- প্রচ্ছদ রচনা স | হ | জ | পা | ঠ
- জুন ১২, ২০২৫
হিমালয়ে উচ্চ তাপমাত্রার পূর্বাভাস। আকস্মিক বন্যা, হিমবাহ গলে যাওয়ার আশঙ্কা
এই বর্ষা মরশুমে হিমালয় অঞ্চল জুড়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। ওই উষ্ণ তাপমাত্রার ফলে একদিকে যেমন হিমবাহ গলে যাওয়ার যেতে পারে, তেমনই গড় বৃষ্টিপাতের পরিমানও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ICIMOD)। হিমালয় অঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
ভারত, নেপাল, পাকিস্তান এবং চীনের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হিন্দুকুশ হিমালয়। চলতি বর্ষা মরশুমে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি বাড়তে পারে। একইসঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ICIMOD বিশ্বব্যাপী এবং জাতীয় আবহাওয়া সংস্থাগুলির তথ্য পর্যবেক্ষন করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, এর ফলে চাপ বৃদ্ধি, ডেঙ্গুর মতো জলবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব, বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ICIMOD ওয়েবসাইট অনুসারে, ভারতে হিন্দুকুশ অঞ্চলে ১১টি পার্বত্য রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত আসাম, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, মণিপুর, জম্মু ও কাশ্মীর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা। এই হিন্দুকুশ অঞ্চল এশিয়ার ১০টি প্রধান নদীরও উৎস। এগুলি হল, আমু দরিয়া, সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র (ইয়ার্লুংটসানপো), ইরাবতী, সালউইন (নু), মেকং (ল্যাঙ্কাং), ইয়াংটসে (জিনশা), হলুদ নদী (হুয়াংহে) এবং তারিম (দায়ান)। প্রায় ২৪০ মিলিয়ন মানুষের জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি, এই নদীর অববাহিকাগুলি ১.৯ বিলিয়ন মানুষকে জল সরবরাহ করে, যা বিশ্বের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ।

ICIMOD এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুসারে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের সৃষ্টি করতে পারে।’ এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা হিমবাহ এবং বরফ গলে যাওয়ার গতি বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে নদীর প্রবাহ স্বল্পমেয়াদী বৃদ্ধি পায় এবং হিমবাহের হ্রদ বিস্ফোরণ বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। উষ্ণ তাপমাত্রা বরফ জমাও কমিয়ে দেবে, যা ভাটির দিকে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের দীর্ঘমেয়াদী জল সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলবে।’
এই অঞ্চলটি বর্ষার সময় খুবই সংবেদনশীল, বিশেষ করে ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ এশিয়ার সাথে সংযুক্ত ব্যবস্থাগুলির প্রতি। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বৃষ্টিপাত এই অঞ্চলের জলের প্রধান উৎস। এই বৃষ্টিপাত প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষের জীবন ধারণকারী নদী ব্যবস্থার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। যদিও বর্ষাকাল এই নদীগুলির জল ভরাটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ফলে বন্যা, ভূমিধস, ঝড়, তাপপ্রবাহ, দাবানল, খরা এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো জলসম্পর্কিত দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।
❤ Support Us








