Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জুন ৭, ২০২৪

হিমালয়ে সাফাই অভিযান নেপাল সেনার। তিন শিখর থেকে ১১ টন জঞ্জাল উদ্বার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হিমালয়ে সাফাই অভিযান নেপাল সেনার। তিন শিখর থেকে ১১ টন জঞ্জাল উদ্বার

হিমালয়ের হাতছানি উপেক্ষা করা পর্বতারোহী মাত্রেই অসম্ভব। যুগের পর যুগ , বছরের পর বছর ধরে লক্ষ লক্ষ অভিযাত্রী মাউন্ট এভারেস্ট, লোৎসে, অন্নপূর্ণা, ফালুটের মতো পর্বতে পাড়ি দিয়েছেন। অসহনীয় পরিশ্রম সহ্য করে পর্বতের চুড়োয় উঠে দেশের পতাকা মাটিতে স্থাপন করার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। জর্জ ম্যালরি, এডমন্ড হিলারি বা তেনজিং হন বা দশবার এভারেস্ট বিজয়ী পেম্বা শেরপা; বাচেন্দ্রি পাল বা জাপানের জুনকো তাবেই; আমাদের রাজ্যের ছন্দা গায়েন হন বা সেনাবাহিনীর শিপ্রা মজুমদার কিংবা সামরিক ক্ষেত্রে প্রথম বাঙালি এভারেস্ট জয়ী সত্যব্রত দাম; এ হাতছানি উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি কারোর পক্ষে।

এই নেশার বশে দলে দলে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ নেপালে গিয়ে জড়ো হন, তারপর সেখান থেকে রওনা দেন যে যার গন্তব্যে। নেপালের রাষ্ট্রীয় আয়ের একটা বৃহৎ অংশ বহন করে এই অভিযানগুলি। তবে বিড়ম্বনাও কিছু কম নেই। প্রতি বছর অভিযাত্রী সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে পর্বতগুলিতে রাশিকৃত জঞ্জাল জড়ো হচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়ছে প্রকৃতি, সমস্যায় পড়ছেন অভিযাত্রীরাও। তাই নেপালের সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই জঞ্জালকে পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তাতেও খুব একটা সুরাহা হয়নি। ফলে অভিযাত্রীদের ওপরেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি হয়।

বিগত কয়েক মাসে নেপালের সেনাবাহিনী এভারেস্ট, লোৎসে প্রভৃতি পর্বত থেকে প্রায় ১১ টন জঞ্জাল উদ্ধার করেছে।শুধু আবর্জনা নয়, এভারেস্ট, নাতসে ও লোৎসে থেকে উদ্ধার হয়েছে চারটি মৃতদেহ ও একটি মানুষের মাথার খুলি। এসবের পরেও সেনাবাহিনী দাবি করেছে এভারেস্টে এখনও ৫৫ টন মতো আবর্জনা এবং প্রায় শ দুয়েক মৃতদেহ রয়ে গিয়েছে। সেগুলি এখনও সম্পূর্ণ উদ্ধার করা যায়নি। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট, নেপালের মানুষের কাছে পবিত্র ‘সাগর মাতা পর্বত’কে অনেকেই এখন ঠাট্টা করে ‘বিশ্বের সব থেকে উঁচুতে অবস্থিত ডাস্টবিন’ বলে থাকেন।

২০১৯ সালে এভারেস্টের উদ্দেশ্যে সব থেকে বেশি অভিযাত্রী পাড়ি জমান। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল ভিড়ের ছবিও। ওই পর্বতে সম্প্রতি নেপাল সেনাবাহিনী একটি সাফাই অভিযান চালায়। অভিযানে ১১৯ টন জঞ্জাল, ১৪ টি মৃতদেহ এবং বেশ অনেকগুলি মাথার খুলি উদ্ধার হয়েছিল।
চলতি বছরে আবর্জনা পরিষ্কার ও উদ্ধারকার্যের সুবিধার্থে অভিযাত্রীদের ট্র্যাকিং যন্ত্র পড়তে অনুরোধ করে সরকার। তাঁদের সমস্ত আবর্জনা তাঁদেরকেই বহন করে নিচে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

নেপালের পর্যটন মন্ত্রকের ডিরেক্টর রাকেশ গুরুং জানিয়েছেন, জঞ্জাল চিহ্নিতকরণের জন্য সরকার পর্বত অভিযাত্রীদের নিয়ে একটি দল গড়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছে। তার জন্য আর্থিক বরাদ্দের কথা তারা চিন্তাভাবনা করছে। যদিও গুরুং জানিয়েছেন যে, এ বছর অভিযানের পারমিটে বিশ্বজোড়া আর্থিক অবনতির প্রভাব পড়েছে। চিন ছাড়পত্র দিলেও ভারতের চলতি লোকসভা ভোটেরও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পর্যটনে।

নেপালের শীর্ষ আদালত সরকারকে পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রে রাশ টানতে নির্দেশ দিয়েছে। ফলে পর্যটনে তার প্রভাব পড়তে পারে। যদিও পারমিট দেওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যা কত , তা স্পষ্ট করেনি কোর্ট। গুরুং অবশ্য আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে এই নিয়ন্ত্রিত পারমিটের জন্য অভিযান চলাকালীন দুর্ঘটনা অনেক কম ঘটবে। পর্বতারোহীরা নিশ্চিন্তে অভিযান করতে পারবেন।

গত বছরের অভিযানের সময়সীমা এ বছরের মে মাসে সমাপ্ত হয়েছে। এ যাত্রায় সরকার ৪২১ জন অভিযাত্রী ও শেরপাসহ ৬০০ জনকে পারমিট দিয়েছে । তাও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। অভিযান চলাকালীন ৮ অভিযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন দানিয়েল প্যাটারসন ও তাঁর গাইড পাস্তেঞ্জি শেরপা। তাঁরা ২১ মে তুষারপাতে আটকে পড়েন। তারপর তাঁদের আর কোনও খোঁজ মেলেনি। প্যাটারসনের পরিবার অবশ্য অনুসন্ধান চালানোর জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করেন। কিন্তু তাঁর পরিবারকে জানানো হয়েছে, এখন এই পরিবেশে উদ্ধারকার্য পরিচালনা মোটেও সম্ভব নয়। ফলে হারিয়ে যাওয়া অভিযাত্রিকে কবে পাওয়া যাবে এবং এখনই বা তিনি কেমন আছেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁর পরিবার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!