Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
  • ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫

ফরিদপুরে জেমসের কনসার্টে হামলা, ‘তৌহিদি জনতা’র তাণ্ডব। আহত অন্তত ২০ জন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফরিদপুরে  জেমসের কনসার্টে হামলা, ‘তৌহিদি জনতা’র তাণ্ডব। আহত অন্তত ২০ জন

শুক্রবার গভীর রাতে আবার অশান্ত হয়ে উঠল বাংলাদেশ। এবার হামলা জনপ্রিয় গায়ক জেমসের কনসার্টে । কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ‘তৌহিদি জনতা’র তাণ্ডবের জেরে ফরিদপুরে বন্ধ হয়ে যায় অনুষ্ঠান। ইট ছোড়াছুড়িতে আহত হন অন্তত ১৫–২০ জন পড়ুয়া।

শুক্রবার ঢাকার প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে ফরিদপুর জেলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রকস্টার জেমস ও তাঁর ব্যান্ডের পারফর্ম করার কথা ছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ নাগাদ জেমস মঞ্চে ওঠার সময় একদল যুবক জোর করে অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকার চেষ্টা করে। নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দিলে তারা ইট ছোড়া শুরু করে এবং মঞ্চ দখলের চেষ্টাও চালায়।

এই হামলায় স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত বেশ কয়েকজন পড়ুয়া আহত হন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন। রাত ১০টার দিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ড. মোস্তাফিজুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কনসার্ট বাতিলের ঘোষণা দেন। বিশৃঙ্খলার মধ্যে জেমস অল্পের জন্য বেঁচে যান এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ছাত্ররা আহত হলেও জেমস ও তাঁর ব্যান্ড সদস্যদের কোনও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের বিরোধিতা করেছিল এবং এই ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আক্রমণকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করেনি। তবুও এই ঘটনাটি দেশের কিছু অংশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। কনসার্ট বাতিল হওয়ার পর পুলিশ এলাকায় কড়া নজরদারি চালায়। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।
কনসার্টটি ছিল ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি উদযাপনের দুই দিনের অনুষ্ঠানের সমাপনী অনুষ্ঠান। স্কুলটি এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন সরকারি প্রতিষ্ঠান, যা ১৮৪০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার জাতীয় ও স্মারক পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এবং শহরের মধ্য দিয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উদযাপন শুরু হয়েছিল। শুক্রবার রাতের কর্মসূচিতে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ঘটনাটি ঘিরে বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক পরিসরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লেখিকা তসলিমা নাসরিন সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে লেখেন, এর আগেও ছায়ানট ও উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপর হামলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল সংস্কৃতিচর্চার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণেরই অংশ হিসেবে এবার জেমসের মতো জনপ্রিয় শিল্পীকেও মঞ্চে পারফর্ম করতে দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার পর দেশে শিল্পী ও সংস্কৃতিমহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!