- প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫
শুক্রবার রাতেই শপথ, নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে সুশীলা কার্কি
অশান্ত নেপালকে শান্ত করার দায়িত্ব পেলেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হলেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তন ছাত্রী। শুক্রবার রাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তিনিই হলেন নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিসরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের পর পদত্যাগ করার চার দিন পর তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন সুশীলা কার্কি। নেপালের রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাউডেল ভারতীয় সময় শুক্রবার রাত ৯.৩০ মিনিটে কার্কিকে তাঁর বাসভবনে শপথবাক্য পাঠ করান। নেপালের সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদের অধীনে শপথ গ্রহণ করেন সুশীলা কার্কি। শপথ গ্রহণের পরপরই কার্কি তাঁর সরকারের প্রথম মন্ত্রীসভার বৈঠক করেন এবং ২০২৬ সালের ৪ মার্চ নতুন সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেন। আগামী ৬ মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শীঘ্রই করা হবে।
বর্তমান সরকার ভেঙে দিয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠান করা হবে। আজই একটা মন্ত্রীসভা গঠন করার কথা। নতুন মন্ত্রীসভার প্রথম বৈঠকে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া হবে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কার্কি জরুরি অবস্থা জারির সুপারিশও করতে পারেন। মন্ত্রীসভার সুপারিশ অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারির অনুমোদন দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদি রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন, তাহলে নেপাল জুড়ে জরুরি অবস্থা কার্যকর হবে।
শুক্রবার সকালে জেন জি–র নেতা সুদান গুরুং দেশের সেনাপ্রধানকে হুমকি দিয়েছিলেন যে, এদিনের মধ্যে সুশীলা কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা না করলে আবার নেপাল অশান্ত করে দেওয়া হবে। তাঁর সেই হুমকিতে কাজ হয়েছে। সেনাপ্রধান দফায় দফায় সুশীলা কার্কির সঙ্গে কথা বলেন। শেষ পর্যন্ত কার্কি দায়িত্ব গ্রহন করতে সম্মত হন। তবে তিনি সেনাপ্রধানের কাছে বেশ কয়েকটা শর্ত। কার্কির মূল দাবি ছিল সংসদ ভেঙে দেওয়া। সেনাপ্রধান সেই দাবিতে রাজি হন।
একজন প্রবীণ আইনবিদ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত কার্কি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী। সুশীলা কার্কি শপথ গ্রহণের সময় খুব বেশি উপস্থিতি ছিল না। সংসদের উভয় কক্ষের প্রধানরা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বর্জন করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল সুশীলা কার্কিকে পথ বাক্য পাঠ করান এবং দেশকে বাঁচাতে এবং সফল হওয়ার আহ্বান জানান। কার্কি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। আর কোনও মন্তব্য করেননি।
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার দেবরাজ ঘিমিরে এবং জাতীয় পরিষদের চেয়ারম্যান নারায়ণ দাহাল হাজির হননি। ঘিমিরে কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন–ইউএমএল এর প্রতিনিধি। আর দাহাল ‘প্রচণ্ডের’ মাওবাদী কেন্দ্রের সদস্য। তাঁদের এই শপথ অনুষ্ঠান বয়কট চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। যার মধ্যে রয়েছে মাওবাদী কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার অতীতের সিদ্ধান্তগুলিকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ। উভয় নেতার অনুপস্থিতি কার্কির বিধানসভায় আনুষ্ঠানিক প্রবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে থাকা বিভাজনগুলিকে তুলে ধরে।
ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভের ফলে প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর কেপি ওলির পূর্ববর্তী সরকার পতন ঘটে। নেপালি জেনারেল জেডের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী সহিংস বিক্ষোভে ৫১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে গাজিয়াবাদের একজন ভারতীয় মহিলা এবং তিনজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
❤ Support Us








