Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • মার্চ ১৪, ২০২৬

টলিপাড়ায় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ বিতর্ক, সংঘাতে দেব-স্বরূপ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
টলিপাড়ায় ‘স্বাস্থ্যসাথী’ বিতর্ক, সংঘাতে দেব-স্বরূপ

টলিউডের অন্দরে স্বাস্থ্যবিমা ঘিরে নতুন বিতর্ক। যুযুধান লড়াইয়ে অভিনেতা-সাংসদ দেব এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সামনে রেখে যে উদ্যোগের সূচনা হয়েছিলসে উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে চাপা দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনে দিল। সামনে এসেছে বিরোধিতাঅভিযোগ এবং ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত থ্রেট কালচার’-এর প্রসঙ্গ। স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প নিয়ে স্বরূপের বিরূপ মন্তব্য হজম করতে পারছেন না বাংলা সিনেমার ‘খোকাবাবু’। কড়া ভাষায় ফেডারেশন সভাপতিকে আক্রমণ করলেন তিনি। বললেন, ‘স্বরূপদা যদি বলেন স্বাস্থ্যসাথী ভালো নয়তার উত্তর দেওয়া উচিত তাঁরই বড় ভাই রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। যিনি বহুদিন ধরে শহরে-গ্রামে এই প্রকল্পের হয়ে প্রচার করেছেন।’

ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। টলিপাড়ার বহু টেকনিশিয়ান দীর্ঘদিন ধরে যে স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা পেতেনতা হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। পূর্ব ভারতের সিনেমা টেকনিশিয়ানদের সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-এর অধীনে কাজ করা প্রায়  হাজারের বেশি কর্মী আগে পাঁচ লক্ষ টাকার মেডিক্লেম সুবিধা পেতেন। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন বহু পরিবার। অসুস্থতা কিংবা দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে চিকিৎসার খরচ কী ভাবে সামলানো হবেতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এ পরিস্থিতিতেই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি চিঠি লেখেন দেব। চিঠিতে তিনি টেকনিশিয়ানদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি অনুরোধ জানানযাঁরা এখনো ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় আসেননিতাঁদের দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হোক। ওই আবেদনে সারা দেয় নবান্ন, সে পরিপ্রেক্ষিতেই শনিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিও চত্বরে আয়োজিত হয় বিশেষ শিবির। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন বিভাগের কলাকুশলীরা। কেউ নতুন করে নাম নথিভুক্ত করতে এসেছেনকেউ আবার পরিবারের বিদ্যমান কার্ডে নিজের নাম যুক্ত করতে হাজির। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে। অনেকেই হাতেগড়মেই  স্বাস্থ্যসাথী’-র ই-কার্ড হাতে পান। স্বাস্থ্যভবনের কর্মীরা জানান, এত সংখ্যক আবেদন এক দিনে সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তাই আগামী কয়েক দিন ধরে এই প্রক্রিয়া চালু থাকবে।

এই উদ্যোগের মধ্যেই সামনে আসে অন্য সুর। অভিযোগ ওঠেকিছু গিল্ড সদস্যকে নাকি এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নাম তুললে কাজ হারানোর আশঙ্কার কথাও শোনা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টেকনিশিয়ান জানান, ‘আজ কার্ড করতে এলাম ঠিকইকিন্তু কাল থেকে কাজ থাকবে কি না জানি না।’ শনিবার স্টুডিও চত্বরে উপস্থিত ছিলেন দেব। টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে কথা বলে এবং গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করে তিনি জানানতাঁদের অনুরোধ রাখতে পেরে তিনি খুশি। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। হাজার হাজার টেকনিশিয়ান এর ফলে উপকৃত হবেন।’ সাংবাদিকরা যখন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের মন্তব্য প্রসঙ্গ তুললেনতখনই পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয়। স্বরূপ বিশ্বাস আগেই দাবি করেছিলেনআগের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে নাকি সুবিধা বেশি ছিল। সে প্রসঙ্গে দেবের মন্তব্য, ‘স্বরূপ বিশ্বাস বলছেন স্বাস্থ্যসাথী ভাল নয়। এর জবাব সবথেকে ভাল দিতে পারেন অরূপ বিশ্বাস। উনি বহু বছর ধরে মন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের গ্রামে গ্রামে প্রচার করেছেন। এখন যদি তাঁরই ভাই বলেন প্রকল্পটি ততটা ভাল নয়তাহলে তার ব্যাখ্যাও তাঁরই দেওয়া উচিত।

দেব আরও বলেনস্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বহু মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন এবং এটি একটি স্বীকৃত প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন রাজ্যও এই মডেল অনুসরণ করে নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘এই প্রকল্প মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে হয়েছে। এখন যদি কেউ এটাকে প্রশ্ন করেনতাহলে সেটা সরাসরি সেই উদ্যোগকেই চ্যালেঞ্জ করা।’ স্বরূপ বিশ্বাসকে উদ্দেশ করে দেবের কটাক্ষও ছিল স্পষ্ট। খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘স্বরূপদার হয়তো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের দরকার নেই। ওঁর যথেষ্ট উপার্জন আছে। কিন্তু টেকনিশিয়ানদের এই সুবিধাটা খুব দরকার। আমাদের সংসার যেমন শুটিংয়ের টাকায় চলেটেকনিশিয়ানদের সংসারও তেমনই চলে। তাই তাঁদের কষ্টটা আমরা বুঝি। এসি ঘরে বসে বড় দাদা হওয়ার দাদাগিরি দেখানোর বদলে একবার বাইরে বেরিয়ে তাঁদের কথা ভাবা দরকার।

এখানেই শেষ নয়। দেবের দাবিএই উদ্যোগের জন্য তাঁকেও নাকি সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে কাল থেকে তোমাকে ব্যান করে দেব। এসব করো না। আমি বলেছিমানুষের ভালোর জন্য যদি ব্যান হতে হয়তাতেও রাজি আছি।’ ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে থ্রেট কালচার’-এর অভিযোগও তিনি উত্থাপন করেছেন এবং সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন বলেও জানান। এ ঘটনায় টলিপাড়ার অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এক দিকে হাজার হাজার টেকনিশিয়ানের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দাবিঅন্য দিকে ইন্ডাস্ট্রির সংগঠনগুলির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনসব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। প্রশ্ন উঠছে, ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প নিয়ে এই বিতর্ক কি শুধুই একটি স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত মতভেদনাকি এর আড়ালে রয়েছে টলিউডের ক্ষমতার রাজনীতির অন্য কোনো সমীকরণ!


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!