- প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ৭, ২০২২
দিল্লি জুড়ে মাংসের দোকান বন্ধের নির্দেশ ঘিরে বিতর্কের ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায় ।
নবরাত্রি উপলক্ষে নয় দিন ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সব মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে নগর কর্তৃপক্ষের এক নির্দেশের পর বহু দোকানে গত দুদিন ধরে মাংস বিক্রি বন্ধ রয়েছে ।দিল্লির দক্ষিণ ও উত্তরের মেয়ররা যুক্তি দিয়েছেন নবরাত্রির সময় সিংহভাগ হিন্দু মাছ-মাংস অর্থাৎ আমিষ খান না, এবং অনেকে তাদের কাছে অভিযোগ করেছেন দোকানে মাংস দেখে তাঁরা অস্বস্তিতে ভোগেন । আর এই কারণ দেখিয়েই মাংসের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে । যদিও এই সিদ্ধান্তে প্রচুর মানুষ, এমনকি অনেক হিন্দুও, তাঁদের ক্ষোভ সোশ্যাল মিডিয়াতে উগরে দিয়েছেন । তাঁরা বলছেন, এ ধরণের সিদ্ধান্তে ভারতের বহুত্ববাদ লঙ্ঘিত হয়েছে। নবরাত্রি উদযাপনে সময় ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের অনেকে মাংস খান না। অনেকে পেঁয়াজ-রসুনও খান না।
দিল্লির সরকার অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির যুক্তি তাঁরা মাংসের দোকান বন্ধ রাখা নিয়ে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। যে দুই মেয়র ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত মাংসের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছেন তাঁরা ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপির সঙ্গে জড়িত ।
মাংস বিক্রির বন্ধ —নির্দেশের কড়া সমালোচনা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকে বলছেন নিজের মাংস না খাওয়ার যুক্তিতে অন্যের মাংস খাওয়ার অধিকার বা অন্যের জীবিকার অধিকার লঙ্ঘন করা যায়না ।
লোকসভার সদস্য এবং তূণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র তাঁর টুইটে লিখেছেন, ‘ভারতের সংবিধান আমাদের খুশিমতো যে কোনো সময়ে যে কোনো খাবার খাওয়ার অধিকার দিয়েছে । ‘
জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ তাঁর টুইটে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন—তাহলে কি রোজার মাসে মুসলিম প্রধান এই রাজ্যে সমস্ত অমুসলিম এবং পর্যটকদের জনসমক্ষে খাওয়া নিষিদ্ধ করে দেওয়া যাবে?
অনেকে আবার প্রশ্ন করছেন অনেক হিন্দু যখন নবরাত্রিতে পেঁয়াজ রসুনও ছোঁননা, তাহলে সেগুলোর বিক্রি কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছেনা । ‘শুধু মাংসের বেলায় এই সিদ্ধান্ত কেন?’
টুইটারে একজন লিখেছেন, ‘হোটেলে গিয়ে মাংস খাওয়া চলছে । অনলাইনে বিক্রেতারা মাংস সরবরাহ করছেন। কিন্তু গরীব মুসলিমদের মাংসের দোকান খোলা রাখলেই শুধু হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। ‘
দক্ষিণ দিল্লি পৌর কর্পোরেশনের মেয়র মুকেশ সুরায়ান চৌঠা এপ্রিল এক চিঠিতে বলেছেন, ‘ভক্তরা যখন পূজা দিতে যাওয়ার সময় মাংসের দোকানের পাশ দিয়ে যান, সেসব দোকান থেকে আসা গন্ধ যখন তাঁদের নাকে যায়, তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অনুভূতিতে আঘাত লাগে।’
এএনআইকে তিনি বলেছেন, ‘নবরাত্রির সময়, দিল্লির ৯৯ শতাংশ বাড়িতে এমনকি পেঁয়াজ-রসুনও ব্যবহার করা হয়না। সুতরাং দক্ষিণ দিল্লিতে মাংসের দোকান খোলা থাকতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ‘
তিনি বলেন, নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানা করা হবে । পূর্ব দিল্লির মেয়র শ্যাম সুন্দর আগারওয়াল বলেছেন, ‘যদি কেউ এ সময়ে মাংস বিক্রি করেন, সেই মাংস হয় পচা হবে – না হয় অবৈধভাবে জবাই করা পশুর মাংস হবে । সুতরাং আমি ১৬টি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করে দিয়েছি যারা এ ধরনের মাংস ব্যবসায়ীর ওপর নজর রাখবে এবং প্রয়োজনমত ব্যবস্থা নেবে ।’
মাংসের দোকান বন্ধ রাখার জন্য দক্ষিণ দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত কোনো নির্দেশনা জারী করা হয়েছে কিনা তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।অনেক দোকান মালিক এমন কোনো নির্দেশনা না পেলেও ভয়ে তাঁরা দোকান বন্ধ রেখেছেন বলেই খবর ইংরেজি সংবাদপত্রের ।
দক্ষিণ দিল্লিতে প্রায় ১৫০০ নিবন্ধিত মাংসের দোকান রয়েছে । সাধারণ একটি বিশ্বাস রয়েছে যে ভারতের সিংহভাগ মানুষই মাংসভোজী নন, গবেষণা বলছে সে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ নিরামিষাশী। ভারতের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশই হিন্দু এবং তাঁরাই মাংসের প্রধান ভোক্তা। রাজধানী দিল্লির বাসিন্দাদের বড়জোর এক-তৃতীয়াংশ নিরামিষাশী, এবং দিল্লি ভারতের ‘বাটার-চিকেন ক্যাপিটাল’ বলে খ্যাতি পেয়েছে ।
❤ Support Us







