Advertisement
  • স | হ | জ | পা | ঠ
  • আগস্ট ৯, ২০২৩

অজি কৃষকের হাতে অজানা পাথর। অনুসন্ধানে মিলল বিরল প্রজাতির উভচরের সন্ধান

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অজি কৃষকের হাতে অজানা পাথর। অনুসন্ধানে মিলল বিরল প্রজাতির উভচরের সন্ধান

এক কৃষকের সূত্রেই খোঁজ মিলল টিকটিকিদের একটি প্রাচীন প্রজাতির। শেষ হল বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ আড়াই দশকের প্রতীক্ষার। পরীক্ষা করে দেখা গেছে উভচর এই প্রাণীটি প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লক্ষ বছর আগে পৃথিবীর বুকে বিচরণ করত। তারপর বিশাল কোনো বিপর্যয়ে মাটির নিচে চাপা পরে যায়। স্তরে স্তরে শিলায় তা সঞ্চিত হতে থাকে হয়ে যায় ছবি। বহু যুগ পর তারই ছবি থেকে বেরিয়ে এল জীব জগতের বিবর্তনের এক অজানা অধ্যায়। যা এ নিয়ে নতুন ভাবনা- চিন্তায় সহায়তা করবে।

আবিষ্কারের এ যাত্রাপথ শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। মিহাইল মিহাইলদি নামে এক কৃষক অষ্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের উমাইনাতে নিজের বাড়ির বাগান সংলগ্ন এক ভগ্ন প্রাচীর মেরামত করতে তৎপর হয়ে ওঠেন। সেই উদ্দেশ্যেই তিনি ১.৬ টন বেলে পাথরের স্ল্যাব নিয়ে আসেন। কিন্তু তা কাটতে গিয়ে তাজ্জব বনে যান তিনি। টিকটিকির মতো দেখতে এক অজানা জন্তুর ছবি দেখতে পান সেখানে। এ ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব কোনো ধারণা না থাকায় সিডনির সংগ্রহশালায় তিনি আসেন। তাঁদের হাতেই তুলে দেন রহস্যজনক সে শিলাখণ্ড। শুরু হয়, এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা কার্যকলাপ।

বহু চেষ্টা করেন অনেকে।তবে, কেউই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি। জীবাশ্মবিদ লাচলান হার্ট এর রহস্য ভেদ করেন। তিনি জানান, এটি একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর কঙ্কাল। যাঁর অবয়ব অনেকটাই টিকটিকির মতো। যাঁর মাথা ও ধড় একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। দৈর্ঘ্যে মূলত এরা ১.৫ মিটারের মতো হয়। ল্যাটিন ভাষায় যার নাম আর্নিপেটন সিউপিনেটাস। অর্থাৎ যা বালিতে হামাগুড়ি দিয়ে চলা এক প্রাণী। যদিও হার্ট আর তাঁর সহকর্মীদের মতে, এরা মূলত স্বাদু জলের জলাশয়গুলোতে বিচরণ করত। প্রকৃতপক্ষে এরা টেমনোস্পণ্ডাইল পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। আজ থেকে ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে যাদের প্রজাতি ধারাবাহিক অগ্ন্যুৎপাতের কারণে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় , বলাবাহুল্য একই সময়ে ডাইনোসোরাসদের ৭০ থেকে ৮০শতাংশ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

হার্ট আরো জানিয়েছেন, এই আবিষ্কার প্রমাণ করল অষ্ট্রেলিয়া এক সময় হল বিভিন্ন প্রাণীদের আবাস স্থল ছিল। গণহারে বিলুপ্তির পরও বহু বিপন্ন প্রায় জীবনের অস্তিত্ব এখানে রয়ে গেছে। নিজের ব্যক্তিগত উপলব্ধি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেছেন, সংগ্রহ শালায় বিরল প্রজাতির এই উভচর প্রাণীর জীবাশ্ম যখন দেখেছিলেন তাঁর বয়স ১২। ২৫ বছর পর তাঁর ও অন্যান্য জীব বিজ্ঞানীদের হাত ধরে রহস্য উন্মোচন হবে তা ভাবতে পারেন নি তিনি। স্বাভাবিককারণেই নব আবিষ্কারের কথা বলতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন ৩৭ বছরের এই জীবাশ্ম বিজ্ঞানী।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!