Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জুলাই ২, ২০২৫

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে কোনো সহযোগিতা নয়, নয়া আইনে স্বাক্ষর ইরানের প্রেসিডেন্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে কোনো সহযোগিতা নয়, নয়া আইনে স্বাক্ষর ইরানের প্রেসিডেন্টের

যুদ্ধপরবর্তী সময়ে ইরান ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আইএইএ-এর সঙ্গে সমস্ত ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করার আইনে স্বাক্ষর করেছেন। ইরানের সংসদে গত ২৫ জুন পাস হওয়া এই আইনটি এখন কার্যকর হতে চলেছে, একটি দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, প্রশ্ন উঠছে—এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য কী ধরনের প্রভাব ফেলবে? ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার রিপোর্টে জানা গেছে, এই আইনটি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আইএইএ-র বিরুদ্ধে এক কঠোর অবস্থান নেওয়া হলো।

ইরান সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আক্রমণ। গত ২২ জুন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে ছিল নাটাঞ্জ, ফোর্ডো ও ইসফাহান—যেগুলো ইরানের পারমাণবিক গবেষণার প্রাণকেন্দ্র। ইরানি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে, এই হামলাগুলোর পেছনে আইএইএ-র সমর্থন রয়েছে, তারা পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাবের অধীনে কাজ করছে। ইরানের সংসদ সদস্যরা বলছেন, আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রসি ওই হামলার বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ বা নিন্দা করেননি। উল্টে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে আইএইএ কার্যত ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করেছে।

আইএইএ-র সাথে সহযোগিতা স্থগিত করার আইনি পদক্ষেপটি আসলে ইরানের আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। নতুন আইনের অধীনে, আইএইএ-র পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে প্রবেশের জন্য ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। ইরান সরকার এই পদক্ষেপটি নিয়েছে, যাতে তাদের পারমাণবিক সুবিধাগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং যে কোনো বিদেশি তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়। তবে, এটি শুধু ইরানের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বব্যাপী একটি সংকেত। এমনকি এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

আইএইএ’র ওপর ইরানের অভিযোগ যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তবে তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং একটি বৃহত্তর মানবাধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংকটের প্রকাশ। বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আইএইএ যে ভূমিকা পালন করে আসছে, তার প্রতি ইরানের ক্ষোভ তার নীতির প্রতি একটি গভীর প্রশ্ন তুলছে। বিশেষত, আইএইএ বোর্ডের ১২ জুনের একটি প্রস্তাবনাকে কেন্দ্র করে ইরান সরকারের বিরোধিতা চরমে উঠেছে। ওই প্রস্তাবে ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির প্রতি অবমাননা করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। সে সময়ে, গ্রসি-র কাছে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আইএইএ-র পরিদর্শকদের ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শন করার অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ আসলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। গ্রসি নিজেও ইরানের ফোর্ডো পরমাণু স্থাপনাটি পরিদর্শন করতে চেয়েছিলেন, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সেটিও বাতিল করা হয়।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২২ জুন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে ব্যাপক হামলা চালায়। বিশেষ করে, নাটাঞ্জ, ফোর্ডো এবং ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়, যফলে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান দাবি করেছে যে, এই হামলাগুলি আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির প্রতি অজ্ঞতার উদাহরণ, এক্ষেত্রে আইএইএ-র ভূমিকা বড়োই একপেশে । ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ ব্যাপারে বলেন, ‘গ্রসি-র প্রতি ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। তার পরিদর্শনের আহ্বান আমাদের জন্য কোনো অর্থ বহন করে না। তাকে আমাদের পরমাণু স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না যতক্ষণ না দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইরান তার স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য, এবং এর জন্য ইরান সরকার আইনগত ও কূটনৈতিকভাবে প্রস্তুত।’ ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফও গ্রসি-র কার্যকলাপকে ‘বিধ্বংসী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, আইএইএ-র এই ধরনের আচরণ ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করবার চেষ্টা। কিন্তু ইরান কোনো অবস্থাতেই তাদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করবে না।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!