- দে । শ
- জুলাই ২০, ২০২৬
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে শারীরিক আক্রমণের হুকমি ! বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে গ্রেফতার তামিলনাড়ুর ডিএমকে বিধায়ক
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়কে প্রকাশ্য সভা থেকে ‘হাড় ভেঙে দেওয়ার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার তুতিকোরিন জেলার বিলাথিকুলাম কেন্দ্রের দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (ডিএমকে)-এর বিধায়ক জি. ভি. মার্কান্দেয়নকে। সোমবার ভোরে তাঁকে বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। কিছু ক্ষণের জন্য পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ারও চেষ্টা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বলপ্রয়োগ করে পুলিশ।
শনিবার রাতে, একটি সভায় বক্তৃতা করেছিলেন মার্কান্দেয়ন। সে সভারই একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে উদ্দেশ করে তিনি একাধিক কড়া মন্তব্য করছেন। অভিযোগ, বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, বিধানসভার ভিতরেই মুখ্যমন্ত্রীর ‘হাড় ভেঙে দেওয়া হবে’। শুধু তা-ই নয়, মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ, তাঁর বিধানসভায় আচরণ নিয়ে কটাক্ষ এবং শারীরিক আঘাতের ইঙ্গিতবাহী মন্তব্যও করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ভাইরাল হতেই তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিতর্কিত বক্তৃতার পর, রবিবারই তামিলাগা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে)-এর উত্তর-পূর্ব জেলা যুগ্ম সম্পাদক পি. কাসিরামন তুতিকোরিনের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মার্কান্দেয়নের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তুতিকোরিন জেলা ক্রাইম ব্রাঞ্চ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৩৫১(৩), ৩৫২ এবং ৩৫৩(২) ধারায় মার্কান্দেয়নের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। তার পরই সোমবার ভোরে জেলা ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল বিলাথিকুলামে তাঁর বাড়িতে পৌঁছয়। প্রশাসনের অভিযোগ, পুলিশ বিধায়ককে গ্রেফতার করতে গেলে বাড়ির বাইরে জড়ো হন ডিএমকে-র কর্মী-সমর্থকেরা। পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। এক সময় বিধায়ককে নিয়ে যাওয়া পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ারও চেষ্টা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পুলিশ বলপ্রয়োগ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পরে জেলা ক্রাইম ব্রাঞ্চের পরিদর্শক পি. জানকির নেতৃত্বে মার্কান্দেয়নকে গ্রেফতার করে তুতিকোরিনের পুলিশ সুপারের দফতরে নিয়ে যাওয়া হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে দিনের মধ্যেই আদালতে পেশ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত সে বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের নয়া কৃষিনীতি নিয়েও সরব হন বিধায়ক মার্কান্দেয়ন। বিশেষ করে কৃষিঋণ মকুবের ক্ষেত্রে সরকার যে মানদণ্ড অনুসরণ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ কৃষকদের ক্ষেত্রে আলাদা নীতি গ্রহণ করে বৈষম্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তবে রাজনৈতিক সমালোচনার গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর বক্তব্যে শারীরিক আক্রমণের হুমকি আর ব্যক্তিগত কটাক্ষের অভিযোগই শেষ পর্যন্ত আইনি জটিলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডিএমকে বিধায়কের গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
❤ Support Us





