Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • মার্চ ৯, ২০২৬

আমেদাবাদে নতুন ‘সূর্যদয়’! ক্রিকেটে বিশ্বজয় টিম ইন্ডিয়ার, ম্যান অফ দ্য সিরিজ সঞ্জু স্যামসন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আমেদাবাদে নতুন ‘সূর্যদয়’! ক্রিকেটে বিশ্বজয় টিম ইন্ডিয়ার, ম্যান অফ দ্য সিরিজ সঞ্জু স্যামসন

২০১১ সালে একদিনের বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে ট্রফির খরা চলছিল। ২০২৩ সালে ফাইনালে উঠেও শেষরক্ষা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার কাছে একদিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে হারতে হয়েছিল ভারতকে। পরের বছরই অবশ্য খরা কাটিয়েছিল রোহিত শর্মার ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি২০ বিশ্বকাপ জয়। তারপর থেকেই ভারতের গ্রাফটা বদলে গেছে। পরপর তিনটি আইসিসি ট্রফি জয়। ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এবার আমেদাবাদে টি২০ বিশ্বকাপ জয়।

২০২৩ একদিনের বিশ্বকাপে গোটা প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত খেলেও ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল ভারতকে। আর এবার টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে একই পরিণতি অস্ট্রেলিয়ার পড়শি দেশ নিউজিল্যান্ডের। সেদিন ট্রাভিস হেড নামে এক ক্রিকেটারের তাণ্ডবে উড়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা। আর এদিন, সঞ্জু স্যামসনের সামনে বিধ্বস্ত মিচেল স্যান্টনাররা। বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে যে তাণ্ডবলীলা চালালেন সঞ্জু, ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে লোকগাথা হয়ে থাকবে।

অথচ এই সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে কতই না সমালোচনা, তাঁকে বিশ্বকাপ দলে রাখা নিয়ে কতই না বিতর্ক। সেই সঞ্জুই বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কাণ্ডারী। যদি শেষ তিন ম্যাচে এইরকম বিধ্বংসী না হয়ে উঠতেন, ভারতের ঘরে বিশ্বকাপ আসত কিনা সন্দেহ। আর বলতে হবে যশপ্রীত বুমরার কথাও। সেমিফাইনালের ডেথ ওভারে স্যাম কারেনকে দাঁড় করিয়ে না রাখলে, মুম্বই থেকে আমেদাবাদ পর্যন্ত পৌঁছন সম্ভব হত না ভারতের।

রবিবার ফাইনালে শুরু থেকেই তাণ্ডব শুরু করেছিলেন সঞ্জু ও অভিষেক। ওপেনিং জুটিতেই ৭ ওভারে ৯৮। রাচিন রবীন্দ্রর বলে উইকেটের পেছনে অভিষেক শর্মা যখন ক্যাচ দেন, তাঁর নামের পাশে ৫২ (‌২১ বলে)। ১৬ তম ওভারের প্রথম বলে সঞ্জু যখন আউট হন, ২০০ রান ছাড়িয়ে গেছে ভারতের। জিমি নিশাম ওই ওভারে সঞ্জু, ঈশান (‌২৫ বলে ৫৪)‌, সূর্যকুমারকে (‌০)‌ তুলে না নিলে টি২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়তো এদিনই ভেঙে যেত। শিবম দুবে শেষ ওভারে ২৪ রান তুলে ভারতকে পৌঁছে দেন ২৫৫/‌৫ রানে।

ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। এদিন ৩ ওভারের মধ্যেই অ্যালেন (‌৭ বলে ৯)‌, রাচিন রবীন্দ্র (‌১)‌ ও গ্লেন ফিলিপসকে (‌৫)‌ তুলে নিয়ে ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন অক্ষর প্যাটেল ও যশপ্রীত বুমরা। চাপের মুখে টিম সেইফার্ট আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু হিমালয় সমান রানের সামনে তাঁর প্রয়াস ছিল খুবই নগন্য। চ্যাপমানকে (‌৩)‌ হার্দিক তুলে নেওয়ার পরের ওভারেই সেইফার্টকে (‌২৬ বলে ৫২)‌ ফেরান বরুণ চক্রবর্তী। শেষদিকে মিচেল স্যান্টনারের (‌৩৫ বলে ৪৩)‌ লড়াইয়ে ১৯ ওভারে ১৫৯ রানে পৌঁছয় নিউজিল্যান্ড। যথারীতি ডেথ ওভারে আবার বিধ্বংসী বুমরা। ১৫ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে ফাইনালের সেরা। আর সিরিজের সেরা?‌ সঞ্জু স্যামসন ছাড়া আর কারও কথা যে ভাবারই অবকাশ ছিল না জুরিদের।‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!