- দে । শ
- নভেম্বর ৭, ২০২৬
রণক্ষেত্র কালীঘাট ! অভিষেকের বাড়ির সামনে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে আহত একাধিক
রাতভর উত্তপ্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা। ছেঁড়া হল জন্মদিনের ব্যানার, কাটআউট, চলল ইটবৃষ্টি ও হাতাহাতি। বিজেপির বিরুদ্ধে হামলা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ অভিষেকের, পালটা তৃণমূলকে আক্রমণ বিজেপির। পুলিশের হস্তক্ষেপে শনিবার সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
জন্মদিনের আনন্দ মুহূর্তে পরিণত হল রাজনৈতিক সংঘর্ষে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল। ‘চোর, চোর’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় বচসা। ক্রমে তা সংঘর্ষের চেহারা নেয়। চলে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি ও ইট ছোড়াছুড়ি। ছিঁড়ে ফেলা হয় অভিষেকের জন্মদিন উপলক্ষে লাগানো ব্যানার, ছবি ও কাটআউট। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
৭ নভেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে শুক্রবার রাত থেকেই কালীঘাটের বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তাঁর অনুগামী ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। অভিযোগ, রাত প্রায় দু’টো নাগাদ সেখানে কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক উপস্থিত হয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাশাপাশি জন্মদিন উপলক্ষে লাগানো ব্যানার, ছবি ও কাটআউট ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে। যদিও বিজেপি কর্মীদের দাবি, তাঁরা কালীঠাকুর আনতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
ব্যানার ও কাটআউট ছেঁড়ার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি, ইট ছোড়াছুড়ি এবং মুখোমুখি সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতেও বচসা চলতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ বাহিনী বাড়ানো হয়। দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচালনাও করতে হয় বলে জানা গিয়েছে।
এরই মধ্যে বাড়ির ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে দেখতে পেয়েই ফের শুরু হয় স্লোগান-পালটা স্লোগান। উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকায় পুলিশকর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। অভিষেক আহত অনুগামীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে বসে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ তাঁকে বাড়ির ভিতরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও প্রথমে রাজি হননি তিনি। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও তাঁর তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ পুলিশের হস্তক্ষেপে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন অভিষেক।
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর বাড়ির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই আশঙ্কার কথা তিনি আগেই জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, রাত দু’টোর সময় বিজেপির দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিষেক বলেন, তাঁর এক সহকর্মীর হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চার-পাঁচজন অনুগামীও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিষেকের আরও অভিযোগ, হামলাকারীদের হাতে পেরেক বসানো লাঠি ছিল। তাঁদের কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পুলিশের সামনেই তাঁর অনুগামীদের মারধর করা হয়েছে এবং হামলাকারীরা পুলিশকর্মীদেরও চড় মেরেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁর উপর বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। এর থেকেই সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অভিষেক আরও জানান, হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে দু’দিন আগেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। ওই পোস্টে লোকসভার স্পিকারকেও ট্যাগ করেছিলেন বলে দাবি তাঁর। তা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁর বাড়ির সামনে এমন ঘটনা ঘটল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে কালীঘাটে পৌঁছন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। তিনি এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘‘এভাবে চলতে পারে না। আইন রয়েছে। সর্বোপরি মানুষ বিচার করবে।’’
অন্যদিকে, অভিষেকের অভিযোগের পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘এত বড় নেতা ফুটপাতে কেন জন্মদিন পালন করছেন, জানি না কী হয়েছে। মানুষের সহানুভূতি কুড়োনোর পুরনো পন্থা এটা।’’
বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহাও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যাঁরা ঠক, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাঁদের মানুষ ছাড়বে কেন? যাঁরা ওদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁরা ছাড়বে কেন? চোর ও সাধারণ মানুষকে এক করলে হবে না।’’
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কালীঘাটের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন এলাকা। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় দু’পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচালনা ও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। একদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক, অন্যদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পালটা আক্রমণের অভিযোগ এনেছে বিজেপি। জন্মদিনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় রাতভর উত্তেজনার পর শনিবার সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
❤ Support Us







