- ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- জানুয়ারি ২০, ২০২৩
হলদিয়া সাহিত্য উৎসব।মিনার জাগাবে, মৃত্যুহীন প্রেমের চিহ্ন ছড়াবে মানবজমিনে
২১-২৩ জানুয়ারি, ২০২৩। নানা রঙের ফুল ফোটাবে হলদিয়ার ত্রয়োদশ বিশ্ব বাংলা সাহিত্য আর সংস্কৃতি উৎসব । নদীস্নাত শিল্প আর শিক্ষা নগরীর ‘হেলথ সায়েন্স’ প্রাঙ্গনে, মৃত্যুহীন প্রেম ও মাতৃত্ববোধের বিস্তীর্ণ সবুজে। প্রকারান্তরে নব নব বিকাশে জাগিয়ে তুলবে প্রয়াত কবি তমালিকা পণ্ডা শেঠের স্বপ্ন আর স্মৃতির মিনারকে। তমালিকার সাহিত্য চেতনা, বিশেষ করে কবিতাপ্রীতি মুগ্ধ করে আমাদের সহিতবোধকে। নির্দিষ্ট রাজনীতি করতেন তমালিকা। রাজনীতির বাইরে একান্তে কবিতা লিখতেন, বিরামহীন অধ্যবসায়ের সঙ্গে কবিতার শরীর আর আত্মার বিচিত্র সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার সংযোগ নির্মাণ করে। সাহিত্যের সাংগঠনিক উদ্যোগের বিস্তারে তাঁর ঐকান্তিকতা গণযোগের আশ্রয় হয়ে উঠেছিল। কবিতা আর সংস্কৃতির বিশ্বায়িত আবেদনকে পারিপার্শ্বিকের সাধনার সঙ্গে জড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। স্বপ্ন দেখতেন, মুখের ভাষার আরও কাছাকাছি হয়ে উঠুক কবিতা। দুরূহতা, আপাত রহস্যময়তা মুছে যাক। বাচনিক শব্দ, সহজিয়া বাক- প্রতিমা, নিত্যদিনের প্রতীকের ব্যবহারে গদ্য পদ্যের দূরত্ব নির্বাসিত হোক বৃহত্তর সাহিত্য, বিশেষ করে কবিতার চর্যা ও চর্চা থেকে। বৃহৎ আর বহুত্বকে একই মঞ্চে সমবেত করার বোধগম্য স্বপ্ন নিয়ে হলদি নদীর উপকণ্ঠে শুরু করেছিলেন বিশ্ব বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতি উৎসব। তাঁর অকাল মৃত্যুর এতদিন পরেও তাঁর দর্শিত, প্রদর্শিত স্বপ্ন প্রীতিময় আর মাতৃময় হয়ে আছে।
বিদূষী জীবনসঙ্গীর স্বপ্ন জড়িয়ে আছেন সক্রিয় রাজনীতিক আর শিক্ষা সংগঠক লক্ষণ শেঠ। বিদ্যা আর সংস্কৃতির সঙ্গে লক্ষণের ঋদ্ধ বসবাসের বারোমাস যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা এক কথায় প্রকাণ্ড। সক্রিয় রাজনীতির বাইরে তিনি আপাদমস্তক এক স্বশাসিত চক্রবর্তী। রাজনৈতিক সংকটে হতাশা মেখে নির্বাসন বেছে নিতে পারতেন, নেননি। নির্মাণের অঙ্গীকারকে আরও উঁচু করেছেন। ভেবেছেন, ‘আসমা সে আগে ভি অউর কুছ হ্যায়।’ এরকম ভাবনা থেকেই ইতিহাসের পড়ুয়া পিএইচডি, ডিলিট করেছেন। বিষয় প্রাচীন ভারতের ইতিহাস কখনো, কখনো বা গৌতম বুদ্ধ ও বৌদ্ধ দর্শন। এখানে লক্ষণও তমালিকার সমগোত্রীয় আর বিশ্বমানব হয়ে উঠবার সাধনায় নিয়োজিত। মানব সাধনার আবহমান ইচ্ছার পূর্ণতার দাবিকেই, আমাদের বিশ্বাস, আরও বেশি সংহত, উদ্দীপিত করবে হলদিয়া সাহিত্য উৎসব। জন্মলগ্ন থেকে আমন্ত্রিত হয়ে এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন বিশ্ব বাংলার লেখক, কবি, অভিনেতা, সঙ্গীতের নারী, পুরুষ আর চিত্র ও নৃত্য শিল্পীরা। সেই ট্র্যাডিশনের বিরতি নেই। এবারের আয়োজনে গাম্ভীর্য সম্ভবত একটু বেশি। পশ্চিম বাংলা, বাংলা দেশ, আসাম, ত্রিপুরার স্বাভাবিক অংশ গ্রহণ ছাড়াও, ভিন্ন ভিন্ন রাজ্য থেকে উৎসবের মঞ্চে, প্রাঙ্গনে, হলদিয়ার ধরাতলে প্রাণের প্রদীপ জ্বালাবেন তিন শতাধিক প্রেমিক, সাধক আর সৃষ্টিশীল। (কোন আলোকে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি সাধক ওগো, প্রেমিক ওগো, পাগল ওগো ধরায় আস)। ২১ জানুয়ারি উৎসবের সূচনা করবেন বাংলার অন্যতম গৌরব–চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ। প্রধান অতিথি, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব উপাচার্য, শিবাজী প্রতিম বসু। চিত্র শিল্পী শুভাপ্রসন্ন, সাহিত্যের দিকপাল শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক লক্ষণ শেঠ,আই কেয়ারের সম্পাদক আশীষ লাহিড়ীর উপস্থিতিতে বর্ণময়, উজ্জ্বল, উজ্জ্বলতর হয়ে উঠবে সূচনার মুহূর্ত। আর তখন, তখনই ছবি থেকে ছবির গভীর থেকে মিটমিট করে আলো ছড়িয়ে দেবেন কবিতার অপরাভূত তমালিকা পণ্ডা শেঠ।
আনন্দ ঘন উদ্বোধন আর তিন দিনের উচ্ছ্বাস মুখর এ উৎসবের দিকে তাকিয়ে আছে বাংলা। টানা তিন দিন উৎসবকে ঘিরে গাইবেন, নাচবেন, বহু শিল্পী। গল্প-কবিতা পড়বেন, বহু প্রান্ত থেকে আমন্ত্রিত হয়ে আসা লেখক আর কবিরা। উৎসবের বাড়তি আকর্ষণ আলোচনা সভা। ২১ জানুয়ারি, তমালিকা পণ্ডা শেঠ স্মারক বক্তৃতা দেবেন, অধ্যাপক চিন্ময় গুহ(ভূতপূর্ব উপাচার্য, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়) আলোচনার বিষয় যুদ্ধ ও সাহিত্য। পরের দিন ভারতের বর্তমান অভিমুখ নিয়ে বলবেন- অধ্যাপক মোস্তাক আহমেদ আর লেখক তিলোত্তমা মজুমদার। ২৩ জানুয়ারি ‘নেতাজির পথ ও পন্থা’ নিয়ে ব্যক্তিক ভাবনাচিন্তার দ্যুতি ছড়াবেন চিকিৎসক কুণাল সরকার। মুক্ত চিন্তার বিশিষ্ট পথিক।
প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, বাংলার প্রধান শহরের বাইরে, বেসরকারি উদ্যোগে ব্যষ্টি আর সমষ্টির সমবেত আয়োজনে, এত প্রতিষ্পর্ধী, স্বতঃস্ফূত ‘লিটারারি ফেস্ট’ অন্য কোথাও হয় কিনা জানিনা। হয়েও থাকে যদি, তাহলেও, হলদিয়া সাহিত্য উৎসবের বর্ণাঢ্য, সুপরিকল্পিত অভিমুখের আবেদন গম্ভীর, নিকটস্থ বঙ্গোপসাগরের লীলায়িত তরঙ্গের মতো নৃত্যশীল এবং শাশ্বত প্রবাহের ঊর্ধ্বারোহণের সঙ্গী।
❤ Support Us








