- বি। দে । শ স | হ | জ | পা | ঠ
- জানুয়ারি ৭, ২০২৬
৭ লক্ষ বছর পর জেগে উঠেছে ইরানের তাফতান? মহাকাশ থেকে দেখা মিলছে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বের তাফতান আগ্নেয়গিরি ঘিরে বাড়ছে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ। মানব ইতিহাসে কখনো অগ্ন্যুৎপাত না ঘটানো, প্রায় ৭ লক্ষ বছর ধরে নিস্তব্ধ থাকা আগ্নেয়গিরি যে আবার সক্রিয় হতে পারে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। মাত্র ১০ মাসে তাফতান আগ্নেয়গিরির ভূমি প্রায় সাড়ে ৩ ইঞ্চি উঁচু হয়ে যাওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে মহাকাশ থেকে। গবেষকদের দাবি, এই অস্বাভাবিক উত্থান কোনো প্রাকৃতিক বাহ্যিক কারণের ফল নয়। বরং আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভূগর্ভস্থ শক্তি। ফলে তাফতানকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছেন বিজ্ঞানীরা।
পর্যবেক্ষণে রাখার সমস্যাও রয়েছে। তাফতান আগ্নেয়গিরি অত্যন্ত দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে নেই কোনো স্থলভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। তাই বিজ্ঞানীদের ভরসা মহাকাশ প্রযুক্তি। ‘ইনসার’ নামের বিশেষ এক রাডার পদ্ধতির মাধ্যমে উপগ্রহ থেকে ভূমির সূক্ষ্ম নড়াচড়া মাপা হয়েছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, টানা ১০ মাস ধরে তাফতানের চূড়ার ঠিক কেন্দ্রে ভূমি উঁচু হওয়ার প্রবণতা বজায় ছিল। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ উত্থান এখনো চলছে। অর্থাৎ ভূগর্ভে জমে থাকা চাপ এখনো মুক্ত হয়নি। গবেষণায় জানা গিয়েছে, চাপের উৎস ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১,৬০০ থেকে ২,০৭০ ফুট নিচে। এত অল্প গভীরতায় চাপ জমা হওয়া ইঙ্গিত দেয়, তাফতানের নীচে একটি সক্রিয় হাইড্রোথার্মাল ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে গরম জল ও আগ্নেয় গ্যাসের চলাচল হচ্ছে।
গবেষণার প্রধান লেখক, স্পেনের ‘ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল প্রোডাক্টস অ্যান্ড অ্যাগ্রোবায়োলজি’-এর বিজ্ঞানী পাবলো জে. গনসালেসের মতে, ‘এ ধরনের অগভীর চাপ অঞ্চল সাধারণত অদূর ভবিষ্যতে আগ্নেয়গিরির আচরণে বড়ো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।’ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ। প্রশ্ন উঠেছে, এই ভূমি উঁচু হওয়ার পিছনে ভারী বৃষ্টিপাত বা সাম্প্রতিক ভূমিকম্প দায়ী নয় তো! সে সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছেন গবেষকেরা। কিন্তু সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর স্পষ্ট হয়েছে, বৃষ্টি বা ভূমিকম্পের সঙ্গে এ ঘটনার কোনও যোগ নেই। পুরো বিষয়টিই আগ্নেয়গিরির অভ্যন্তরীণ গতিবিধির ফল।
বিজ্ঞানীদের মতে, আগ্নেয় উত্থানের পিছনে দুটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। একদিকে, শক্ত শিলা ও ফাটলের মধ্যে আগ্নেয় গ্যাস জমে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, ম্যাগমার ভাণ্ডার থেকে অল্প পরিমাণ গলিত পদার্থ উপরের দিকে উঠে এসে গভীর স্তরের পাইপলাইনে থাকা উদ্বায়ী গ্যাস ছেড়ে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, প্রায় ১২,৯০০ ফুট উচ্চতার তাফতান আগ্নেয়গিরি লাভা ও ছাইয়ের স্তর দিয়ে গঠিত একটি স্তরীভূত আগ্নেয়গিরি। গত ১০ হাজার বছরে এর অগ্ন্যুৎপাত সংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য নথি নেই। তবে ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় জানা যায়, প্রায় ৭ লক্ষ ১০ হাজার বছর আগে শেষবার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল তাফতানে। ইতিহাসে অন্তত পাঁচটি পৃথক সক্রিয় পর্যায়ের সাক্ষী থেকেছে এই আগ্নেয়গিরি। বহু শতাব্দীর নীরবতার পর তাফতানের নড়াচড়া যে ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা, তা মানছেন বিজ্ঞানীরা। দুর্গমতার কারণে সরাসরি নজরদারি সম্ভব না হলেও, মহাকাশ থেকেই চোখ রাখার প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।
❤ Support Us







