থী—এই দুই শিবিরের বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই নয়, দলের সংসদীয় দলেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে অন্তত ২৮ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে ত্রিপুরাভিত্তিক দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের মূল তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!