Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
  • এপ্রিল ১৫, ২০২৪

প্রত্যাশামতোই ‌ইজরায়েলের ওপর হামলা ইরানের, ধ্বংস নেভাটিম বিমানঘাঁটি, তীব্র প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রত্যাশামতোই ‌ইজরায়েলের ওপর হামলা ইরানের, ধ্বংস নেভাটিম বিমানঘাঁটি, তীব্র প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে

গত শুক্রবারই ইরান হঁুশিয়ারি দিয়েছিলেন ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ইজরায়েলের ওপর হামলা করা হবে। কথামতোই শনিবার রাত থেকে ইজরায়েলের ওপর লাগাতার ক্ষেপানাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় ইজরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের একটা বিমানঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে হতাহতের কোনও খবর নেই। ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে ইরানের দূতাবাসে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার রাত থেকে ‘‌ট্রু প্রোমিজ’‌ নামে অভিযানের মাধ্যমে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড ইজরায়েলের ওপর ১১০টি ব্যালেস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র, ১৭০টি ড্রোন ও ৩০ টি ক্রূজ ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী অধিকাংশ ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন আকাশপথেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়েছে। কয়েকটা ক্ষেপনাস্ত্র অবশ্য লক্ষবস্তুতে আঘাত হানে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ৯৯ শতাংশ ক্ষেপনাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে দুই দেশের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ চললেও এই প্রথমবার ইরান নিজেদের দেশ থেকে সরাসরি ইজরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইজরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের নেভাটিম বিমানঘাঁটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যে বিমানঘাঁটি থেকে সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে ইরানের দূতাবাসে হামলা চালানো হয়েছিল। ইজরায়েলের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, ইরানের হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইজরায়েলের ওপর ইরানের হামলার নিন্দা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অনলাইনে জি ৭ গোষ্ঠীভূক্ত দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন চায় না মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরও বাড়ুক। তবে হামলার সমালোচনা করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের পাল্টা আক্রমণে যোগ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।

ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মাইকেল বলেছেন, জি ৭ দেশের রাষ্ট্রনেতারা সর্বসম্মতিক্রমে ইরানের হামলার নিন্দা করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন তীব্রভাবে ইজরায়েলে হামলার সমালোচনা করেছেন। ইজরায়েলি বাহিনী আবারও মধ্য গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে বোমাবর্ষণ করেছে। এতে পাঁচজন নিহত এবং ডজন ডজন আহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকের ডাক দিয়েছে।

অন্যদিকে, ইজরায়েলে হামলার জন্য ইরানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা বলেছে, দামাস্কাসে ইরানের দূতাবাসে হামলার এটা যথাযথ জবাব। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামির দাবি, ইজরায়েলে হামলা চালিয়ে ইরান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌ইজরায়েলের দখল করা ভূখণ্ডে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটা অংশ সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।’‌ ইরান হামলার গতি আরও বাড়াবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!