- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৮, ২০২৫
পাঞ্জাবে বন্যার তাণ্ডব, প্লাবিত ১০ জেলা, ভেসে গেল স্কুল। সেনা-এনডিআরএফ যৌথ অভিযানে উদ্ধার ৪০০ পড়ুয়া ও শিক্ষক
উজানের বৃষ্টিতে গর্জে উঠেছে পাঞ্জাবের নদীগুলি। হিমাচল প্রদেশের টানা প্রবল বর্ষণ, তার উপর ভাকরা, পং ও রণজিৎ সাগর ড্যাম থেকে বিপুল জল ছাড়ার ফলে অশান্ত হয়ে উঠেছে শতদ্রু, রবি ও বেয়াস। জলে টইটম্বুর পাঞ্জাবের একের পর এক জেলা। বুধবার পর্যন্ত রাজ্যের ১০টিরও বেশি জেলায় শতাধিক গ্রাম জলের নীচে। সবচেয়ে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি গুরুদাসপুর, পাঠানকোট ও অমৃতসর। বন্যা পরিস্থিতিতে, গুরুদাসপুরে জলবন্দি হয়ে পড়েন একটি স্কুলের পড়ুয়া ও শিক্ষক-কর্মীরা, তাঁদের উদ্ধার করেছে সেনা আর জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর যৌথ দল।
জানা যাচ্ছে, গুরুদাসপুর জেলার ডাবুরি গ্রামে জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে আটকে পড়েছিলেন প্রায় ৪০০ ছাত্রছাত্রী ও ৪০ জন শিক্ষক-কর্মী। প্রবল স্রোতের মাঝে উদ্ধারকাজে নামে সেনা ও এনডিআরএফ-এর যৌথ বাহিনী। সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন খালসা এইড-এর স্বেচ্ছাসেবক দল এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। নৌকা ও হেলিকপ্টারে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। গ্রামবাসীদের ট্রাক্টর-ট্রলিগুলিকেও কাজে লাগানো হয় । দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় একে একে সকলকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।
দুর্যোগ ঠেকাতে পারেনি মাধোপুর হেডওয়ার্কের ফ্লাডগেট। এটি রবি নদীর জল সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুদাসপুর, অমৃতসর ও তরণতারণে সরবরাহ করে। গেট ভেঙে পড়ায় রবি নদীর জল হু হু করে ঢুকে পড়ে আশপাশের গ্রামে। সেখানকার এক বহুতলের ছাদে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। সেনার হেলিকপ্টার এসে তাঁদের উদ্ধার করে। বাঁচানো যায় সকলকে। কাকতালীয়ভাবে উদ্ধারের কিছুক্ষণের মধ্যেই ধসে পড়ে বহুতলটি। পাশাপাশি, অমৃতসর জেলার আজনালায় রবি নদীর ধুসসি বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়ে একাধিক গ্রামে। কৃষিজমি, বাড়িঘর সবই জলের তলায়। বহু পরিবারকে দ্রুত স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে পাঠানকোটের বিস্তীর্ণ অংশও, বিশেষ করে রণজিৎ সাগর ড্যাম থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
এ দিন দুপুরে গুরুদাসপুরের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। দুর্গত এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি ঘোষণা করেন, ‘রাজ্য সরকারের হেলিকপ্টার আপৎকালীন উদ্ধার এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজে লাগানো হচ্ছে।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘এখন থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় যাব সড়কপথে। জরুরি ভিত্তিতে সব রকম সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হবে। হেলিকপ্টার শুধুমাত্র দুর্গতদের কাজে লাগবে।’ রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত জেলার জেলা শাসক ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। জরুরি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে গুরুদাসপুর, পাঠানকোট ও অমৃতসরের বেশ কয়েকটি স্থানে। সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা-র সাহায্যে চলছে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ। গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে পাঞ্জাব সরকার। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পাঞ্জাবে নতুন করে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে পাহাড়ি অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে নদীর জলস্তর কমার সম্ভাবনা এখনই নেই।
❤ Support Us







