Advertisement
  • দে । শ
  • আগস্ট ৩১, ২০২৬

চুনকামের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যাদবপুরে ফের দেওয়াল লিখন, মার্ক্সের উক্তি ঘিরে নতুন বিতর্ক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
চুনকামের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যাদবপুরে ফের দেওয়াল লিখন, মার্ক্সের উক্তি ঘিরে নতুন বিতর্ক

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেওয়াল লিখন ঘিরে বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিয়েছে । মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেওয়াল থেকে বিতর্কিত স্লোগান ও গ্রাফিতি মুছে চুনকাম করার পর ১২ ঘণ্টা না কাটতেই ফের একটি দেওয়ালে লেখা হল কার্ল মার্ক্সের চার লাইনের উক্তি । রাতের অন্ধকারে কারা এই দেওয়াল লিখেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয় । তবে লেখার ধরন ও মার্ক্সের উক্তি ব্যবহারের কারণে এর পিছনে বামপন্থী বা অতিবামপন্থী ছাত্রদের হাত রয়েছে বলে দাবি উঠেছে ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত প্রেক্ষাগৃহ বা ওপেন এয়ার থিয়েটারের যে দেওয়ালে রবিবার চুনকাম করা হয়েছিল, সেখানেই রাতের অন্ধকারে ফের ফুটে উঠেছে নতুন লেখা । কার্ল মার্ক্সের নামে লেখা ওই চার লাইনের উক্তির বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় — ‘আমাদের করুণা নেই । আমরা তোমাদের কাছ থেকেও কোনও করুণা চাই না । যখন আমাদের পালা আসবে, তখনকার সন্ত্রাসের জন্য কোনও অজুহাত খুঁজব না ।’

এই নতুন দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে । এবিভিপির দাবি, এই দেওয়াল লিখন অতিবাম অর্থাৎ নকশালপন্থীদের কাজ । সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযোগ জানানো হবে । অন্যদিকে, এসএফআই জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে নয়, তারা দিনের আলোতেই ফের দেওয়াল লিখন করবে । তবে নতুন মার্ক্স-উক্তি লেখা নিয়ে এসএফআইয়ের তরফে এখনও কোনও নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি ।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল লিখন ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপড়েন থেকেই । মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিতর্কিত দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি মুছে ফেলার কাজ শুরু হয় । রবিবার ক্যাম্পাসের যেখানে যেখানে দেওয়াল লিখন ছিল, সেগুলি চুনকাম করে দেওয়া হয় । এবিভিপির দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই এই দেওয়াল লিখন মুছে দিয়েছে । বিষয়টি নিয়ে সিপিএম ও এসএফআই পালটা প্রশ্ন তোলে ।

তরুণ সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোনটি ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ছিল ? তাঁর বক্তব্য, ‘সবার জন্য শিক্ষা চাই, শিক্ষা শেষে কাজ চাই’— এই দাবি কি দেশবিরোধী ? অন্যদিকে, এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘দেওয়াল মুছে ইতিহাস মোছা যায় না !’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, ছাত্র ভোট আয়োজন করা হোক এবং ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের প্রতিনিধিদের বেছে নিক ।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘কিষেণজি জিন্দাবাদ’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাম্য নয় এবং এগুলি দেশবিরোধিতার সঙ্গে যুক্ত । সেই কারণেই ওই ধরনের দেওয়াল লিখন ও গ্রাফিতি মুছে ফেলার পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি ।

এর মধ্যেই চুনকাম করা দেওয়ালে ফের মার্ক্সের উক্তি লেখা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে । রাতারাতি মুছে ফেলা দেওয়ালের উপর আবার লেখাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে — কারা এই কাজ করল এবং কেন রাতের অন্ধকারেই এই দেওয়াল লিখন ? এখনও তার কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি ।

এদিকে, রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘‘কার্ল মার্ক্সের নীতি নিষিদ্ধ হয়নি, তাঁর উক্তি কেউ লিখতেই পারে ।’’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!