Advertisement
  • Uncategorized দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ২৪, ২০২৪

শুরু সংসদের প্রথম অধিবেশন, প্রোটেম স্পিকারের নির্বাচন ঘিরে সংসদ চত্বরে ধর্না বিরোধীদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শুরু সংসদের প্রথম অধিবেশন, প্রোটেম স্পিকারের নির্বাচন ঘিরে সংসদ চত্বরে ধর্না বিরোধীদের

শুরু হল অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশন। প্রোটোকল অনুযায়ী লোকসভার অধ্যক্ষ সাংসদদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন । ইতিমধ্যে সকাল বেলা রাষ্ট্রপতি ভবনে দ্রৌপদি মুর্মুর কাছে প্রোটেম স্পিকার রূপে শপথ নিয়েছেন ভর্তৃহরি মহতাব। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর মন্ত্রীসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরু হওয়ার পূর্বে নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী সংসদদের শপথ বাক্য করালেন তিনি।
অধিবেশন শুরুর পর সাংসদ রূপে শপথ নিয়েছেন মোদি। তাঁর দলের বাকিরাও একে একে শপথ নিয়েছেন। এই পর্ব চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত। অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। তারপর শুরু হয় অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশন। প্রোটেম স্পিকার ভর্তৃহরি মহতাব প্রধানমন্ত্রীকে ‘লোকসভার নেতা’ রূপে গ্রহণ করেন। এ দিন ওয়েনাড়ের সাংসদ রূপে রাহুল গান্ধির ইস্তফা পত্র গ্রহণ করেন মোদি।
মোদির ভাষণের বেশীরভাগ অংশ জুড়ে ছিল ইন্দিরা গান্ধি সময়কালীন জরুরি অবস্থা। তিনি বলেছেন, ৫০ বছর আগে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। তা ছিল দেশের অন্ধকারতম অধ্যায়। গণতন্ত্রের উপর কালো দাগ।তাঁর দাবি, আর কখনও সেই আঁধার নেমে আসবে না এই দেশে। পাশাপাশি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে তাঁরা বক্তব্য , তাঁরা বিরোধী রূপে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করুন। কারণ মানুষ শ্লোগান নয়, কাজ চায়।
যদিও ভর্তৃহরি মহতাবকে ‘প্রোটেম স্পিকার’ করার জন্য শাসক দলের ওপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ কংগ্রেস শিবির। তাদের দাবি , যিনি সবথেকে বেশিবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন , তিনিই লোকসভার অধ্যক্ষরূপে স্বীকৃতি পান। সে অনুযায়ী কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ সাতবারের নির্বাচিত সাংসদ ভর্তৃহরি মহতাবের থেকে এগিয়ে আছেন। তিনি মোট আটবার জিতেছেন । সেক্ষেত্রে তাঁর দাবি, এন ডি এ জোট সরকার প্রথাবিরোধী কাজ করেছে। ফলে এ বিষয়ে বিরোধীরা শাসক দলের ওপর রীতিমতো অসন্তুষ্ট।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভা অধ্যক্ষ নির্বাচনে আসল সংঘাত লাগবে। এর আগের সতেরোটি লোকসভা নির্বাচনে কোনও নির্বাচন প্রক্রিয়া ছাড়া, সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছে। তবে এবার বিরোধীরা শাসক দলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রার্থী দাঁড় করানোর কথা চিন্তা করেছে। এদিকে জোট শরিকদের কথাও নরেন্দ্র মোদিকে ভাবতে হবে। ফলে দুপক্ষের তরফে দ্বন্দের বাতাবরণ সৃষ্টি হওয়ার আগাম আভাস লক্ষ্য করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

এ রাজ্যের তরফে তৃণমূল সাংসদেরা একশো দিনের কাজের টাকা, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাংলার বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে সরব হতে পারে বলে রাজনৈতিকরা মনে করছেন ।

আগামী তিনদিন নতুন সাংসদদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলবে। তার মধ্যে শাসক দলকে প্রথম দিন থেকেই বিরোধীদের তরফে কোন কোন বাউন্সারের মুখোমুখি হতে হবে , তা ক্রমশ প্রকাশ্য।

জানা গিয়েছিল, অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করবে বিরোধীরা। সকাল সাড়ে নটায় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের দু নম্বর দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে সংবিধানের একটি করে কপি ছিল । অধিবেশনে রেল দুর্ঘটনা, শেয়ার কেলেঙ্কারি, নিট ও নেট কেলেঙ্কারি নিয়ে বিরোধী পক্ষের সরব হবার পরিকল্পনা ছিল । কংগ্রেস , তৃণমূল , সমাজবাদী পার্টি, ডি এম কে-র মতো দল একসঙ্গে সরব হবে।  পাশাপাশি আগামী মাস থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিতর্কিত তিনটি আইন নিয়েও সংসদে কথা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ গত বছর প্রায় বিরোধী শূন্য সংসদে এই আইন জোর করে পাশ করানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। তাই অধিবেশন শুরুর প্রথম দিন সরকার পক্ষ কিছুটা চাপে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা মোতাবেক , ইতিমধ্যে সংসদ চত্বরে বিরোধীরা ধর্না প্রদর্শন করতে শুরু করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রোটেম স্পিকার রূপে কংগ্রেস পক্ষের কে সুরেশকে নির্বাচিত না করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন তাঁরা। সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় , সৌগত রায় প্রমুখ সবাই এই ধর্নায় অংশ নিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগই জানিয়েছেন, কে সুরেশ যদি প্রোটেম স্পিকার রূপে শপথ নিতেন তাহলে সারা দেশের দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে একটি বার্তা যেত। এই সরকার যত না কে সুরেশের সঙ্গে অন্যায় করল, তার চেয়ে বেশি দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে অন্যায় করল। যদিও বিজেপির প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার শাসক দলের তরফে জানিয়েছেন , ভর্তৃহরি মহতাব একটানা সাত বার সাংসদ রূপে নির্বাচিত হয়েছেন বলে তাঁকে ওই পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। কে সুরেশ আটবার নির্বাচিত হয়েছেন ঠিকই। তবে তা ধারাবাহিক রূপে নয়। তাই তাঁকে নির্বাচিত করা হয়নি।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের অভিযোগ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সঙ্গে ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে যে চুক্তি করল, তাতে এই রাজ্যকেই তারা আমন্ত্রণ করেনি। রাজ্যকে বঞ্চিত করে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত করার বিষয়টি খুব একটা ভালো চোখে দেখছেন না তাঁরা। ফলে সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে বিরোধীদের রনং দেহি মূর্তিতে কিছুটা কি ব্যাকফুটে এন ডি এ শাসিত জোট সরকার ? উঠছে প্রশ্ন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!