- দে । শ
- আগস্ট ৬, ২০২৬
পরিবেশ রক্ষা নয়, ই-২০ জ্বালানি চালুর উদ্দেশ্য ভিন্ন : কেন্দ্রকে নিশানা কংগ্রেসের
কেন্দ্রীয় সরকারের দেশজুড়ে ই-২০ পেট্রোল চালুর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। হাত শিবিরের অভিযোগ, এ নীতির উদ্দেশ্য ‘স্পষ্টতই পরিবেশবান্ধব নয়’। দলটির দাবি, প্রকৃত অর্থে সবুজ জ্বালানি নীতি গ্রহণ করতে হলে শুধুমাত্র কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়টি দেখলেই হবে না, বরং জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত জলসম্পদ, কৃষি ব্যবস্থা এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাবও বিবেচনা করতে হবে।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, মোদি সরকার ই-২০ জ্বালানিকে তুলনামূলক পরিষ্কার শক্তির উৎস এবং আমদানিনির্ভর অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে তাঁর দাবি, ইথানল উৎপাদনের জন্য যে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করা হয়, তার পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত মূল্যায়ন না করলে এই নীতির প্রকৃত প্রভাব বোঝা সম্ভব নয়।
রমেশ উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক দেশ মূলত কৃষিজ অবশিষ্টাংশ এবং অন্যান্য বর্জ্য জৈব পদার্থ থেকে ইথানল উৎপাদন করে। কিন্তু ভারতে ইথানল উৎপাদনের প্রধান উৎস হলো আখ, ধান এবং ভুট্টা। তাঁর বক্তব্য, এই ফসলগুলি অত্যন্ত জলনির্ভর হওয়ায় দেশের জলসম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন হিসাবের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক লিটার আখভিত্তিক ইথানল উৎপাদনে প্রায় ৩,৬৩০ লিটার জল প্রয়োজন হয়। ধানভিত্তিক ইথানলের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বেড়ে ১০,৭৯০ লিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, ভুট্টাভিত্তিক ইথানল উৎপাদনে প্রতি লিটার জ্বালানির জন্য প্রায় ৪,৬৭০ লিটার জল লাগে।
রমেশ বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমাগত নেমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নীতি আয়োগের ২০২১ সালের ইথানল রোডম্যাপে আরও টেকসই কাঁচামালের দিকে ধীরে ধীরে এগোনোর সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে তাঁর অভিযোগ, সরকার এখনও ধানভিত্তিক ইথানল উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি সরকার সংসদে জানিয়েছে যে ইথানল উৎপাদনকারী কারখানাগুলিতে গড় সংগ্রহমূল্যের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম দামে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে।
জয়রাম রমেশের দাবি, ‘একটি প্রকৃত সবুজ জ্বালানি নীতিতে যে জ্বালানিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা উচিত। ই-২০ চালুর উদ্দেশ্য যে পরিবেশ রক্ষা, তা স্পষ্ট নয়।’ সংসদের বাদল অধিবেশনে লাগাতার ই-২০ পেট্রোল চালুর সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জ্বালানি বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা কমেছে, জ্বালানির খরচ বেড়েছে, যানবাহনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কংগ্রেস আরও দাবি করেছে, এই নীতির সবচেয়ে বড়ো সুবিধাভোগী হচ্ছেন বিজেপি সমর্থিত ইথানল উৎপাদকরা।
❤ Support Us







