Advertisement
  • ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
  • অক্টোবর ৬, ২০২৫

সংরক্ষণ করা হোক চৈতন্যদেবের জীবনীকারের অনুলিপি, উঠছে দাবি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সংরক্ষণ করা হোক চৈতন্যদেবের জীবনীকারের অনুলিপি, উঠছে দাবি

চৈতন্যদেবের প্রামাণ্য জীবনীগ্রন্থের মর্যাদা দেওয়া হয় কৃষ্ণদাস কবিরাজকে। তাঁর হাতে লেখা ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থের অনুলিপি বৈজ্ঞানিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে। আক্ষেপ কৃষ্ণদাসের তিরোভাব তিথি উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলায় আসা কীর্তনিয়া, পুণ্যার্থী থেকে দর্শনার্থীদের।  কেতুগ্রামের ঝামটপুরে জন্ম চৈতন্যদেবের প্রামাণিক জীবনচরিত ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’র স্রষ্টা কৃষ্ণদাস কবিরাজের। শুধু এই গ্রন্থটিই নয় কৃষ্ণদাসের লেখা গোবিন্দলীলামৃত, অদ্বৈতসূত্র কড়চা, স্বজপর্বনম, কৃষ্ণকথামৃত গ্রন্থগুলিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কবির বসতভিটের গায়েই গড়ে উঠেছিল ‘কৃষ্ণদাস কবিরাজ স্মৃতি পাঠাগার’। সেটির অস্তিত্ব কবেই মুছে গিয়েছে। ফি-আশ্বিনের শুক্লা দ্বাদশী তিথিতে কৃষ্ণদাসের ভিটের সামনে ফি-বছর বসে ৪ দিনের কীর্তন মেলা। রাজ্য-ভিনরাজ্য, এমনকী বাংলাদেশের কীর্তনিয়া ও বৈষ্ণব ভক্তরা এই মেলায় যোগ দেন।

কাটোয়ার প্রাচীন ইতিহাস ও সংস্কৃতি গবেষক রণদেব মুখোপাধ্যায়ের দাবি, ‘এই মেলার গুরুত্বপূর্ণ নান্দনিক বৈশিষ্ট্য হল, এখানে কীর্তনের নামকীর্তন, রেনেটি কীর্তন, পদাবলি কীর্তন, মনোহরশাহি কীর্তন, লীলা কীর্তনের মত বিভিন্ন ঘরানার কীর্তনের প্রদর্শন হয় মেলা চত্বরে।’ মেলায় অন্নভোগ, চিঁড়া ভোগের আয়োজন হয়। এবারও লাখের উপর মানুষের জমায়েত হয়েছে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশ, প্রশাসন। কৃষ্ণদাসের সৃষ্টি, স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে জানালেন কেতুগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ।

এখানে কৃষ্ণদাসের কাষ্ঠপাদুকা, তাঁর আরাধ্য গোপাল মূর্তি আর তুলোট কাগজে লেখা ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’র অনুলিপি দেখতে বৈষ্ণবপ্রাণ ভক্তজনতো বটেই, বৈষ্ণব সাহিত্য গবেষকরাও ভিড় জমান। বৈষ্ণব ভক্তদের বিশ্বাস, ‘কৃষ্ণদাস গোঁসাইয়ের ভিটের মাটি অঙ্গে ধারণ করলে সারা বছর সুখে-শান্তিতে কাটে।’ কৃষ্ণদাসের চৈতন্যজীবনী গ্রন্থ রচনার কাহিনীটিও বেশ আকর্ষক। ৮০ বছর বয়সে ১৫৯০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ঝামটপুরে বসেই এই মহাগ্রন্থ রচনা শুরু করেন কৃষ্ণদাস। মাঝপথে শ্রীজীব গোস্বামীর ডাকে বৃন্দাবন রওনা হন তিনি। সেখানে বসেই ৩ খণ্ডে ৬২ অধ্যায়ে বিন্যস্ত ১২ হাজার ৫১টি শ্লোক সমৃদ্ধ ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থটি শেষ করেন ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ। গ্রন্থ শেষ হওয়ার পর সেটি চৈতন্যদেবের জন্মস্থান নবদ্বীপে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। গ্রন্থ-সহ বেশকিছু মূল্যবান নথি নিয়ে নবদ্বীপে আসছিলেন তিন মহা-বৈষ্ণব শ্রীনিবাস আচার্য, শ্যামানন্দ আর নরোত্তম দাস। পথে হাম্বীর রাজার এলাকায় পোঁটলাবন্দি সেই গ্রন্থ ও নথি ছিনিয়ে নেয় একদল দস্যু। মূলত শ্রীনিবাসের চেষ্টায় জীবনী-নথি শেষমেশ উদ্ধার হয়। তবে সে ঘটনা দেখে যেতে পারেননি কৃষ্ণদাস। নথি বলছে, নিজের গ্রন্থ লুটের খবর শুনে এতটাই শোকাতুর হয়ে পড়েন  কৃষ্ণদাস, যে কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!