- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৫, ২০২৫
মহারাষ্ট্রে ‘লড়কি বহিন’ প্রকল্পে অনিয়ম, রাজ্যের দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর জেলাতেই অভিযোগ বেশি
মহারাষ্ট্র সরকারের ‘লড়কি বহিন যোজনা’-য় ভুয়ো উপভোক্তার ভিড় ! মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস স্বীকার করেছেন, আদতে যোগ্য নন, এমন বহুজন এ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে উপভোক্তা তালিকায় থাকা ২৬ লক্ষ নাম নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তদন্ত।
প্রকল্প অনুযায়ী, প্রতি পরিবারে ২১ থেকে ৬৫ বছর বয়সী সর্বোচ্চ ২ জন মহিলাকে মাসে ১,৫০০ করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো পরিবারে ৩ থেকে ৪ জন মহিলা একসঙ্গে সেই টাকা তুলেছেন। কেউ কেউ আবার বয়সের নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়েও উপভোক্তা হয়েছেন। এখানেই শেষ নয়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ভুয়ো উপভোক্তাদের বড়ো অংশই রাজ্যের ২ উপ-মুখ্যমন্ত্রী— একনাথ শিন্ডে ও অজিত পওয়ারের নিজ নিজ জেলা থানে ও পুণের। এ তালিকায় রয়েছে আরো কয়েক জন শীর্ষ মন্ত্রীর এলাকাও।
এদিন এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিস বলেন, ‘যাঁরা অবৈধভাবে প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের টাকা বন্ধ করা হবে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে ব্যপক অনিয়মের কথা সামনে আসতে, প্রশ্ন উঠেছে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও। এনসিপি (এসপি) বিধায়ক রোহিত পওয়ারের প্রশ্ন, ‘সরকারের কাছে যখন আবেদন যাচাইয়ের সমস্ত পরিকাঠামো ছিল, তখন এত ভুয়ো আবেদন কী করে গৃহীত হল? বিশেষ করে উপ-মুখ্যমন্ত্রীদের জেলাগুলিতে সর্বাধিক ভুয়ো নাম পাওয়াটা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ।’ মুখ খুলেছেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার নিজেও। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে খানিক তাচ্ছিল্য ভঙ্গিতেই তাঁর জবাব, ‘তাহলে কি প্রকল্পটাই বন্ধ করে দেব?’ বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ‘মহাযুতি সরকার’ রাজনৈতিক স্বার্থে এ প্রকল্প চালু করেছিল নির্বাচনের আগে। এখন যখন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন মুখ বাঁচাতে তড়িঘড়ি তদন্তের কথা বলা হচ্ছে। বাংলার ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’-এর আদলে তৈরি প্রকল্প, এ মুহূর্তে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ‘লড়কি বহিন যোজনা’ মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার জন্যই চালু করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক গাফিলতিতেই সে প্রকল্প এখন সরকারের গলায় গামছা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
❤ Support Us







