- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১১, ২০২৩
ইসরাইলি অবরোধে গাজায় ভয়াবহ সঙ্কট। বিদ্যুৎহীন উপত্যকা
গাজার প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে জায়গাটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে এবং জ্বালানি হ্রাসের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের আকস্মিক হামলার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট গাজায় স্থল অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনী পঞ্চম যুদ্ধের দিনে গাজা উপত্যকায় গুলি চালিয়ে কমপক্ষে ১০৫৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা ১২০০ জনে পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে, ইসরায়েলি বাহিনী এবং লেবানন-ভিত্তিক হিজবুল্লাহ যোদ্ধারাও পরস্পরের মধ্যে গুলি বিনিময় করছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী আরও বলেছে যে সিরিয়া থেকে ছোড়া গোলাগুলি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে খোলা এলাকায় এসে পড়ছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী কত বড় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কতটা অর্থ সাহায্য পায়?
ইসরায়েলের আঞ্চলিক সামরিক আধিপত্য বজায় রাখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির একটি মূল উপাদান। এটি মার্কিন তহবিল এবং ইসরাইলি সামরিক অস্ত্রাগার বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক বোমাবর্ষণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া মোটেই বিস্ময়কর নয়। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল-আরিয়ান বলেছেন, “আমরা গাজায় অতীতের বোমা হামলার অভিযানে ইসরায়েলকে মুক্ত হস্ত দিতে দেখেছি।” তিনি বলেন, “কিন্তু আমি মনে করি না যে আমরা সম্পূর্ণরূপে অনিয়ন্ত্রিত সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে এরকম কিছু দেখেছি। এই খুব ছোট ভূখণ্ডে আবদ্ধ এবং ঘেরা জায়গায় এই আক্রমণ সম্পর্কে মার্কিনিদের প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনিদের এই মানবিক দুর্দশার কোন উল্লেখ নেই। কোনও জবাবদিহি নেই। আমরা জানি যে গাজা শুধু এই সপ্তাহের জন্য নয়, গত ১৬/১৭ বছর ধরে অবরোধের মধ্যে রয়েছে। যে কোনও উপায়ে এটি সর্বদা মার্কিন নীতিরই বাস্তবায়ন ছিল।”
ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড ঘোষণা করেছে যে তারা ইসরায়েলের অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে রকেট দিয়ে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন যে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ এবং বোমাবর্ষণ একটি “গণহত্যার” পরিমাণের অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। এরদোগান বলেছিলেন যে যুদ্ধের একটি “নৈতিকতা” থাকা প্রয়োজন কিন্তু সপ্তাহান্তের পর থেকে যুদ্ধের আঁচ “খুব মারাত্মকভাবে” সেই নৈতিকতাকে লঙ্ঘন করেছে।
এরদোগান গাজায় ইসরায়েলের জল ও বিদ্যুৎ কেটে দেওয়া এবং পরিকাঠামো ধ্বংস করা প্রসঙ্গে বলেন, “মানুষকে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে বাধা দেওয়া এবং সাধারণ লোকজনের বাসস্থানে বোমা হামলা করা লজ্জাজনক পদ্ধতি, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি সংঘাত পরিচালনা করা আর যাই হোক একটি যুদ্ধ নয়, এটি একটি গণহত্যা।”
এরদোগান গাজায় ইসরায়েলের “অসমানুপাতিক” আক্রমণকে “কোনও নৈতিক ভিত্তি বর্জিত” বলে সমালোচনা করেছেন এবং বিশ্বকে “অন্ধভাবে” এক পক্ষ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গাজা শহরের শিফা হাসপাতালের একজন প্রতিনিধি বলেছেন যে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অসামরিক নাগরিকদের সহায়তাকারী প্রথম প্রতিক্রিয়াকারীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং সহায়তার জন্য সারা বিশ্বের কাছে আমি আবেদন করছি । আমরা ভুগছি … এবং বিশ্ব এক আঙুল নড়ছে না। এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি জরুরি বার্তা , বিশ্বের মানুষদের অবশ্যই আমাদের সাহায্য করতে হবে। গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি শেষ হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের এই কথা বলেছেন।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের স্কুলগুলি দূরশিক্ষায় স্থানান্তরিত হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রক ঘোষণা করেছে। শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অনলাইন পদ্ধতিতে পড়াবার ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য এবং বর্তমান পরিস্থিতির জন্য উপযুক্ত শিক্ষামূলক বিষয়বস্তুর উপর নজর দেওয়ার পাশাপাশি প্রথমে এবং সর্বাগ্রে মানসিক এবং সামাজিক দিকগুলিতে নজর দিতে হবে।”
❤ Support Us







