- প্রচ্ছদ রচনা স | হ | জ | পা | ঠ
- ডিসেম্বর ২৬, ২০২৪
স্বদেশী প্রযুক্তিতে মহাকাশ ডকিং, বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের পথে ভারত
বছর শেষে নতুন মিশনে নামছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। মহাকাশের নিকটবর্তী শূন্যস্থানে দুটি উপগ্রহকে সংযুক্ত করার চেষ্টা করছে, যে দুটি একসঙ্গে বুলেটের গতির দশগুণ বেগে ভ্রমণ করবে। ৩০ ডিসেম্বর ‘SpaDeX’ বা স্পেস ডকিং পরীক্ষা–নিরীক্ষার মাধ্যমে এই নতুন মিশন অনুষ্ঠিত হবে। এই মিশনের মাধ্যমে, ভারত মহাকাশ ডকিং প্রযুক্তিতে বিশ্বের চতুর্থ দেশ হওয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ইসরোর এই মিশনটিকে ‘স্পেস ডকিং’ বলা হয় এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে বেঙ্গালুরুতে এই মিশনটি তৈরি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিন এই জটিল প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছে। তবে অন্য কোনও দেশের সঙ্গে এই প্রক্রিয়া শেয়ার করেনি। দীর্ঘদিনের প্রয়াসের পর অবশেষে ভারত এই প্রযুক্তি আয়ত্ব করতে সক্ষম হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর এই মিশনের অগ্নিপরীক্ষা।
দুটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা উপগ্রহ বহন করে নিয়ে যাবে পিএসএলভি রকেট। প্রতিটি উপগ্রহর ওজন প্রায় ২২০ কেজি করে। উপগ্রহ দুটি মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার পর পৃথিবী থেকে ৪৭০ কিমি ওপরে স্থাপনের চেষ্টা করবে। মহাকাশ সংস্থা ‘ভারতীয় ডকিং সিস্টেম’ নামে বিশেষভাবে ডিজাইন করা স্পেস ডকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, যা নাসার তৈরি ইন্টারন্যাশনাল ডকিং সিস্টেমের সমতুল্য।
ইসরো চেয়ারম্যান ডঃ এস সোমানাথ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব ডকিং প্রক্রিয়া তৈরি করতে হয়েছে কারণ এই বিশাল জটিল প্রক্রিয়াটির সূক্ষ্ম বিবরণ কোন দেশ শেয়ার করে না।’ মজার ব্যাপার হল, ইসরো ইতিমধ্যেই ভারতীয় ডকিং মেকানিজমের পেটেন্ট নিয়েছে।
দুটি উপগ্রহ প্রতি ঘন্টায় ২৮ হাজার ৮০০ কিমি বেগে, যা একটা বাণিজ্যিক বিমানের গতির প্রায় ৩৬ গুণ বা একটা বুলেটের গতির ১০ গুন বেশি গতিতে পৃথিবী কক্ষপথে ভ্রমণ করবে। বিশেষভাবে ডিজাইন করা রকেট এবং সেন্সরগুলির একটি স্যুট ব্যবহার করে স্যাটেলাইটের আপেক্ষিক বেগ প্রতি ঘন্টায় প্রায় শূন্য বা মাত্র ০.০৩৬ কিমি বা প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিলিমিটারে কমিয়ে আনা হবে এবং তারপরে তারা একসাথে মিলিত হবে। দুটি স্বাধীন মহাকাশযান, ‘চেজার’ এবং ‘টার্গেট’ মহাকাশে এক সত্তায় পরিণত হবে।
ইসরো চেয়ারম্যান ডঃ এস সোমনাথ আরও বলেন, ‘এটি সহজ শোনালেও বাস্তবিকভাবে খুবই কঠিন চ্যালেঞ্জ। কারণ এর সঙ্গে জড়িত পদার্থবিদ্যার জটিল তত্ত্ব। উভয় উপগ্রহকে কক্ষপথে থাকতে হবে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে একে অপরের সাথে বিধ্বস্ত হবে না। ভারতকে যদি চন্দ্রযান ৪ মহাকাশে প্রেরণ করতে হয়, তাহলে একটা মহাকাশ স্টেশন তৈরি করতে হবে। তারপরে একজন ভারতীয়কে চাঁদে পাঠাতে হলে ডকিংয়ে দক্ষতা অর্জন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। SpaDeX হল একটি মিশন যার অনেকগুলি উদ্দেশ্য।’
❤ Support Us







