- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুলাই ২, ২০২৫
রুশ সঙ্গ ত্যাগ না করলে ৫০০% শুল্ক আরোপের হুমকি, প্রস্তাবিত মার্কিন বিল নিয়ে কী অবস্থান নয়াদিল্লির ?
ভারত ও চীনের সঙ্গে রাশিয়ার বানিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রয়াস ? না রাশিয়াকে কোনঠাসা করার ? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত একটা মার্কিন বিলে রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী দেশগুলির ওপর বিশাল শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে মস্কোর বানিজ্যিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা এবং ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনার টেবিলে আনা।
মার্কিন সেনেটে একটা বিল প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সেই বিলে বলা হয়েছে, ভারত ও চীনসহ যেসব দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখবে তাদের ওপর ৫০০% শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বিলে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। রিপাবলিকান সেনেটর রিচার্ড গ্রাহাম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ ভারত ও চীন যদি রাশিয়া থেকে পণ্য ক্রয় করে, এবং ইউক্রেনকে যদি সাহায্য না করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা ওই দেশগুলির পণ্যের ওপর ৫০০% শুল্ক আরোপ করা হবে। ভারত এবং চীন পুতিনের ৭০% তেল কেনে। এই বানিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে সচল রেখেছে।’
গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থালের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় প্রস্তাবিত বিলটিতে ৮৪ জন সহ–পৃষ্ঠপোষক রয়েছে। এই বিলের লক্ষ্য হল রাশিয়ার তেল ক্রয় বন্ধ করার জন্য দেশগুলিকে চাপ দেওয়া, মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতি দুর্বল করা এবং ইউক্রেনে শান্তি আলোচনার দিকে ঠেলে দেওয়া। প্রস্তাবিত এই বিলটি আগস্ট মাসে পেশ করা হবে। রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বিলটি আইনে পরিণত হলে, চীন এবং ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ককে বদলে দিতে পারে। যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের প্রধান রপ্তানি বাজার, তাই এই নীতি উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং কূটনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি করতে পারে।
এছাড়া রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম ক্রেতা ভারত এবং চিনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এই পদক্ষেপ ভারতের ওষুধ, টেক্সটাইল এবং আইটি পরিষেবার মতো রপ্তানির ওপর শুল্ক আরোপের ঝুঁকিও তৈরি করবে। রাশিয়ার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ভারত। ইউক্রেন আক্রমণের তৃতীয় বছরে ৪৯ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। আগে ভারত মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সংগ্রহ করত। কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পরপরই রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল আমদানি শুরু করে।
ভারত–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিরও প্রত্যাশিত অগ্রগতি ঘটেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট মঙ্গলবার বলেছেন যে, ‘বাণিজ্য চুক্তিটি খুব কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছে।’ যদিও গুরুত্বপূর্ণ কৃষি দাবি নিয়ে বাণিজ্য আলোচনা অচলাবস্থার পরে একটা ভারতীয় প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্তাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
❤ Support Us







