- দে । শ
- নভেম্বর ২৮, ২০২৫
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ ! কংগ্রেস–আইএসএফ বাদ, লিবারেশন এসইউসিআইকে সঙ্গে নিয়ে ‘বৃহত্তর জোট’-এ বামফ্রন্ট
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে পুরনো সমীকরণ ছেড়ে নতুন পথেই হাঁটতে চাইছে বামফ্রন্ট। দীর্ঘদিনের শরিক কংগ্রেস ও সাম্প্রতিক সঙ্গী আইএসএফ— দুপক্ষেরই নাম বৃহস্পতিবারের বৈঠকে একবারও উচ্চারিত হয়নি। পরিবর্তে সিপিআইএমএল লিবারেশন ও এসইউসিআইয়ের মতো বাম মনোভাবাপন্ন দলগুলিকে সঙ্গে নিয়েই বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ার সিদ্ধান্তে একাধিক শরিকের সায় মিলেছে। আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, ‘এই মুহূর্তে কংগ্রেস–আইএসএফ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বরং নির্বাচনে শক্তি বাড়াতে ফ্রন্টের বাইরেও বাম ঘরানার দলগুলিকে এক ছাতার নীচে আনার কথাই মূলত আলোচনায় উঠে এসেছে।’
২০১৬ ও ২০২১—দুই নির্বাচনে কংগ্রেসকে পাশে নিয়েও লাভের মুখ দেখেনি বামফ্রন্ট। একুশে আইএসএফ যুক্ত হওয়ার পরও শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছিল বামেদের। সেই ব্যর্থতার পর কোন পথে হাঁটবে ফ্রন্ট, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সেই প্রশ্নের আংশিক উত্তর মিলল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিনের বৈঠকে, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি-র নেতাদের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট, পুরনো আসনই চাই, কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন নেই। বৈঠকের শেষে এক শরিকদলের নেতা বলেন, ‘এখন লক্ষ্য একটাই—ফ্রন্টের মাটি থেকে সংগঠিত করা। লিবারেশন আর এসইউসিআইয়ের মতো শক্তিগুলিকে পাশে রাখলে লড়াই আরও জোরালো হবে।’ কয়েক দিন আগে সিপিআইএমএল লিবারেশনের রাজ্য সম্মেলনেও মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য ঘিরে সিপিএম–লিবারেশনের দূরত্ব কমার ইঙ্গিত মিলেছিল। সেলিম বলেছিলেন, ‘মতভেদ থাকেই, তাই আমরা আলাদা দল। কিন্তু লক্ষ্য যদি একই হয়, তবে ঐক্য অনিবার্য।’ সেই মন্তব্যকেই কার্যত বৃহত্তর বাম ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ইশারা বলেই ব্যাখ্যা করছেন বাম মহলের একাংশ।
এদিকে লিবারেশন ইতিমধ্যেই ঐক্য প্রক্রিয়ায় আগ্রহ দেখালেও এসইউসিআইয়ের তরফে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বামফ্রন্ট সূত্রের দাবি, ‘সকলের সঙ্গে আলোচনা চলবে। বৃহত্তর বাম ঐক্যের পথ খোলা।’ এ দিনের বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে নামবে বামপন্থীরা। অন্যদিকে, ২৯ নভেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে শুরু হতে চলেছে সিপিএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিনে সাংবাদিক বৈঠকে সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, ‘রুটি-রুজি থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য— মানুষের প্রতিদিনের দাবিদাওয়া নিয়েই এই যাত্রা রাজ্য ঘুরবে। প্রান্তিক মানুষের কথাকে সামনে আনাই আমাদের লক্ষ্য।’ ১৭ ডিসেম্বর কামারহাটিতে যাত্রার পরিসমাপ্তি হবে। বিভিন্ন জেলায় পদযাত্রা, মিছিল, বাইক র্যালি— সব মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছনোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
❤ Support Us







